সিরাতুল মুস্তাকিম অ্যাপ ডাউনলোড করুনGoogle Play
يسٓ
অর্থ: ইয়াসীন
তাফসীর: ১. ইয়াসীন, এসব যুক্ত অক্ষরের অর্থের ব্যাপারে আলোচনা সূরা বাক্বারার শুরুতে অতিক্রান্ত হয়েছে।
وَٱلۡقُرۡءَانِ ٱلۡحَكِيمِ
অর্থ: প্রজ্ঞাময় কুরআনের শপথ।
তাফসীর: ২. আল্লাহ ঐ কোরআনের শপথ করছেন যার আয়াতগুলোকে নিপুণ করা হয়েছে। আর যেগুলোর প্রতি সম্মুখ বা পিছন থেকে বাতিল আগমন করতে পারবে না।
إِنَّكَ لَمِنَ ٱلۡمُرۡسَلِينَ
অর্থ: হে রাসূল! নিশ্চয় তুমি রাসূলদের অন্তর্ভুক্ত।
তাফসীর: ৩. হে রাসূল! আপনি সেই সব রাসূলের অন্তর্ভুক্ত যাদেরকে আল্লাহ তাঁর বান্দাদের প্রতি প্রেরণ করেছেন। যেন তাঁরা তাদেরকে তাঁর একত্ববাদ ও এককভাবে তাঁর এবাদতের নির্দেশ দেয়।
عَلَىٰ صِرَٰطٖ مُّسۡتَقِيمٖ
অর্থ: সরল-সঠিক পথের ওপর প্রতিষ্ঠিত।
তাফসীর: ৪-৫. সঠিক পদ্ধতি ও সুদৃঢ় কর্মপন্থার উপর। আর এই সঠিক পদ্ধতি ও সুদৃঢ় কর্মপন্থা তোমার প্রতিপালকের নিকট থেকে অবতীর্ণ। যিনি পরাক্রমশালী; যাঁকে পরাভূতকারী কেউ নেই। তিনি তাঁর মুমিন বান্দাদের প্রতি দয়াপরবশ।
تَنزِيلَ ٱلۡعَزِيزِ ٱلرَّحِيمِ
অর্থ: এটি (আল কুরআন) প্রবল পরাক্রমশালী, পরম দয়ালু আল্লাহর পক্ষ থেকে অবতীর্ণ।
তাফসীর: ৪-৫. সঠিক পদ্ধতি ও সুদৃঢ় কর্মপন্থার উপর। আর এই সঠিক পদ্ধতি ও সুদৃঢ় কর্মপন্থা তোমার প্রতিপালকের নিকট থেকে অবতীর্ণ। যিনি পরাক্রমশালী; যাঁকে পরাভূতকারী কেউ নেই। তিনি তাঁর মুমিন বান্দাদের প্রতি দয়াপরবশ।
لِتُنذِرَ قَوۡمٗا مَّآ أُنذِرَ ءَابَآؤُهُمۡ فَهُمۡ غَٰفِلُونَ
অর্থ: যাতে তুমি এমন এক জাতিকে সতর্ক কর, যাদের পিতৃপুরুষদেরকে সতর্ক করা হয়নি।(১) কাজেই তারা (ঈমান ও একত্ববাদ থেকে) উদাসীন।
তাফসীর: ৬. আমি আপনার প্রতি তা অবতীর্ণ করেছি। যাতে আপনি এক জাতি তথা এমন আরবদেরকে ভীতি প্রদর্শন করতে পারেন। যাদেরকে সতর্ক করার জন্য কোন রাসূল আগমন করেননি। ফলে তারা ঈমান ও একত্ববাদ থেকে উদাসীন। আর এটিই প্রত্যেক এমন জাতির অবস্থা যারা ভীতি প্রদর্শন থেকে বঞ্চিত রয়েছে। তারা এমন রাসূলের মুখাপেক্ষী যিনি তাদেরকে ভীতি প্রদর্শন করবেন।
(১) যাদেরকে সতর্ক করার জন্য কোন রাসূল আগমন করেনি। তাই তারা ঈমান ও একত্ববাদ থেকে উদাসীন।
لَقَدۡ حَقَّ ٱلۡقَوۡلُ عَلَىٰٓ أَكۡثَرِهِمۡ فَهُمۡ لَا يُؤۡمِنُونَ
অর্থ: অবশ্যই তাদের অধিকাংশের ওপর আল্লাহর বাণী (শাস্তি) অবধারিত হয়েছে, ফলে তারা ঈমান আনবে না।
তাফসীর: ৭. এদের বেশীর ভাগের উপর আল্লাহর পক্ষ থেকে রাসূলদের মুখে তাদের নিকট হক পৌঁছার পর আল্লাহর শাস্তি অবধারিত হয়েছে। ফলে তারা ঈমান আনয়ন করেনি। বরং তাদের কুফরির উপর অটল রয়ে গেছে। তাই তারা না আল্লাহর উপর, আর না তাঁর রাসূলের উপর ঈমান আনবে এবং তারা তাদের নিকট আগত সত্যের উপর আমলও করবে না।
إِنَّا جَعَلۡنَا فِيٓ أَعۡنَٰقِهِمۡ أَغۡلَٰلٗا فَهِيَ إِلَى ٱلۡأَذۡقَانِ فَهُم مُّقۡمَحُونَ
অর্থ: নিশ্চয় আমি তাদের গলায় শিকল পরিয়ে দিয়েছি এবং তা চিবুক পর্যন্ত (ঢেকে দিয়েছে)। ফলে তারা ঊর্ধ্বমুখী হয়ে আছে।(২)
তাফসীর: ৮. এতে তাদের উদাহরণ হচ্ছে ওই সব লোকজনের ন্যায় যাদের গর্দানে শিকল চাপিয়ে দেয়া হয়েছে। আর তাদের হাতকে গর্দানসহ দাড়ি সমষ্টির নিচে জড় করা হয়েছে। ফলে তারা আসমানের দিকে মাথা উঠাতে এমনভাবে বাধ্য হয়েছে যে, তা আর নিচের দিকে আনতে পারে না। ফলে এরা ঈমান আনয়নের পথে শিকলাবদ্ধ। তারা এটি মেনে নেয়ার জন্য সম্মত হবে না এবং এতদুদ্দেশ্যে তাদের মাথাও নত করবে না।
(২) ফলে এরা ঈমান আনয়নের পথে শিকলাবদ্ধ।
وَجَعَلۡنَا مِنۢ بَيۡنِ أَيۡدِيهِمۡ سَدّٗا وَمِنۡ خَلۡفِهِمۡ سَدّٗا فَأَغۡشَيۡنَٰهُمۡ فَهُمۡ لَا يُبۡصِرُونَ
অর্থ: আর আমি তাদের (সত্য গ্রহণের পথে) সামনে একটি প্রাচীর ও তাদের পিছনে একটি প্রাচীর স্থাপন করেছি। অতঃপর আমি তাদের (৩) ঢেকে দিয়েছি, ফলে তারা (হিদায়াত) দেখতে পায় না। (৩) দৃষ্টিকে সত্য দেখা থেকে ঢেকে দিয়েছি, তাই তারা হিদায়াতের পথ দেখতে পায় না।
তাফসীর: ৯. আমি তাদের সামনে ও পিছনে হক কবুলের পথে পর্দা দিয়েছি। আর তাদের চক্ষুকে হক থেকে ঢেকে দিয়েছি। ফলে তারা এরূপ দেখা থেকে বঞ্চিত হয়ে পড়েছে যেভাবে দেখলে উপকৃত হতে পারত। বস্তুতঃ তা তখনই ঘটেছে যখন তাদের হঠকারিতা ও কুফরির উপর গোঁড়ামী প্রকাশ পেয়েছে।
وَسَوَآءٌ عَلَيۡهِمۡ ءَأَنذَرۡتَهُمۡ أَمۡ لَمۡ تُنذِرۡهُمۡ لَا يُؤۡمِنُونَ
অর্থ: হে নবী! তুমি তাদেরকে সতর্ক কর অথবা না কর, তাদের কাছে উভয়ই সমান; তারা ঈমান আনবে না।
তাফসীর: ১০. হে মুহাম্মদ! হকের ক্ষেত্রে এসব হঠকারীদেরকে আপনার সতর্ক করা না করা উভয়ই সমান। তারা আল্লাহর পক্ষ থেকে আনিত আপনার কথায় বিশ্বাস করবে না।
অনুবাদ: রুওয়াদ অনুবাদ সেন্টার। তাফসীর: তাফসীর সেন্টার ফর কুরআনিক স্টাডিজ। উৎস QuranEnc.