সিরাতুল মুস্তাকিম অ্যাপ ডাউনলোড করুনGoogle Play
تَبَارَكَ ٱلَّذِي نَزَّلَ ٱلۡفُرۡقَانَ عَلَىٰ عَبۡدِهِۦ لِيَكُونَ لِلۡعَٰلَمِينَ نَذِيرًا
অর্থ: বরকতময় তিনি, যিনি তাঁর বান্দার উপর ফুরকান (কুরআন) নাযিল করেছেন, যেন সে (মুহাম্মাদ) সমগ্র বিশ্বজগতের জন্য সতর্ককারী হতে পারে।
তাফসীর: ১. সেই সত্তার পূর্ণতা ও প্রাচুর্য অনেক বেশি ও মহান যিনি তাঁর বান্দা ও রাসূল মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এর উপর সত্য ও মিথ্যার মাঝে পার্থক্যকারী একখÐ কুর‘আন নাযিল করেছেন। যাতে তিনি মানুষ ও জিন জাতিদ্বয়ের জন্য রাসূল এবং তাদের জন্য আল্লাহর আযাব থেকে একজন ভীতি প্রদর্শনকারীও হতে পারে।
ٱلَّذِي لَهُۥ مُلۡكُ ٱلسَّمَٰوَٰتِ وَٱلۡأَرۡضِ وَلَمۡ يَتَّخِذۡ وَلَدٗا وَلَمۡ يَكُن لَّهُۥ شَرِيكٞ فِي ٱلۡمُلۡكِ وَخَلَقَ كُلَّ شَيۡءٖ فَقَدَّرَهُۥ تَقۡدِيرٗا
অর্থ: তিনি ঐ সত্ত্বা যার অধিকারে রয়েছে আসমানসমূহ ও জমিনের মালিকানা। আর তিনি কোনো সন্তান গ্রহণ করেননি এবং সার্বভৌমত্বে তাঁর কোনো শরীক নেই। তিনি সবকিছু সৃষ্টি করেছেন। অতঃপর তা যথাযোগ্য অনুপাতে নির্ধারণ করেছেন।
তাফসীর: ২. কেবল তাঁর জন্যই আকাশ ও জমিনের মালিকানা। তিনি কোন সন্তান গ্রহণ করেননি। না তাঁর ক্ষমতায় কোন শরীক রয়েছে। তিনি সকল কিছু সৃষ্টি করেছেন। তিনি তাঁর জ্ঞান ও প্রজ্ঞা অনুযায়ী প্রত্যেক সৃষ্টির যথাযোগ্য নিজস্ব পরিমাপ নির্ধারণ করেছেন।
وَٱتَّخَذُواْ مِن دُونِهِۦٓ ءَالِهَةٗ لَّا يَخۡلُقُونَ شَيۡـٔٗا وَهُمۡ يُخۡلَقُونَ وَلَا يَمۡلِكُونَ لِأَنفُسِهِمۡ ضَرّٗا وَلَا نَفۡعٗا وَلَا يَمۡلِكُونَ مَوۡتٗا وَلَا حَيَوٰةٗ وَلَا نُشُورٗا
অর্থ: আর তারা (অবিশ্বাসীরা) আল্লাহ ছাড়া অনেক ইলাহ গ্রহণ করেছে, যারা কোনো কিছুই সৃষ্টি করতে পারে না; বরং তারা নিজেরাই সৃষ্ট। তারা নিজেদের কোন অকল্যাণ ও কল্যাণ করার ক্ষমতা রাখে না এবং তারা মৃত্যু, জীবন ও পুনরুত্থান করতেও সক্ষম হয় না।
তাফসীর: ৩. মুশরিকরা আল্লাহ ছাড়া এমন কিছু মা’বূদ বানিয়ে নিয়েছে যারা ছোট-বড় কোন কিছুই তৈরি করতে পারে না। বরং তারা নিজেরাই অন্যের সৃষ্ট। আল্লাহ তাদেরকে শূন্য থেকেই সৃষ্টি করেছেন। তারা নিজেদের কোন ক্ষতি প্রতিরোধ করতে পারে না। না তারা নিজেদের জন্য কোন ফায়েদা ছিনিয়ে আনতে পারে। তারা কোন জীবিতকে মৃত্যু দিতে পারে না। না কোন মৃতকে জীবিত করতে পারে। এমনিভাবে তারা মৃতদেরকে তাদের কবর থেকে পুনরুত্থান করতেও পারবে না।
وَقَالَ ٱلَّذِينَ كَفَرُوٓاْ إِنۡ هَٰذَآ إِلَّآ إِفۡكٌ ٱفۡتَرَىٰهُ وَأَعَانَهُۥ عَلَيۡهِ قَوۡمٌ ءَاخَرُونَۖ فَقَدۡ جَآءُو ظُلۡمٗا وَزُورٗا
অর্থ: আর কাফিররা বলে, এটা তো মিথ্যা ছাড়া কিছুই নয়, যা সে নিজে রচনা করেছে এবং এতে তাকে অন্য কিছু লোক সাহায্য করেছে। সুতরাং তারা তো জুলুম ও মিথ্যা অপবাদ নিয়ে এসেছে।
তাফসীর: ৪. যারা আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের সাথে কুফরি করেছে তারা বলে: এ কুর‘আন মূলতঃ একটি মিথ্যা রচনা। যা মুহাম্মাদ নিজে বানিয়ে আল্লাহর সাথে মিথ্যাভাবে সম্পৃক্ত করেছে। এটি বানানোর ব্যাপারে অন্যরাও তার সহযোগিতা করেছে। এ কাফিররা মূলতঃ একটি বাতিল কথার অপবাদ দিয়েছে। কারণ, কুর‘আন আল্লাহর বাণী। কোন মানুষ কিংবা জিন এ কুর‘আনের ন্যায় কোন কিছু এনে দেখাতে পারবে না।
وَقَالُوٓاْ أَسَٰطِيرُ ٱلۡأَوَّلِينَ ٱكۡتَتَبَهَا فَهِيَ تُمۡلَىٰ عَلَيۡهِ بُكۡرَةٗ وَأَصِيلٗا
অর্থ: তারা আরও বলে: ‘এটি প্রাচীনকালের উপকথা, যা সে লিখিয়ে নিয়েছে; তারপর এগুলো সকাল-সন্ধ্যায় তার কাছে পাঠ করা হয়।’
তাফসীর: ৫. কুর‘আনকে অস্বীকারকারীরা আরো বলে: কুর‘আন হলো মুলতঃ পূর্ববর্তীদের ইতিহাস এবং তারা যে বাতিল কথাগুলো লিখে গেছে মুহাম্মাদ তা কপি করে নিয়েছে। যা তাকে পড়ে শুনানো হয় দিনের শুরু ও শেষে।
قُلۡ أَنزَلَهُ ٱلَّذِي يَعۡلَمُ ٱلسِّرَّ فِي ٱلسَّمَٰوَٰتِ وَٱلۡأَرۡضِۚ إِنَّهُۥ كَانَ غَفُورٗا رَّحِيمٗا
অর্থ: (হে রাসূল! তুমি এ অস্বীকারকারীদেরকে) বলো: ‘যিনি আসমানসমূহ ও জমিনের রহস্য জানেন, তিনিই এটি নাযিল করেছেন। নিশ্চয় তিনি (তাওবাকারী বান্দাদের প্রতি) অতীব ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু।’
তাফসীর: ৬. হে রাসূল! আপনি এ অস্বীকারকারীদেরকে বলুন: বস্তুতঃ কুর‘আন নাযিল করেছেন সেই আল্লাহ যিনি আকাশ ও জমিনের সবকিছুই জানেন। তা বানানো নয়, যেমনটি তোমরা ধারণা করেছো। অতঃপর তিনি তাদেরকে তাওবার উৎসাহ দিয়ে বলেন: নিশ্চয়ই আল্লাহ তা‘আলা তাঁর তাওবাকারী বান্দাদের প্রতি অত্যন্ত ক্ষমাশীল ও দয়ালু।
وَقَالُواْ مَالِ هَٰذَا ٱلرَّسُولِ يَأۡكُلُ ٱلطَّعَامَ وَيَمۡشِي فِي ٱلۡأَسۡوَاقِ لَوۡلَآ أُنزِلَ إِلَيۡهِ مَلَكٞ فَيَكُونَ مَعَهُۥ نَذِيرًا
অর্থ: আর তারা বলে: ‘এ রাসূলের কী হলো, সে (অন্য মানুষের মতো) আহার করে এবং হাটে-বাজারে চলাফেরা করে। তার কাছে একজন ফিরিশতা পাঠানো হল না কেনো, যে তাঁর সাথে সতর্ককারী হতো?’
তাফসীর: ৭. নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) কে অস্বীকারকারী মুশরিকরা বললো: যে দাবি করে যে, সে আল্লাহর পক্ষ থেকে একজন প্রেরিত রাসূল তার কী হলো, সে খানা খাচ্ছে যেমনিভাবে অন্য মানুষরা খায়। সে জীবিকার অনুসন্ধানে বাজারে ঘুরে বেড়ায়। আল্লাহ কেন তার সাথে একজন ফিরিশতা নাযিল করেন না যে তার সাথী হবে এবং তার সহযোগিতা ও সত্যায়ন করবে।
أَوۡ يُلۡقَىٰٓ إِلَيۡهِ كَنزٌ أَوۡ تَكُونُ لَهُۥ جَنَّةٞ يَأۡكُلُ مِنۡهَاۚ وَقَالَ ٱلظَّٰلِمُونَ إِن تَتَّبِعُونَ إِلَّا رَجُلٗا مَّسۡحُورًا
অর্থ: অথবা তাকে (আকাশ থেকে) ধনভাণ্ডার ঢেলে দেয়া হয় না কেনো অথবা তার জন্য একটি বাগান হয় না কেনো, যা থেকে সে খেতে পারে?’ যালিমরা বলে, ‘তোমরা শুধু এক যাদুগ্রস্ত লোকের অনুসরণ করছো।’
তাফসীর: ৮. অথবা তার নিকট কেন আকাশ থেকে ধন-ভাÐার নাযিল হয় না কিংবা তার কেন একটি বাগান নেই যার ফল সে খেতে পারতো। ফলে সে বাজারে হেঁটে রিযিক অনুসন্ধান থেকে বাঁচতে পারতো। যালিমরা বললো: হে মু’মিনরা! তোমরা মূলতঃ একজন রাসূলের অনুসরণ করছো না। বরং তোমরা এমন এক ব্যক্তির অনুসরণ করছো যার বিবেক-বুদ্ধিটুকু যাদুর কারণে নষ্ট হয়ে গেছে।
ٱنظُرۡ كَيۡفَ ضَرَبُواْ لَكَ ٱلۡأَمۡثَٰلَ فَضَلُّواْ فَلَا يَسۡتَطِيعُونَ سَبِيلٗا
অর্থ: (হে রাসূল!) দেখ, তারা তোমার জন্য কীভাবে নানা উপমা পেশ করে! ফলে তারা পথভ্রষ্ট হয়েছে; তাই তারা কোনো পথ খুঁজে পায় না।
তাফসীর: ৯. হে রাসূল! আপনি আশ্চর্য হয়ে দেখুন, কিভাবে তারা আপনাকে অনেকগুলো বাতিল বিশেষণে বিশেষায়িত করলো। তারা বললো: সে যাদুকর। তারা বললো: সে যাদুগ্রস্ত। তারা বললো: সে পাগল। তারা এর দরুন সত্যভ্রষ্ট হয়েছে। তাই তারা হিদায়েতের পথে চলতে সক্ষম নয়। না তারা আপনার সত্যবাদিতা ও আমানতদারিতায় আঘাত করার কোন পথ খুঁজে পাচ্ছে।
تَبَارَكَ ٱلَّذِيٓ إِن شَآءَ جَعَلَ لَكَ خَيۡرٗا مِّن ذَٰلِكَ جَنَّٰتٖ تَجۡرِي مِن تَحۡتِهَا ٱلۡأَنۡهَٰرُ وَيَجۡعَل لَّكَ قُصُورَۢا
অর্থ: তিনি বরকতময় আল্লাহ, যিনি ইচ্ছা করলে (দুনিয়াতেই) তোমার জন্য করে দিতে পারেন তার (তাদের প্রস্তাবিত বস্তুসমূহের) চেয়েও উত্তম বস্তু, উদ্যানসমূহ, যার পাদদেশে নদীসমূহ প্রবাহিত হয়। আর (শুধু তাই-ই নয়), তিনি তোমাকে প্রাসাদসমূহও দিতে পারেন।
তাফসীর: ১০. তিনি বরকতময় আল্লাহ যিনি চাইলে তাদের প্রস্তাবকৃত বস্তুর চেয়ে আপনাকে আরো উত্তম কিছু দিতে পারেন। তিনি চাইলে দুনিয়াতেই আপনাকে এমন কিছু জান্নাত দিতে পারেন যেগুলোর অট্টালিকা ও গাছগুলোর তলদেশ দিয়ে অনেকগুলো নদী প্রবাহিত হয়। যেগুলোর ফল আপনি খেতে পারেন। এমনকি তিনি আপনাকে এমন কিছু অট্টালিকাও দিতে পারেন যেগুলোতে আপনি অনেক নিয়ামত নিয়েও থাকতে পারেন।
(১) যেগুলোর ফল তুমি খেতে পারতে।
অনুবাদ: রুওয়াদ অনুবাদ সেন্টার। তাফসীর: তাফসীর সেন্টার ফর কুরআনিক স্টাডিজ। উৎস QuranEnc.