সিরাতুল মুস্তাকিম অ্যাপ ডাউনলোড করুনGoogle Play
سَبَّحَ لِلَّهِ مَا فِي ٱلسَّمَٰوَٰتِ وَٱلۡأَرۡضِۖ وَهُوَ ٱلۡعَزِيزُ ٱلۡحَكِيمُ
অর্থ: আসমানসমূহ ও জমিনে যা কিছু আছে, সবই আল্লাহর তাসবীহ পাঠ করে। আর তিনি পরাক্রমশালী, প্রজ্ঞাময়।
তাফসীর: ১. আসমান ও যমীনে থাকা আল্লাহর সৃষ্টিকুল তাঁর পবিত্রতা ও মাহত্ম্য বর্ণনা করেছে। তিনি সেই প্ররাক্রমশালী যাঁকে কেউ পরাস্ত করতে পারে না। তিনি তাঁর সৃষ্টি ও পরিচালনায় প্রজ্ঞাবান।
لَهُۥ مُلۡكُ ٱلسَّمَٰوَٰتِ وَٱلۡأَرۡضِۖ يُحۡيِۦ وَيُمِيتُۖ وَهُوَ عَلَىٰ كُلِّ شَيۡءٖ قَدِيرٌ
অর্থ: আসমানসমূহ ও জমিনের রাজত্ব এককভাবে তাঁরই। তিনিই জীবন দেন এবং তিনিই মৃত্যু দেন। আর তিনি সকল কিছুর উপর সর্বশক্তিমান।
তাফসীর: ২. আসমান ও যমীনের রাজত্ব এককভাবে কেবল তাঁরই। তিনি যাকে জীবিত রাখতে চান রাখেন। আর যাকে মারতে চান মারেন। তিনি সর্ব বিষয়ে ক্ষমতাবান; তাঁকে কোন কিছুই অপারগ করতে পারে না।
هُوَ ٱلۡأَوَّلُ وَٱلۡأٓخِرُ وَٱلظَّٰهِرُ وَٱلۡبَاطِنُۖ وَهُوَ بِكُلِّ شَيۡءٍ عَلِيمٌ
অর্থ: তিনিই প্রথম ও শেষ (১) এবং তিনিই প্রকাশ্য ও গোপন।(২) আর তিনি সকল বিষয়ে সম্যক অবগত।
তাফসীর: ৩. তিনিই প্রথম; যাঁর পূর্বে কোন কিছু ছিলো না। তিনিই শেষ; যাঁর পর আর কিছুই থাকবে না। তিনিই প্রকাশ্য; যাঁর ঊর্ধ্বে কিছুই নেই। তিনিই অপ্রকাশ্য; যাঁর অপেক্ষা গভীরে অন্য কিছু নেই। তিনিই সর্ব বিষয়ে পরিজ্ঞাত; তাঁর বাইরে কোন কিছুই নেই।
(১) যাঁর পূর্বে কোন কিছু ছিলো না এবং যাঁর পর আর কিছুই থাকবে না। (২) যাঁর ঊর্ধ্বে কিছুই নেই এবং যাঁর অপেক্ষা গভীরে অন্য কিছু নেই।
هُوَ ٱلَّذِي خَلَقَ ٱلسَّمَٰوَٰتِ وَٱلۡأَرۡضَ فِي سِتَّةِ أَيَّامٖ ثُمَّ ٱسۡتَوَىٰ عَلَى ٱلۡعَرۡشِۖ يَعۡلَمُ مَا يَلِجُ فِي ٱلۡأَرۡضِ وَمَا يَخۡرُجُ مِنۡهَا وَمَا يَنزِلُ مِنَ ٱلسَّمَآءِ وَمَا يَعۡرُجُ فِيهَاۖ وَهُوَ مَعَكُمۡ أَيۡنَ مَا كُنتُمۡۚ وَٱللَّهُ بِمَا تَعۡمَلُونَ بَصِيرٞ
অর্থ: তিনিই ছয় দিনে আসমানসমূহ ও জমিন সৃষ্টি করেছেন।(৩) তারপর তিনি আরশের ওপর উঠেছেন। তিনি জানেন, জমিনে যা কিছু প্রবেশ করে, যা কিছু তা থেকে বের হয়, আসমান থেকে যা কিছু অবতীর্ণ হয়(৪) এবং তাতে যা কিছু উত্থিত হয়।(৫) আর তোমরা যেখানেই থাক না কেন, তিনি (৬) তোমাদের সঙ্গে আছেন। আর তোমরা যা কিছু করো, আল্লাহ তা সম্যক দেখেন।
তাফসীর: ৪. তিনি আসমান ও যমীনকে ছয় দিনে সৃষ্টি করেছেন। যা রবিবার দিনে শুরু হয়েছে এবং শুক্রবারে শেষ হয়েছে। অথচ তিনি চোখের পলক অপেক্ষা কম সময়ে তা সৃষ্টি করতে সক্ষম। অতঃপর তিনি তাঁর সাথে মানানসই প্রক্রিয়ায় আরশের উপর গমন করেন ও সমুন্নত হোন। তিনি যমীনে যে সব বারি ও বীজ প্রবেশ করে তা জানেন এবং তা থেকে যে সব শস্য ও খনিজ দ্রব্য উদ্গত হয় তাও জানেন। আবার তিনি আসমান থেকে যে বৃষ্টি, ওহী ইত্যাদি নাযিল হয় এবং আসমানে যে সব ফিরিশতা, বান্দাদের আমল ও আত্মাগুলো উত্থিত হয় তাও জানেন। হে লোক সকল! তোমরা যেখানেই থাকো না কেন তিনি তাঁর জ্ঞানের মাধ্যমে তোমাদের সাথেই রয়েছেন। তাঁর নিকট তোমাদের কোন কিছুই গোপন নেই। বস্তুতঃ আল্লাহ তোমাদের সকল কাজের সর্বদ্রষ্টা। তাঁর নিকট তোমাদের কোন আমলই গোপন নেই এবং অচিরেই তিনি তোমাদেরকে সেগুলোর বদলা দিবেন।
(৩) যা রবিবার শুরু হয়েছে এবং শুক্রবারে শেষ হয়েছে; অথচ তিনি চোখের পলক অপেক্ষা কম সময়ে তা সৃষ্টি করতে সক্ষম। (৪) যেমন বৃষ্টি, ওহী ইত্যাদি। (৫) আসমানে যে সব ফিরিশতা, বান্দাদের আমল ও আত্মাগুলো উত্থিত হয়। (৬) ‘আরশে অবস্থান করেও তার সীমাহীন জ্ঞানের মাধ্যমেই।
لَّهُۥ مُلۡكُ ٱلسَّمَٰوَٰتِ وَٱلۡأَرۡضِۚ وَإِلَى ٱللَّهِ تُرۡجَعُ ٱلۡأُمُورُ
অর্থ: আসমানসমূহ ও জমিনের রাজত্ব এককভাবে তাঁরই এবং আল্লাহরই দিকে সকল বিষয় প্রত্যাবর্তিত হবে।
তাফসীর: ৫. আসমান ও যমীনসমূহের রাজত্ব এককভাবে তাঁরই। এককভাবে তাঁর দিকেই সকল বিষয় প্রত্যাবর্তিত হবে। ফলে তিনি কিয়ামত দিবসে সৃষ্টিকুলের হিসাব গ্রহণ করবেন এবং তাদের আমলের প্রতিদান দিবেন।
يُولِجُ ٱلَّيۡلَ فِي ٱلنَّهَارِ وَيُولِجُ ٱلنَّهَارَ فِي ٱلَّيۡلِۚ وَهُوَ عَلِيمُۢ بِذَاتِ ٱلصُّدُورِ
অর্থ: তিনি রাতকে দিনের মধ্যে প্রবেশ করান এবং দিনকে রাতের মধ্যে প্রবেশ করান। আর তিনি অন্তরসমূহের বিষয়াদি সম্পর্কে সম্যক অবগত।
তাফসীর: ৬. তিনি রাতকে দিনের মধ্যে প্রবিষ্ট করেন। ফলে অন্ধকার ছেয়ে যায় এবং মানুষ নিদ্রা যাপন করে। তেমনিভাবে তিনি দিনকে রাতের মধ্যে প্রবিষ্ট করেন ফলে আলো বিস্তার লাভ করে এবং লোকজন তাদের কাজে সক্রিয় হয়। তিনি স্বীয় বান্দাদের বক্ষদেশের বিষয়ে পরিজ্ঞাত। তাঁর নিকট এর কিছুই গোপন থাকে না।
ءَامِنُواْ بِٱللَّهِ وَرَسُولِهِۦ وَأَنفِقُواْ مِمَّا جَعَلَكُم مُّسۡتَخۡلَفِينَ فِيهِۖ فَٱلَّذِينَ ءَامَنُواْ مِنكُمۡ وَأَنفَقُواْ لَهُمۡ أَجۡرٞ كَبِيرٞ
অর্থ: তোমরা আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের প্রতি ঈমান আনো এবং তিনি তোমাদেরকে যা কিছুর উত্তরাধিকারী করেছেন, সেগুলো তাঁর বিধান অনুযায়ী ব্যয় করো। অতঃপর তোমাদের মধ্যে যারা ঈমান আনে ও (আল্লাহর পথে) ব্যয় করে, তাদের জন্য রয়েছে মহাপুরস্কার (জান্নাত)।
তাফসীর: ৭. তোমরা আল্লাহর উপর ঈমান আনো এবং রাসূলের উপর। আর যে সব সম্পদে আল্লাহ তোমাদেরকে প্রতিনিধি বানিয়েছেন সেগুলোকে তাঁর বিধান অনুযায়ী ব্যয় করো। বস্তুতঃ তোমাদের মধ্যে যারা আল্লাহর উপর ঈমান আনয়ন করেছে এবং তাদের সম্পদকে আল্লাহর পথে ব্যয় করেছে তাদের জন্য তাঁর নিকট রয়েছে মহা প্রতিদান তথা জান্নাত।
وَمَا لَكُمۡ لَا تُؤۡمِنُونَ بِٱللَّهِ وَٱلرَّسُولُ يَدۡعُوكُمۡ لِتُؤۡمِنُواْ بِرَبِّكُمۡ وَقَدۡ أَخَذَ مِيثَٰقَكُمۡ إِن كُنتُم مُّؤۡمِنِينَ
অর্থ: আর তোমাদের কী হলো যে, তোমরা আল্লাহর প্রতি ঈমান আনছো না? অথচ রাসূল তোমাদেরকে তোমাদের রবের প্রতি ঈমান আনতে আহ্বান করছে। আর আল্লাহ তোমাদের কাছ থেকে (৭) অঙ্গীকার গ্রহণ করেছেন, যদি তোমরা মু‘মিন হও।
তাফসীর: ৮. কোন্ বস্তু তোমাদেরকে আল্লাহর উপর ঈমান আনয়নে বাধা দেয়?! অথচ রাসূল তোমাদেরকে আল্লাহর প্রতি আহŸান করছেন। যেন তোমরা নিজেদের মহান রবের প্রতি ঈমান আনয়ন করো। বস্তুতঃ তিনি তোমাদের নিকট থেকে তোমাদেরকে আপন পিতার পৃষ্ঠ থেকে বের করার সময় অঙ্গীকার গ্রহণ করেছেন যে, তোমরা তাঁর উপর ঈমান আনয়ন করবে যদি তোমরা প্রকৃত ঈমানদার হয়ে থাকো।
(৭) তোমাদের পিতা আদমের পৃষ্ঠ থেকে বের করার সময় ঈমান আনার।
هُوَ ٱلَّذِي يُنَزِّلُ عَلَىٰ عَبۡدِهِۦٓ ءَايَٰتِۭ بَيِّنَٰتٖ لِّيُخۡرِجَكُم مِّنَ ٱلظُّلُمَٰتِ إِلَى ٱلنُّورِۚ وَإِنَّ ٱللَّهَ بِكُمۡ لَرَءُوفٞ رَّحِيمٞ
অর্থ: তিনিই সেই আল্লাহ যিনি তাঁর বান্দা (মুহাম্মাদ)-এর প্রতি সুস্পষ্ট আয়াতসমূহ নাযিল করেন, যাতে তিনি তোমাদেরকে (কুফরী ও অজ্ঞতার) অন্ধকার থেকে (ঈমান ও জ্ঞানের) আলোর দিকে বের করে আনতে পারেন। আর নিশ্চয় আল্লাহ তোমাদের প্রতি অতিশয় দয়ালু, পরম করুণাময়।
তাফসীর: ৯. তিনিই সেই আল্লাহ যিনি তাঁর বান্দাহ মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এর উপর সুস্পষ্ট আয়াতসমূহ অবতীর্ণ করেছেন। যাতে তিনি তোমাদেরকে কুফরী ও অজ্ঞতার অন্ধকার থেকে ঈমান ও জ্ঞানের আলোর দিকে বের করে নিয়ে আসেন। বস্তুতঃ আল্লাহ তোমাদের উপর দয়াবান ও করুণাশীল। কেননা, তিনি তোমাদের নিকট পথ প্রদর্শক ও সুসংবাদ দাতা হিসাবে তাঁর নবীকে প্রেরণ করেছেন।
وَمَا لَكُمۡ أَلَّا تُنفِقُواْ فِي سَبِيلِ ٱللَّهِ وَلِلَّهِ مِيرَٰثُ ٱلسَّمَٰوَٰتِ وَٱلۡأَرۡضِۚ لَا يَسۡتَوِي مِنكُم مَّنۡ أَنفَقَ مِن قَبۡلِ ٱلۡفَتۡحِ وَقَٰتَلَۚ أُوْلَٰٓئِكَ أَعۡظَمُ دَرَجَةٗ مِّنَ ٱلَّذِينَ أَنفَقُواْ مِنۢ بَعۡدُ وَقَٰتَلُواْۚ وَكُلّٗا وَعَدَ ٱللَّهُ ٱلۡحُسۡنَىٰۚ وَٱللَّهُ بِمَا تَعۡمَلُونَ خَبِيرٞ
অর্থ: আর তোমাদের কী হলো যে, তোমরা আল্লাহর পথে ব্যয় করছ না? অথচ আসমানসমূহ ও জমিনের উত্তরাধিকার তো আল্লাহরই? তোমাদের মধ্যে যারা মক্কা বিজয়ের পূর্বে (৮) ব্যয় করেছে এবং যুদ্ধ করেছে (৯) তারা উভয়ে সমান নয়। এরা মর্যাদায় তাদের চেয়ে শ্রেষ্ঠ, যারা (মক্কা বিজয়ের) পরে ব্যয় করেছে ও যুদ্ধ করেছে। তবে আল্লাহ প্রত্যেকের জন্যই কল্যাণের (জান্নাতের) ওয়াদা করেছেন। আর তোমরা যা করো, সে সম্পর্কে আল্লাহ সবিশেষ অবগত।
তাফসীর: ১০. কোন্ বস্তু তোমাদেরকে আল্লাহর পথে ব্যয় করা থেকে বিরত রাখে?! অথচ আসমান ও যমীনের সর্বস্বত্ব আল্লাহর। হে মুমিন সম্প্রদায়! তোমাদের মধ্যে যে মক্কা বিজয়ের পূর্বে আল্লাহর সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে স্বীয় সম্পদ ব্যয় করেছে এবং ইসলামের সাহায্যের উদ্দেশ্যে আল্লাহর পথে ব্যয় করেছে আর যে পরে ব্যয় করেছে এবং কাফিরদের সাথে যুদ্ধ করেছে তাদের উভয় সমান হতে পারে না। বিজয়ের পূর্বে যারা আল্লাহর পথে ব্যয় ও যুদ্ধ করেছে তারা আল্লাহর নিকট ওদের তুলনায় অধিক মর্যাদাবান যারা বিজয়ের পর আল্লাহর পথে ব্যয় ও কাফিরদের সাথে যুদ্ধ করেছে। তবে আল্লাহ উভয় পক্ষের সাথে জান্নাতের অঙ্গীকার করেছেন। বস্তুতঃ আল্লাহ তোমাদের সকল কাজ সম্পর্কে অবগত। তাঁর নিকট তোমাদের কোন কাজই গোপন নয়। অচিরেই তিনি তোমাদেরকে এর বদলা দিবেন।
(৮) আল্লাহর সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে স্বীয় সম্পদ। (৯)আর যারা মক্কা বিজয়ের পরে ব্যয় করেছে ও যুদ্ধ করেছে।
অনুবাদ: রুওয়াদ অনুবাদ সেন্টার। তাফসীর: তাফসীর সেন্টার ফর কুরআনিক স্টাডিজ। উৎস QuranEnc.