সিরাতুল মুস্তাকিম অ্যাপ ডাউনলোড করুনGoogle Play
حمٓ
অর্থ: হা-মীম।
তাফসীর: ১. হা-মীম, এ সব ব্যাপারে আলোচনা সূরা বাকারার শুরুতে অতিক্রান্ত হয়েছে।
تَنزِيلٞ مِّنَ ٱلرَّحۡمَٰنِ ٱلرَّحِيمِ
অর্থ: এ আল কুরআন পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর পক্ষ থেকে নাযিলকৃত।
তাফসীর: ২. এই কুরআন পরম করুণাময় অতি দয়ালু আল্লাহর পক্ষ থেকে অবতীর্ণ।
كِتَٰبٞ فُصِّلَتۡ ءَايَٰتُهُۥ قُرۡءَانًا عَرَبِيّٗا لِّقَوۡمٖ يَعۡلَمُونَ
অর্থ: এটি এমন এক কিতাব, যার আয়াতগুলো আল কুরআনরূপে আরবী ভাষায়, জ্ঞানী সম্প্রদায়ের জন্য বিশদভাবে বর্ণনা করা হয়েছে।(১)
তাফসীর: ৩. এটি এমন এক কিতাব যা আরবী কুরআনরূপে এসেছে এবং যার আয়াতগুলো জ্ঞানী সম্প্রদায়ের জন্য পর্যাপ্ত ও পূর্ণাঙ্গভাবে বর্ণনা করা হয়েছে। কেননা, তারাই এর অর্থ ও এর মধ্যকার হকের পথনির্দেশনা থেকে উপকৃত হয়।
(১) ফলে তারা এর অর্থ বুঝে ও এর দ্বারা সত্য পথের দিকে পরিচালিত হয়।
بَشِيرٗا وَنَذِيرٗا فَأَعۡرَضَ أَكۡثَرُهُمۡ فَهُمۡ لَا يَسۡمَعُونَ
অর্থ: সুসংবাদদাতা(২) ও সতর্ককারী(৩) হিসেবে (এ কুরআন অবতীর্ণ হয়েছে); কিন্তু তাদের অধিকাংশই মুখ ফিরিয়ে নিয়েছে। ফলে তারা তা শোনে না।
তাফসীর: ৪. মু’মিনদেরকে আল্লাহ কর্তৃক প্রস্তুতকৃত মহা পুরস্কারের সুসংবাদ প্রদান ও কাফিরদেরকে আল্লাহর কষ্টদায়ক শাস্তি থেকে ভীতি প্রদর্শক হিসাবে এটি অবতীর্ণ হয়েছে। কিন্তু তাদের বেশীর ভাগই বিমুখ হয়েছে। ফলে তারা এর মধ্যকার হেদায়েতের বাণীগুলো গ্রহণ করার উদ্দেশ্যে শ্রবণ করে না।
(২) এ কিতাব হচ্ছে মু’মিনদের জন্যে জান্নাতের। (৩) কাফিরদের জন্যে জাহান্নাম থেকে।
وَقَالُواْ قُلُوبُنَا فِيٓ أَكِنَّةٖ مِّمَّا تَدۡعُونَآ إِلَيۡهِ وَفِيٓ ءَاذَانِنَا وَقۡرٞ وَمِنۢ بَيۡنِنَا وَبَيۡنِكَ حِجَابٞ فَٱعۡمَلۡ إِنَّنَا عَٰمِلُونَ
অর্থ: আর তারা বলে: ‘(হে মুহাম্মাদ) তুমি আমাদেরকে যে বিষয়ের দিকে দাওয়াত দিচ্ছ, সে বিষয়ে আমাদের অন্তরসমূহ আচ্ছাদিত (তালাবদ্ধ), আমাদের কানের মধ্যে রয়েছে বধিরতা(৪) আর তোমার ও আমাদের মধ্যে রয়েছে অন্তরায়।(৫) অতএব তুমি তোমার কাজ করে যাও, নিশ্চয় আমরাও আমাদের কাজ করে যাব।(৬)
তাফসীর: ৫. আর তারা বলে, আমাদের অন্তরগুলো তালাবদ্ধ হয়ে আছে। ফলে সেগুলো তোমরা যে বিষয়ের প্রতি আমাদেরকে আহŸান করছো তা বুঝে না। আমাদের কানে তুলা রয়েছে। ফলে সেগুলো তা শ্রবণ করে না। আর আমাদের ও তোমার মাঝে অন্তরায় রয়েছে। ফলে তোমার কথা আমাদের নিকট পৌঁছে না। তাই তুমি তোমার নিয়মানুযায়ী আমল করো। আর আমরা আমাদের নিয়মানুযায়ী কাজ করতে থাকি। আমরা তোমার অনুসরণ করবো না।
(৪) ফলে তোমার কথা আমাদের কান শ্রবণ করে না। (৫) ফলে তোমার কথা আমাদের নিকট পৌঁছে না। (৬) আমরা কখনোই তোমার অনুসরণ করবো না।
قُلۡ إِنَّمَآ أَنَا۠ بَشَرٞ مِّثۡلُكُمۡ يُوحَىٰٓ إِلَيَّ أَنَّمَآ إِلَٰهُكُمۡ إِلَٰهٞ وَٰحِدٞ فَٱسۡتَقِيمُوٓاْ إِلَيۡهِ وَٱسۡتَغۡفِرُوهُۗ وَوَيۡلٞ لِّلۡمُشۡرِكِينَ
অর্থ: হে রাসূল! তুমি বল: ‘আমি কেবল তোমাদের মত একজন মানুষ। আমার কাছে এ মর্মে ওহী পাঠানো হয় যে, তোমাদের (সত্য) ইলাহ কেবল এক ইলাহ। অতএব তোমরা তাঁর পথে দৃঢ়ভাবে অটল থাক এবং তাঁর কাছে ক্ষমা চাও।’ আর মুশরিকদের জন্য দুর্ভোগ;
তাফসীর: ৬. হে রাসূল! আপনি এসব অবাধ্যদেরকে বলুন, আমার নিকট কেবল এ মর্মে প্রত্যাদেশ এসেছে যে, তোমাদের প্রকৃত মা’বূদ হলেন কেবল একজন। আর তিনি হলেন আল্লাহ। অতএব, তোমরা তাঁর জন্যই ইবাদাতকে একনিষ্ঠ করো এবং পাপের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করো। যারা গাইরুল্লাহর ইবাদাতকারী কিংবা তাঁর সঙ্গে অন্যকে অংশী স্থাপনকারী তারা সুস্পষ্টভাবে ক্ষতিগ্রস্ত।
ٱلَّذِينَ لَا يُؤۡتُونَ ٱلزَّكَوٰةَ وَهُم بِٱلۡأٓخِرَةِ هُمۡ كَٰفِرُونَ
অর্থ: যারা যাকাত দেয় না। আর তারাই আখিরাতের অস্বীকারকারী।
তাফসীর: ৭. যারা স্বীয় সম্পদের যাকাত প্রদান করে না এবং তারা পরকালকে ও তার স্থায়ী নি‘আমত ও কষ্টদায়ক শাস্তিকে অবিশ্বাস করে।
إِنَّ ٱلَّذِينَ ءَامَنُواْ وَعَمِلُواْ ٱلصَّٰلِحَٰتِ لَهُمۡ أَجۡرٌ غَيۡرُ مَمۡنُونٖ
অর্থ: নিশ্চয় যারা ঈমান আনে এবং সৎকাজ করে তাদের জন্য রয়েছে, নিরবচ্ছিন্ন চিরস্থায়ী প্রতিদান (জান্নাত)।
তাফসীর: ৮. আর যারা আল্লাহ ও তদীয় রাসূলগণে বিশ্বাসী হওয়ার পাশাপাশী নেক আমল করে তাদের জন্য রয়েছে অবিচ্ছিন্ন চিরস্থায়ী নি‘আমত তথা জান্নাত।
۞ قُلۡ أَئِنَّكُمۡ لَتَكۡفُرُونَ بِٱلَّذِي خَلَقَ ٱلۡأَرۡضَ فِي يَوۡمَيۡنِ وَتَجۡعَلُونَ لَهُۥٓ أَندَادٗاۚ ذَٰلِكَ رَبُّ ٱلۡعَٰلَمِينَ
অর্থ: বলুন, ‘তোমরা কি সত্যিই তাঁকে অস্বীকার করছ, যিনি দুই দিনে(৭) পৃথিবী সৃষ্টি করেছেন? আর তোমরা তাঁর জন্য সমকক্ষ স্থির করছ? তিনিই তো সকল জগতের রব।’
তাফসীর: ৯. হে রাসূল! আপনি মুশরিকদেরকে ধমকির স্বরে বলুন, তোমরা কেন সেই আল্লাহকে অবিশ্বাস করো যিনি রবি ও সোম এই দু’দিনে যমীনকে সৃষ্টি করেছেন। উপরন্তু তাঁর জন্য সমকক্ষ স্থির করে তাদের ইবাদাত করছো?! অথচ তিনি সকল সৃষ্টিকুলের স্রষ্টা।
(৭) রবিবার ও সোমবার।
وَجَعَلَ فِيهَا رَوَٰسِيَ مِن فَوۡقِهَا وَبَٰرَكَ فِيهَا وَقَدَّرَ فِيهَآ أَقۡوَٰتَهَا فِيٓ أَرۡبَعَةِ أَيَّامٖ سَوَآءٗ لِّلسَّآئِلِينَ
অর্থ: আর তিনি জমিনের উপরিভাগে দৃঢ় পর্বতমালা স্থাপন করেছেন এবং তাতে বরকত দিয়েছেন, আর তিনি চারদিনের মধ্যে(৮) তাতে জীবিকা নির্ধারণ করে দিয়েছেন। এ সম্পর্কে যারা জানতে চায়, তাদের জন্য এটাই হবে সঠিক উত্তর।
তাফসীর: ১০. আর তার উপর সুদৃঢ় পাহাড় স্থির করেছেন। যাতে করে তাকে স্থির রাখে এবং সেগুলো নড়াচড়া না করে। আর চার দিনে তাতে মানুষ ও পশুকুলের জীবিকা নির্ধারণ করেছেন। যা পূর্বের দু’দিনের পরিপূরক। সে দিনদু’টো হলো মঙ্গল ও বুধ। এগুলো সম্পর্কে যে জিজ্ঞেস করতে চায় তার জন্য এটাই হবে সঠিক উত্তর।
(৮) অর্থাৎ পূর্বের দু’দিন, রবিবার ও সোমবার এবং মঙ্গল ও বুধ।
অনুবাদ: রুওয়াদ অনুবাদ সেন্টার। তাফসীর: তাফসীর সেন্টার ফর কুরআনিক স্টাডিজ। উৎস QuranEnc.