সিরাতুল মুস্তাকিম অ্যাপ ডাউনলোড করুনGoogle Play
يَٰٓأَيُّهَا ٱلَّذِينَ ءَامَنُواْ لَا تَتَّخِذُواْ عَدُوِّي وَعَدُوَّكُمۡ أَوۡلِيَآءَ تُلۡقُونَ إِلَيۡهِم بِٱلۡمَوَدَّةِ وَقَدۡ كَفَرُواْ بِمَا جَآءَكُم مِّنَ ٱلۡحَقِّ يُخۡرِجُونَ ٱلرَّسُولَ وَإِيَّاكُمۡ أَن تُؤۡمِنُواْ بِٱللَّهِ رَبِّكُمۡ إِن كُنتُمۡ خَرَجۡتُمۡ جِهَٰدٗا فِي سَبِيلِي وَٱبۡتِغَآءَ مَرۡضَاتِيۚ تُسِرُّونَ إِلَيۡهِم بِٱلۡمَوَدَّةِ وَأَنَا۠ أَعۡلَمُ بِمَآ أَخۡفَيۡتُمۡ وَمَآ أَعۡلَنتُمۡۚ وَمَن يَفۡعَلۡهُ مِنكُمۡ فَقَدۡ ضَلَّ سَوَآءَ ٱلسَّبِيلِ
অর্থ: হে তোমরা যারা ঈমান এনেছ! তোমরা আমার ও তোমাদের শত্রুদেরকে বন্ধুরূপে গ্রহণ করো না, তোমরা তো তাদের প্রতি বন্ধুত্বের বার্তা প্রেরণ করছ; অথচ যে সত্য (দ্বীন) তোমাদের কাছে এসেছে তারা তা অস্বীকার করছে এবং রাসূলকে ও তোমাদেরকে এ অপরাধে (মক্কা থেকে) বহিষ্কার করেছে যে, তোমরা তোমাদের রব আল্লাহর প্রতি ঈমান এনেছো। তোমরা যদি আমার পথে জিহাদে ও আমার সন্তুষ্টি লাভের জন্যে বের হও, তবে কেন তোমরা তাদের সাথে গোপনে বন্ধুত্ব করছ? অথচ তোমরা যা গোপন করো এবং যা প্রকাশ করো তা আমি (আল্লাহ) জানি। তোমাদের মধ্যে যে এমন করবে, সে সরল পথ হতে বিচ্যুত হবে।(১)
তাফসীর: ১. হে মুমিন সম্প্রদায়! তোমরা যারা আল্লাহর উপর ঈমান আনয়ন করেছো ও তাঁর প্রবর্তিত বিধান অনুযায়ী আমল করে থাকো, তোমরা আমার ও তোমাদের শত্রæদেরকে বন্ধু হিসেবে গ্রহণ করো না; যাদেরকে তোমরা আপন জানবে ও ভালোবাসবে। অথচ তোমাদের নিকট তোমাদের রাসূলের পক্ষ থেকে যে দ্বীন এসেছে তারা সেটিকে অবিশ্বাস করছে। তারা রাসূলকে নিজ ঘর থেকে বের করে দেয়। তেমনিভাবে তোমাদেরকেও নিজেদের মক্কার ঘর থেকে বের করে দেয়। এ ক্ষেত্রে তারা নিকটাত্মীয় হওয়ার পরওয়া করে না। আর না জ্ঞাতি-বন্ধনের পরওয়া করে। এ সবের কারণ শুধু একটাই যে, তোমরা নিজেদের প্রতিপালক আল্লাহর উপর ঈমান আনয়ন করেছো। তাই তোমরা এ কাজ করো না, যদি তোমরা আমার পথে জিহাদ ও আমার সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে বেরিয়ে থাকো। তোমরা তাদের প্রতি ভালোবাসা প্রদর্শনমূলক তাদের নিকট মুসলমানদের সংবাদ গোপনে পৌঁছিয়ে থাকো। অথচ আমি তোমাদের প্রকাশ্য- অপ্রকাশ্য সব সংবাদই জানি। আমার নিকট এ সবের কোন কিছুই গোপন থাকে না। বস্তুতঃ যে ব্যক্তি কাফিরদের সাথে এ ভালোবাসা ও বন্ধুত্বের সম্পর্ক রাখবে সে সরল পথ থেকে বিচ্যুত হবে এবং সত্যভ্রষ্ট হয়ে সঠিক পন্থা হারাবে।
(১) হাতিব ইবনু আবী বালতা'আ রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু মক্কায় তার স্ত্রী ও সন্তানদের নিরাপত্তার জন্যে মক্কা বিজয়ের প্রস্তুতির সংবাদ গোপনে পত্রের মাধ্যম প্রেরণ করেন। এ প্রেক্ষাপটে উক্ত আয়াত নাযিল হয়।
إِن يَثۡقَفُوكُمۡ يَكُونُواْ لَكُمۡ أَعۡدَآءٗ وَيَبۡسُطُوٓاْ إِلَيۡكُمۡ أَيۡدِيَهُمۡ وَأَلۡسِنَتَهُم بِٱلسُّوٓءِ وَوَدُّواْ لَوۡ تَكۡفُرُونَ
অর্থ: (অথচ) তারা যদি তোমাদেরকে কাবু করতে পারে, তবে তারা তোমাদের শত্রুতে পরিণত হবে এবং হাত ও জবান দ্বারা তোমাদের ক্ষতি সাধন করবে। তারা কামনা করে যদি তোমরা কুফরী করতে!
তাফসীর: ২. তারা যদি তোমাদেরকে হাতের নাগালে পায় তাহলে তাদের অন্তরে লুক্কায়িত শত্রæতার বহিঃপ্রকাশ ঘটাবে এবং তোমাদের প্রতি কষ্ট প্রদান ও আঘাতের হাত প্রসারিত করবে। নিজেদের জিহŸাকে গালমন্দ দ্বারা প্রলন্বিত করবে এবং তারা আকাক্সক্ষা পোষণ করবে যে, যাতে তোমরা আল্লাহ ও তদীয় রাসূলের সাথে কুফরী করে তাদের মতো হয়ে যাও।
لَن تَنفَعَكُمۡ أَرۡحَامُكُمۡ وَلَآ أَوۡلَٰدُكُمۡۚ يَوۡمَ ٱلۡقِيَٰمَةِ يَفۡصِلُ بَيۡنَكُمۡۚ وَٱللَّهُ بِمَا تَعۡمَلُونَ بَصِيرٞ
অর্থ: কিয়ামত দিবসে তোমাদের আত্মীয়তা ও সন্তান-সন্ততি তোমাদের কোন উপকার করতে পারবে না। আল্লাহ তোমাদের মাঝে ফায়সালা করে দিবেন। তোমরা যা কর আল্লাহ তার সম্যক দ্রষ্টা।
তাফসীর: ৩. নিজেদের নিকটাত্মীয়তা কখনো তোমাদের কোন উপকার সাধন করবে না। আর না তোমাদের সন্তানরা। যখন তোমরা কাফিরদেরকে তাদের সুবিধার জন্য ভালোবাসবে। কিয়ামত দিবসে আল্লাহ তোমাদের মাঝে বিরহ সৃষ্টি করবেন। ফলে তোমাদের মধ্যকার জান্নাতীরা জান্নাতে প্রবেশ করবে। আর জাহান্নামীরা জাহান্নামে। অতএব, কেউ কারো উপকারে আসবে না। বস্তুতঃ আল্লাহ তোমাদের সকল কাজের সর্বদ্রষ্টা। তাঁর নিকট তোমাদের কোন আমলই গোপন থাকে না। তিনি অচিরেই তোমাদেরকে এর প্রতিদান দিবেন।
قَدۡ كَانَتۡ لَكُمۡ أُسۡوَةٌ حَسَنَةٞ فِيٓ إِبۡرَٰهِيمَ وَٱلَّذِينَ مَعَهُۥٓ إِذۡ قَالُواْ لِقَوۡمِهِمۡ إِنَّا بُرَءَٰٓؤُاْ مِنكُمۡ وَمِمَّا تَعۡبُدُونَ مِن دُونِ ٱللَّهِ كَفَرۡنَا بِكُمۡ وَبَدَا بَيۡنَنَا وَبَيۡنَكُمُ ٱلۡعَدَٰوَةُ وَٱلۡبَغۡضَآءُ أَبَدًا حَتَّىٰ تُؤۡمِنُواْ بِٱللَّهِ وَحۡدَهُۥٓ إِلَّا قَوۡلَ إِبۡرَٰهِيمَ لِأَبِيهِ لَأَسۡتَغۡفِرَنَّ لَكَ وَمَآ أَمۡلِكُ لَكَ مِنَ ٱللَّهِ مِن شَيۡءٖۖ رَّبَّنَا عَلَيۡكَ تَوَكَّلۡنَا وَإِلَيۡكَ أَنَبۡنَا وَإِلَيۡكَ ٱلۡمَصِيرُ
অর্থ: হে তোমরা যারা ঈমান এনেছ! তোমাদের জন্য অবশ্যই ইবরাহীম ও তার সাথে যারা ছিল তাদের মধ্যে রয়েছে উত্তম আদর্শ। তারা যখন স্বীয় (কাফির) সম্প্রদায়কে বলছিল: ‘তোমাদের সাথে এবং আল্লাহর পরিবর্তে তোমরা যা কিছুর উপাসনা করো, তা হতে আমরা সম্পর্কমুক্ত। আমরা তোমাদেরকে অস্বীকার করি এবং তোমাদের ও আমাদের মধ্যে সৃষ্টি হল শক্ৰতা ও বিদ্বেষ চিরকালের জন্য; যতক্ষণ না তোমরা এক আল্লাহর প্রতি ঈমান আনো।’ তবে স্বীয় পিতার প্রতি ইবরাহীমের উক্তিটি ব্যতিক্রম: ‘আমি অবশ্যই তোমার জন্য আল্লাহর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করবো, আর তোমার ব্যাপারে আল্লাহর কাছে আমি কোন অধিকার রাখি না।’(২) (ইবরাহীম ও তার অনুসারীগণ বলেছিল,) হে আমাদের রব, আমরা আপনার ওপরই তাওয়াক্কুল করি, আপনারই অভিমুখী হই আর প্রত্যাবর্তন তো আপনারই কাছে।
তাফসীর: ৪. হে মু’মিনরা! তোমাদের জন্য অবশ্যই ইবরাহীম (আলাইহিস-সালাম) ও তাঁর সঙ্গী মু’মিনদের জীবনীতে রয়েছে উত্তম আদর্শ। তারা যখন নিজেদের মধ্যকার কাফির জাতিকে বললো: আমরা তোমাদের থেকে এবং আল্লাহর পরিবর্তে তোমাদের পূজ্য দেবতাগুলো থেকে মুক্ত। তোমরা যে ধর্মের উপর রয়েছো আমরা তা অবিশ্বাস করলাম। আর তোমাদের ও আমাদের মাঝে শত্রæতা ও ঘৃণা প্রকাশ হয়ে পড়লো। যতক্ষণ না তোমরা এক আল্লাহর উপর ঈমান আনয়ন করবে ও তাঁর সাথে কাউকে শরীক করবে না। তাই তোমাদেরও উচিৎ যে, তোমরাও তাদের মতো নিজেদের মধ্যকার কাফির সম্প্রদায়ের সাথে সম্পর্ক বিচ্ছিন্ন করবে। তবে হ্যাঁ, ইবরাহীম (আলাইহিস-সালাম) নিজ পিতাকে যা বললো তা ভিন্ন কথা। যা ছিলো এই যে, আমি অবশ্যই আল্লাহর নিকট তোমার জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করবো। ফলে তোমরা তাতে তাঁর অনুসরণ করো না। কেননা, তা ছিলো ইবরাহীম (আলাইহিস-সালাম) কর্তৃক তাঁর পিতার ব্যাপারে নিরাশ হওয়ার পূর্বের ব্যাপার। তাই কোন মু’মিনের জন্য মুশরিকের উদ্দেশ্যে ক্ষমা চাওয়া উচিৎ নয়। বস্তুতঃ আমি আপনার উপর থেকে আল্লাহর শাস্তিকে প্রতিহত করতে মোটেও সক্ষম নই। হে আমাদের প্রতিপালক! আমরা নিজেদের সর্ব বিষয়ে আপনার উপর ভরসা করলাম এবং আপনার প্রতি তাওবা সহকারে প্রত্যাবর্তন করলাম। আর কিয়ামত দিবসে আপনার দিকেই প্রত্যাবর্তন।
(২) কেননা, পিতার জন্যে ইবরাহীম আলাইহিস সালামের এ দু‘আ ছিল তার পিতার ব্যাপারে নিরাশ হওয়ার পূর্বের ব্যাপার। মূল কথা হচ্ছে, কোন মু‘মিনের জন্য মুশরিকের উদ্দেশ্যে ক্ষমা চাওয়া উচিত নয়।
رَبَّنَا لَا تَجۡعَلۡنَا فِتۡنَةٗ لِّلَّذِينَ كَفَرُواْ وَٱغۡفِرۡ لَنَا رَبَّنَآۖ إِنَّكَ أَنتَ ٱلۡعَزِيزُ ٱلۡحَكِيمُ
অর্থ: ‘হে আমাদের রব, আপনি আমাদেরকে কাফিরদের উৎপীড়নের পাত্র বানাবেন না। হে আমাদের রব, আপনি আমাদের ক্ষমা করে দিন। নিশ্চয় আপনি মহাপরাক্রমশালী, প্রজ্ঞাময়।’
তাফসীর: ৫. হে আমাদের প্রতিপালক! আপনি আমাদের উপর কাফিরদেরকে বিজয়ী করে আমাদেরকে ফিৎনায় পরিণত করবেন না। তাতে করে তারা বলবে, যদি তারা সত্য পথের পথিক হতো তাহলে আমাদেরকে তাদের উপর বিজয় দেয়া হতো না। হে আমাদের প্রতিপালক! আমাদের পাপ ক্ষমা করুন। নিশ্চয়ই আপনি প্ররাক্রমশালী। যাঁকে পরাস্তকারী কেউ নেই। তিনি তাঁর সৃষ্টি, বিধান ও ফায়সালায় প্রজ্ঞাবান।
لَقَدۡ كَانَ لَكُمۡ فِيهِمۡ أُسۡوَةٌ حَسَنَةٞ لِّمَن كَانَ يَرۡجُواْ ٱللَّهَ وَٱلۡيَوۡمَ ٱلۡأٓخِرَۚ وَمَن يَتَوَلَّ فَإِنَّ ٱللَّهَ هُوَ ٱلۡغَنِيُّ ٱلۡحَمِيدُ
অর্থ: নিশ্চয় তোমাদের জন্য তাদের মধ্যে রয়েছে উত্তম আদর্শ, যারা আল্লাহর (ক্ষমা) ও শেষ দিবসের (কল্যাণ ও মুক্তির) প্রত্যাশা করে। আর যে ব্যক্তি (এ উত্তম আদর্শ থেকে) মুখ ফিরিয়ে নেয়, সে জেনে রাখুক, নিশ্চয় আল্লাহ তো অভাবমুক্ত, সপ্রশংসিত।
তাফসীর: ৬. এ উত্তম আদর্শ থেকে কেবল সে ব্যক্তিই শিক্ষা গ্রহণ করতে পারে যে আল্লাহর পক্ষ থেকে ইহকাল ও পরকালের কল্যাণ কামনা করে থাকে। পক্ষান্তরে যে ব্যক্তি এ উত্তম আদর্শ থেকে বিরত থাকে সে যেন জেনে রাখে যে, আল্লাহ নিজ বান্দাদের ইবাদাতের অমুখাপেক্ষী। তিনি তাদের আনুগত্যের মুখাপেক্ষী নন। বস্তুতঃ তিনি সর্বাবস্থায় প্রশংসিত।
۞ عَسَى ٱللَّهُ أَن يَجۡعَلَ بَيۡنَكُمۡ وَبَيۡنَ ٱلَّذِينَ عَادَيۡتُم مِّنۡهُم مَّوَدَّةٗۚ وَٱللَّهُ قَدِيرٞۚ وَٱللَّهُ غَفُورٞ رَّحِيمٞ
অর্থ: যাদের সাথে তোমরা শত্রুতা করছো, আশা করা যায়, আল্লাহ (৩)(তোমাদের শত্রুদেরকে ইসলামে দীক্ষিত করার মাধ্যমে) তোমাদের ও তাদের মধ্যে বন্ধুত্ব সৃষ্টি করে দিবেন।(৪) আর আল্লাহ সর্ব শক্তিমান এবং আল্লাহ অতিশয় ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু।
তাফসীর: ৭. হে মুমিনরা! হতে পারে আল্লাহ তোমাদের শ্রত্রæদেরকে ইসলামে দীক্ষিত করার মাধ্যমে তোমাদের ও তাদের মাঝে ভালোবাসা সৃষ্টি করবেন। ফলে তারা তোমাদের দ্বীনী ভাই হিসাবে পরিগণিত হবে। বস্তুতঃ আল্লাহ ক্ষমতাবান। তিনি তাদের অন্তরগুলোকে ঈমানের দিকে ফিরিয়ে দিতে সক্ষম। আল্লাহ তাঁর বান্দাদের মধ্যে যারা তাওবা করে তাদের প্রতি ক্ষমাশীল ও দয়াপরবশ।
(৩) তোমাদের শত্রুদেরকে ইসলামে দীক্ষিত করার মাধ্যমে (৪) এই ভবিষ্যদ্বাণী মক্কা বিজয়ের সময় বাস্তবরূপ লাভ করে। ফলে মক্কা বিজয়ের পরে অবশিষ্ট সকল কাফির মুসলিম হয়ে যায়।
لَّا يَنۡهَىٰكُمُ ٱللَّهُ عَنِ ٱلَّذِينَ لَمۡ يُقَٰتِلُوكُمۡ فِي ٱلدِّينِ وَلَمۡ يُخۡرِجُوكُم مِّن دِيَٰرِكُمۡ أَن تَبَرُّوهُمۡ وَتُقۡسِطُوٓاْ إِلَيۡهِمۡۚ إِنَّ ٱللَّهَ يُحِبُّ ٱلۡمُقۡسِطِينَ
অর্থ: দ্বীনের ব্যাপারে যারা তোমাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করেনি এবং তোমাদেরকে তোমাদের বাড়ি-ঘর থেকে বের করে দেয়নি, তাদের প্রতি সদয় ব্যবহার করতে এবং তাদের প্রতি ন্যায়বিচার করতে আল্লাহ তোমাদেরকে নিষেধ করছেন না। নিশ্চয় আল্লাহ ন্যায় পরায়ণদেরকে ভালোবাসেন।
তাফসীর: ৮. যারা ইসালামে দীক্ষিত হওয়ার দরুন তোমাদের সাথে যুদ্ধ করে নি আর তোমাদেরকে নিজেদের ঘর থেকে বের করে দেয় নি তাদের সাথে ভালো ব্যবহার দেখাতে আল্লাহ বাধা দেন না। তেমনিভাবে তাদের পাওনা বুঝিয়ে দিয়ে তাদের সাথে ইনসাফ করতেও কোন বাধা নেই। যেমন আসমা বিনতে আবী বকরের কাফির মা তাঁর নিকট আসলে তিনি নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এর নিকট এ ব্যাপারে অনুমতি চান। ফলে তিনি তাঁকে তার সাথে সদাচরণের নির্দেশ দেন। অবশ্যই আল্লাহ ইনসাফকারীদেরকে ভালোবাসেন। যারা নিজেদের সাথে এবং আপনজন ও অধীনস্থদের সাথে ইনসাফ করে।
إِنَّمَا يَنۡهَىٰكُمُ ٱللَّهُ عَنِ ٱلَّذِينَ قَٰتَلُوكُمۡ فِي ٱلدِّينِ وَأَخۡرَجُوكُم مِّن دِيَٰرِكُمۡ وَظَٰهَرُواْ عَلَىٰٓ إِخۡرَاجِكُمۡ أَن تَوَلَّوۡهُمۡۚ وَمَن يَتَوَلَّهُمۡ فَأُوْلَٰٓئِكَ هُمُ ٱلظَّٰلِمُونَ
অর্থ: আল্লাহ কেবল তাদের সাথেই বন্ধুত্ব করতে নিষেধ করেছেন, যারা দ্বীনের ব্যাপারে তোমাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করেছে এবং তোমাদেরকে তোমাদের ঘর-বাড়ি থেকে বের করে দিয়েছে ও তোমাদেরকে বের করে দেয়ার ব্যাপারে একে অন্যকে সহযোগিতা করেছে। এরপরও (তোমাদের মধ্যে) যারা তাদের সাথে বন্ধুত্ব করে, তারাই তো যালিম।
তাফসীর: ৯. আল্লাহ কেবল তাদের সাথে বন্ধুসুলভ ব্যবহার করতে নিষেধ করেন যারা ঈমান আনার কারণে তোমাদের সাথে শত্রæতা করে, তোমাদেরকে নিজেদের ঘর থেকে বের করে দেয় এবং তোমাদেরকে বের করার কাজে সহযোগিতা করে। বস্তুতঃ তোমাদের মধ্যে যারা তাদের সাথে বন্ধুত্ব রাখবে তারা আল্লাহর নির্দেশ লঙ্ঘন করার ফলে নিজেদের উপর অবিচারকারী হবে।
يَٰٓأَيُّهَا ٱلَّذِينَ ءَامَنُوٓاْ إِذَا جَآءَكُمُ ٱلۡمُؤۡمِنَٰتُ مُهَٰجِرَٰتٖ فَٱمۡتَحِنُوهُنَّۖ ٱللَّهُ أَعۡلَمُ بِإِيمَٰنِهِنَّۖ فَإِنۡ عَلِمۡتُمُوهُنَّ مُؤۡمِنَٰتٖ فَلَا تَرۡجِعُوهُنَّ إِلَى ٱلۡكُفَّارِۖ لَا هُنَّ حِلّٞ لَّهُمۡ وَلَا هُمۡ يَحِلُّونَ لَهُنَّۖ وَءَاتُوهُم مَّآ أَنفَقُواْۚ وَلَا جُنَاحَ عَلَيۡكُمۡ أَن تَنكِحُوهُنَّ إِذَآ ءَاتَيۡتُمُوهُنَّ أُجُورَهُنَّۚ وَلَا تُمۡسِكُواْ بِعِصَمِ ٱلۡكَوَافِرِ وَسۡـَٔلُواْ مَآ أَنفَقۡتُمۡ وَلۡيَسۡـَٔلُواْ مَآ أَنفَقُواْۚ ذَٰلِكُمۡ حُكۡمُ ٱللَّهِ يَحۡكُمُ بَيۡنَكُمۡۖ وَٱللَّهُ عَلِيمٌ حَكِيمٞ
অর্থ: হে মুমিনগণ! তোমাদের কাছে মু’মিন নারীরা হিজরত করে আসলে তোমরা তাদের (ঈমানের সত্যতা) পরীক্ষা করে দেখো। আল্লাহ তো তাদের ঈমান সম্পর্কে অধিক অবগত আছেন। অতঃপর যদি তোমরা জানতে পার যে, তারা সত্তিই মু’মিন নারী, তাহলে তাদেরকে আর কাফিরদের নিকট ফেরত পাঠিও না। কারণ মু’মিন নারীগণ কাফির স্বামীদের জন্য বৈধ নয় এবং কাফিররাও তাদের জন্য বৈধ নয়। কাফির স্বামীরা (মোহর হিসেবে) যা ব্যয় করেছে, তা তাদেরকে ফিরিয়ে দাও। তোমরা তাদেরকে বিয়ে করলে তোমাদের কোন অপরাধ হবে না, যদি তোমরা তাদেরকে তাদের প্রাপ্য মোহর প্রদান করো। আর তোমরা কাফির নারীদের সাথে বৈবাহিক সম্পর্ক বজায় রেখো না, তোমরা (৫) যা ব্যয় করেছ, তা তোমরা (তাদের কাফির স্বামীদের কাছে) ফেরত চাও। আর তারা (ইসলামে দীক্ষিতা স্ত্রীদের জন্যে) যা ব্যয় করেছে, তা যেন তারা তোমাদের কাছে চেয়ে নেয়। এটা (৬)আল্লাহর বিধান। তিনি তোমাদের মাঝে ফয়সালা করেন। আর আল্লাহ সর্বজ্ঞ, প্রজ্ঞাময়।
তাফসীর: ১০. হে মুমিন সম্প্রদায়! তোমরা যারা আল্লাহর উপর ঈমান এনেছো ও তাঁর প্রবর্তিত বিধান অনুযায়ী আমল করে থাকো তোমাদের নিকট যখন মুমিন নারীরা কুফরীর দেশ হতে ইসলামের দেশে হিজরত করে আসে তখন তোমরা তাদের ঈমানের সত্যতা যাচাই করবে। বস্তুতঃ আল্লাহ তাদের ঈমানের খবর জানেন। তাঁর নিকট তাদের অন্তরের কোন কিছুই গোপন থাকে না। যদি পরীক্ষার পর তাদের সত্যতা প্রকাশ পাওয়ার ভিত্তিতে তোমরা তাদের ঈমান সম্পর্কে নিশ্চিত হও তাহলে তাদেরকে নিজেদের কাফির স্বামীর কাছে ফেরত দিবে না। মুমিন নারীদের জন্য কাফির পুরুষদের সাথে বিয়ে বসা অবৈধ। আর কাফির পুরুষদের জন্য মুমিন নারীদেরকে বিয়ে করা অবৈধ। তবে তাদের স্বামীদেরকে তাদের প্রদত্ত মহর দিয়ে দাও। হে মুমিনরা! তোমরা তাদের ইদ্দত পার হওয়ার পর মহর পরিশোধ পূর্বক তাদেরকে বিয়ে করলে তাতে কোন বাধা নেই। বস্তুতঃ যার স্ত্রী কাফির কিংবা ইসলাম থেকে বেরিয়ে পড়েছে তাকে সে ধরে রাখবে না। কেননা, কুফরীর দরুন বিবাহ-বন্ধন ছুটে যায়। তোমরা কাফিরদের নিকট তোমাদের ধর্মচ্যুত স্ত্রীদেরকে দেয়া মহর ফেরত চাও। আর তারাও তোমাদের নিকট তাদের ইসলামে দীক্ষিতা স্ত্রীদের মহর ফেরত চাক। উপরোক্ত মহর আদান-প্রদান হলো আল্লাহর বিধান। তিনি তোমাদের মধ্যে যেভাবে ইচ্ছা ফয়সালা করেন। আল্লাহ স্বীয় বান্দাদের অবস্থা ও আমলের ব্যাপারে সম্যক অবগত। তাঁর নিকট এ সবের কোন কিছুই গোপন থাকে না। তিনি তাঁর বান্দাদের উদ্দেশ্যে যা প্রবর্তন করেন তাতে প্রজ্ঞাবান।
৫) ধর্মচ্যুত স্ত্রীদেরকে মোহর হিসেবে। (৬)উপরিউক্ত মোহর আদান-প্রদান হলো।
অনুবাদ: রুওয়াদ অনুবাদ সেন্টার। তাফসীর: তাফসীর সেন্টার ফর কুরআনিক স্টাডিজ। উৎস QuranEnc.