সিরাতুল মুস্তাকিম অ্যাপ ডাউনলোড করুনGoogle Play
الٓرۚ تِلۡكَ ءَايَٰتُ ٱلۡكِتَٰبِ ٱلۡمُبِينِ
অর্থ: আলিফ-লাম-রা। এগুলো সুস্পষ্ট কিতাবের আয়াত।
তাফসীর: ১. আলিফ, লাম, রা। এগুলো ও এ জাতীয় বর্ণমালার মর্ম সম্পর্কে সূরা বাকারার শুরুতে আলোচনা হয়েছে। এ সূরাটিতে অবতরণকৃত আয়াতসমূহ এমন কুরআনের অন্তর্ভুক্ত যা নিজের বক্তব্য সুস্পষ্টভাবে বর্ণনা করে।
إِنَّآ أَنزَلۡنَٰهُ قُرۡءَٰنًا عَرَبِيّٗا لَّعَلَّكُمۡ تَعۡقِلُونَ
অর্থ: (হে আরব জাতি!) নিশ্চয় আমি কুরআনকে আরবী ভাষায় অবতীর্ণ করেছি, যাতে তোমরা (সহজেই) বুঝতে পারো।
তাফসীর: ২. ওহে আরবজাতি! আমি কুরআনকে আরবী ভাষায় অবতীর্ণ করেছি। যাতে তোমরা এর মর্মসমূহ বুঝতে পার।
نَحۡنُ نَقُصُّ عَلَيۡكَ أَحۡسَنَ ٱلۡقَصَصِ بِمَآ أَوۡحَيۡنَآ إِلَيۡكَ هَٰذَا ٱلۡقُرۡءَانَ وَإِن كُنتَ مِن قَبۡلِهِۦ لَمِنَ ٱلۡغَٰفِلِينَ
অর্থ: (হে রাসূল!) আমি তোমার কাছে ওহীর মাধ্যমে এই আল-কুরআন অবতীর্ণ করে তোমার নিকট (সত্যতা, ভাষার বিশুদ্ধতা এবং সৌন্দর্যের দিক দিয়ে) সর্বোত্তম কাহিনী বর্ণনা করছি; যদিও তুমি এর পূর্বে এ বিষয়ে অনবহিতদের (না জানা লোকদের) অন্তর্ভুক্ত ছিলে।(১)
তাফসীর: ৩. ওহে রাসূল! আমি আপনার কাছে এই কুরআন অবতীর্ণ করে সত্যতা, শব্দ ও ভাষার বিশুদ্ধতা ও সৌন্দর্যের দিক দিয়ে সর্বোত্তম ঘটনাবলী বর্ণনা করছি। যদিও এর পূর্বে আপনি এ সম্পর্কে বেখবরদেরই অন্তর্ভুক্ত ছিলেন। যে বিষয়ে আপনার কোন জ্ঞানই ছিল না।
(১) কারণ এ কাহিনী তোমার অজানা ছিল।
إِذۡ قَالَ يُوسُفُ لِأَبِيهِ يَٰٓأَبَتِ إِنِّي رَأَيۡتُ أَحَدَ عَشَرَ كَوۡكَبٗا وَٱلشَّمۡسَ وَٱلۡقَمَرَ رَأَيۡتُهُمۡ لِي سَٰجِدِينَ
অর্থ: (হে রাসূল! তুমি) স্মরণ করো, যখন ইউসুফ তার পিতাকে বলেছিল: ‘হে আমার পিতা! আমি (স্বপ্নে) দেখেছি এগারোটি নক্ষত্র, সূর্য ও চাঁদ। আমি তাদেরকে আমার প্রতি সাজদাবনত অবস্থায় দেখেছি।
তাফসীর: ৪. ওহে রাসূল! আমি আপনাকে ঘটনাটির খবর দিচ্ছি। আপনি শুনুন, ইউসুফ (আলাইস-সালাম) যখন তাঁর পিতা ইয়াক‚ব (আলাইস-সালাম) কে বলেছিলেন: ওহে আব্বাজান! আমি স্বপ্নে দেখেছি এগারটি তারকা এবং সূর্য ও চন্দ্র আমাকে সাজদাহ করছে। এই স্বপ্নটি ইউসুফ (আলাইস-সালাম) এর জন্য ছিল একটি অগ্রিম সুসংবাদ।
قَالَ يَٰبُنَيَّ لَا تَقۡصُصۡ رُءۡيَاكَ عَلَىٰٓ إِخۡوَتِكَ فَيَكِيدُواْ لَكَ كَيۡدًاۖ إِنَّ ٱلشَّيۡطَٰنَ لِلۡإِنسَٰنِ عَدُوّٞ مُّبِينٞ
অর্থ: (এ কথা শুনে) সে (ইয়াকূব) বললো: ‘হে আমার পুত্র! তুমি তোমার ভাইদের কাছে তোমার স্বপ্নের বর্ণনা দিও না, তাহলে তারা(২) তোমার বিরুদ্ধে গভীর ষড়যন্ত্র করবে। নিশ্চয় শয়তান মানুষের প্রকাশ্য শত্রু।’
তাফসীর: ৫. ইয়াক‚ব (আলাইস-সালাম) তাঁর পুত্র ইউসুফ (আলাইস-সালাম) কে বললেন: হে আমার পুত্র! তোমার স্বপ্নের কথা তোমার ভাইদের কাছে বর্ণনা করো না। কেননা তারা সে স্বপ্নের মর্ম উপলব্ধি করে হিংসাবশতঃ তোমার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করবে। শয়তান অবশ্যই মানুষের জন্য প্রকাশ্য শত্রæ।
(২) স্বপ্নের মর্ম বুঝে হিংসাবশত।
وَكَذَٰلِكَ يَجۡتَبِيكَ رَبُّكَ وَيُعَلِّمُكَ مِن تَأۡوِيلِ ٱلۡأَحَادِيثِ وَيُتِمُّ نِعۡمَتَهُۥ عَلَيۡكَ وَعَلَىٰٓ ءَالِ يَعۡقُوبَ كَمَآ أَتَمَّهَا عَلَىٰٓ أَبَوَيۡكَ مِن قَبۡلُ إِبۡرَٰهِيمَ وَإِسۡحَٰقَۚ إِنَّ رَبَّكَ عَلِيمٌ حَكِيمٞ
অর্থ: আর (হে ইউসুফ! তুমি যেমন ওই স্বপ্ন দেখেছ) এভাবে তোমার রব (ভবিষ্যতে ) তোমাকে (নবী হিসেবে) মনোনীত করবেন এবং তোমাকে স্বপ্নের ব্যাখ্যা শিক্ষা দিবেন। আর তোমার ওপর ও ইয়াকূবের পরিবারের ওপর তাঁর নি‘আমত পূর্ণ করবেন, যেভাবে তিনি তা ইতঃপূর্বে পূর্ণ করেছিলেন তোমার পিতৃপুরুষ ইবরাহীম ও ইসহাকের ওপর। নিশ্চয় তোমার রব সর্বজ্ঞ, প্রজ্ঞাময়।
তাফসীর: ৬. ওহে ইউসুফ! তুমি যেমন ওই স্বপ্ন দেখেছ, তোমার রব সেভাবেই তোমাকে মনোনীত করবেন। তোমাকে স্বপ্নের ব্যাখ্যা শিক্ষা দিবেন। তিনি তোমাকে নবুওয়াত দান করে তাঁর নেয়ামতকে পরিপূর্ণ করবেন। যেমন তোমার পূর্বে তোমার পিতৃপুরুষ: ইব্রাহীম ও ইসহাকের উপর তাঁর অনুগ্রহকে পরিপূর্ণ করেছেন। নিশ্চয়ই তোমার রব তাঁর সৃষ্টি সম্পর্কে সর্বজ্ঞ এবং ব্যবস্থাপনায় বড়ই প্রজ্ঞাবান।
۞ لَّقَدۡ كَانَ فِي يُوسُفَ وَإِخۡوَتِهِۦٓ ءَايَٰتٞ لِّلسَّآئِلِينَ
অর্থ: নিশ্চয়ই ইউসুফ ও তার ভাইদের কাহিনিতে (তাদের সম্পর্কে) জিজ্ঞাসাকারীদের জন্য বহু নিদর্শন রয়েছে।
তাফসীর: ৭. নিশ্চয়ই ইউসুফ ও তাঁর ভাইদের ঘটনার মধ্যে তাদের খবরাদি সম্পর্কে জিজ্ঞাসুদের জন্য রয়েছে বহু শিক্ষা ও উপদেশ।
إِذۡ قَالُواْ لَيُوسُفُ وَأَخُوهُ أَحَبُّ إِلَىٰٓ أَبِينَا مِنَّا وَنَحۡنُ عُصۡبَةٌ إِنَّ أَبَانَا لَفِي ضَلَٰلٖ مُّبِينٍ
অর্থ: (স্মরণ করো) যখন তারা (ইউসুফের সৎ ভাইয়েরা) বলেছিল: ‘নিশ্চয় ইউসুফ ও তার (সহোদর) ভাই (বিনইয়ামিন) আমাদের পিতার নিকট আমাদের চেয়ে অধিক প্রিয়; অথচ আমরা (দশ ভাই) বৃহৎ সংখ্যার একটি দল। নিশ্চয় আমাদের পিতা সুস্পষ্ট ভুলের মধ্যে আছেন।’
তাফসীর: ৮. যখন ইউসুফের ভাইয়েরা তাদের মধ্যে বলাবলি করছিল, নিশ্চয়ই ইউসুফ ও তাঁর সহোদর ভাই আমাদের পিতার কাছে আমাদের চেয়ে বেশি প্রিয়। অথচ আমরা বৃহৎ সংখ্যার একটি দল; সুতরাং কিভাবে তিনি শুধু তাদের দু’ জনকে আমাদের উপর প্রাধান্য দিচ্ছেন? যখন তিনি অজ্ঞাত কারণে তাদের দু’ জনকে অযৌক্তিকভাবে আমাদের উপর অগ্রাধিকার দেন তখন আমরা দেখছি যে, তিনি সুস্পষ্ট ভুলের মধ্যে আছেন।
ٱقۡتُلُواْ يُوسُفَ أَوِ ٱطۡرَحُوهُ أَرۡضٗا يَخۡلُ لَكُمۡ وَجۡهُ أَبِيكُمۡ وَتَكُونُواْ مِنۢ بَعۡدِهِۦ قَوۡمٗا صَٰلِحِينَ
অর্থ: (ইউসুফের ভাইদের কেউ কেউ পরামর্শস্বরূপ বলল:) ‘তোমরা ইউসুফকে হত্যা করো অথবা তাকে (দূরে) কোনো স্থানে ফেলে আসো, তাহলে (তার অবর্তমানে) তোমাদের পিতার দৃষ্টি তোমাদের প্রতিই নিবদ্ধ হবে(৩)এবং তার পরে (তাকে হত্যার পরে তাওবা করে) তোমরা সৎ লোক হয়ে যাবে।’
তাফসীর: ৯. তোমরা ইউসুফকে হত্যা করে ফেল বা তাকে একটি দূর ভূমিতে গুম করে দাও, তাহলে তোমাদের পিতার দৃষ্টি তোমাদের প্রতিই নিবদ্ধ হবে, তখন তিনি তোমাদেরকেই পরিপূর্ণরূপে ভালোবাসবেন। আর তাকে হত্যা বা গুমের ঘটনা ঘটানোর পর তোমরা সৎ লোকদেরই অন্তর্ভুক্ত হয়ে যাবে যখন তোমরা নিজেদের পাপ থেকে তওবা করে নিবে।
(৩) তখন তিনি তোমাদেরকেই পরিপূর্ণরূপে ভালোবাসবেন।
قَالَ قَآئِلٞ مِّنۡهُمۡ لَا تَقۡتُلُواْ يُوسُفَ وَأَلۡقُوهُ فِي غَيَٰبَتِ ٱلۡجُبِّ يَلۡتَقِطۡهُ بَعۡضُ ٱلسَّيَّارَةِ إِن كُنتُمۡ فَٰعِلِينَ
অর্থ: তাদের মধ্য থেকে একজন বলল: ‘তোমরা ইউসুফকে হত্যা করো না; বরং যদি কিছু করতেই হয়, তবে তাকে কোনো কূপের গভীরে নিক্ষেপ করো, তাকে পথচারী দলের কেউ তুলে নিয়ে যাবে।’
তাফসীর: ১০. ভাইদের একজন বলল: তোমরা ইউসুফকে হত্যা কর না, বরং তোমরা তাকে কুয়ার গভীরে ফেলে দাও, ফলে সেখান দিয়ে অতিবাহিত মুসাফিরদের কেউ তাকে নিয়ে যাবে; আর এটা তার হত্যার চেয়ে ক্ষতির দিক দিয়ে হালকা হবে, যদি তোমরা তার ব্যাপারে যা বলছ তার উপর দৃঢ়প্রত্যয়ী হও।
অনুবাদ: রুওয়াদ অনুবাদ সেন্টার। তাফসীর: তাফসীর সেন্টার ফর কুরআনিক স্টাডিজ। উৎস QuranEnc.