সিরাতুল মুস্তাকিম অ্যাপ ডাউনলোড করুনGoogle Play
إِذَا جَآءَكَ ٱلۡمُنَٰفِقُونَ قَالُواْ نَشۡهَدُ إِنَّكَ لَرَسُولُ ٱللَّهِۗ وَٱللَّهُ يَعۡلَمُ إِنَّكَ لَرَسُولُهُۥ وَٱللَّهُ يَشۡهَدُ إِنَّ ٱلۡمُنَٰفِقِينَ لَكَٰذِبُونَ
অর্থ: হে রাসূল! যখন তোমার কাছে মুনাফিকরা আসে, তখন তারা বলে: ‘আমরা সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, নিশ্চয় আপনি আল্লাহর রাসূল।’ এবং আল্লাহ জানেন যে, অবশ্যই তুমি তাঁর রাসূল। আর আল্লাহ সাক্ষ্য দিচ্ছেন যে, অবশ্যই মুনাফিকরা মিথ্যাবাদী।
তাফসীর: ১. হে রাসূল! যখন আপনার মজলিসে ইসলাম প্রকাশকারী ও কুফরী গোপনকারী মুনাফিকরা উপস্থিত হয় তখন তারা বলে: আমরা সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, নিশ্চয়ই আপনি আল্লাহর সত্য রাসূল। আল্লাহ জানেন যে, নিশ্চয়ই আপনি তাঁর সত্য রাসূল এবং আল্লাহ এটিও জানেন যে, মুনাফিকরা আপনি আল্লাহর রাসূল হওয়ার মর্মে তাদের অন্তর থেকে যে সাক্ষীর দাবি করে তাতে তারা মিথ্যুক।
ٱتَّخَذُوٓاْ أَيۡمَٰنَهُمۡ جُنَّةٗ فَصَدُّواْ عَن سَبِيلِ ٱللَّهِۚ إِنَّهُمۡ سَآءَ مَا كَانُواْ يَعۡمَلُونَ
অর্থ: তারা তাদের (ঈমানের দাবির ওপর কৃত) শপথগুলোকে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করেছে। অতঃপর (এর আড়ালে মানুষকে) তারা আল্লাহর পথ থেকে বিরত রেখেছে। নিশ্চয় তারা যা করে এসেছে, তা কতই না নিকৃষ্ট!
তাফসীর: ২. তারা নিজেদের ঈমানের দাবীর উপর কৃত শপথকে হত্যা ও বন্দী থেকে মুক্তির বাহানা বানিয়েছে এবং মানুষকে সন্দেহ ও বিভ্রান্তিতে ফেলে দিয়ে তাদেরকে ঈমান থেকে ফিরিয়ে রেখেছে। তারা যে মিথ্যা শপথ ও মুনাফিকী করছে তা কতোইনা মন্দ আচরণ!
ذَٰلِكَ بِأَنَّهُمۡ ءَامَنُواْ ثُمَّ كَفَرُواْ فَطُبِعَ عَلَىٰ قُلُوبِهِمۡ فَهُمۡ لَا يَفۡقَهُونَ
অর্থ: এটা এ জন্য যে, তারা (মুনাফিকীর ছলে) ঈমান এনেছে, তারপর কুফরী করেছে। ফলে তাদের অন্তরসমূহে মোহর লাগিয়ে দেয়া হয়েছে। তাই তারা (১) বুঝতে পারছে না।
তাফসীর: ৩. তা এ জন্য যে, তারা মুনাফিকীর ছলে ঈমান এনেছে এবং তা তাদের অন্তরে পৌঁছে নি। অতঃপর তারা গোপনে আল্লাহকে অস্বীকার করেছে। ফলে তিনি তাদের কুফরীর দরুন তাদের অন্তরে মোহর লাগিয়ে দিয়েছেন। তাই তা তাদের অন্তরে প্রবেশ করে না এবং তারা এই মোহরের কারণে তাদের কোন্ কাজে কল্যাণ ও সুপথ রয়েছে তা বুঝতে পারে না।
(১) তাদের কল্যাণ ও হিদায়েতের পথ।
۞ وَإِذَا رَأَيۡتَهُمۡ تُعۡجِبُكَ أَجۡسَامُهُمۡۖ وَإِن يَقُولُواْ تَسۡمَعۡ لِقَوۡلِهِمۡۖ كَأَنَّهُمۡ خُشُبٞ مُّسَنَّدَةٞۖ يَحۡسَبُونَ كُلَّ صَيۡحَةٍ عَلَيۡهِمۡۚ هُمُ ٱلۡعَدُوُّ فَٱحۡذَرۡهُمۡۚ قَٰتَلَهُمُ ٱللَّهُۖ أَنَّىٰ يُؤۡفَكُونَ
অর্থ: তারা (যখন তোমার বৈঠকে বসে) যেন দেয়ালে ঠেস দেয়া (নিষ্প্রাণ) কাঠের গুঁড়ি (অপদার্থ)। তারা প্রত্যেক আওয়াজকেই নিজেদের বিরুদ্ধে মনে করে। তারাই প্রকৃত শত্রু; অতএব, তাদের সম্পর্কে সতর্ক থাকো। আল্লাহ তাদের ধ্বংস করুন! তারা কীভাবে সত্য থেকে ফিরিয়ে নেওয়া হচ্ছে!"
তাফসীর: ৪. হে দৃষ্টিপাতকারী! তুমি যখন তাদেরকে দেখবে তখন তাদের উজ্জল ও তরুতাজা আকার-আকৃতি তোমাকে অভিভূত করবে। যদি তারা কথা বলে তাহলে তুমি তাদের কথা শ্রবণ করবে। কেননা, তা অলঙ্কৃত। হে রাসূল! আপনার বৈঠকে তারা যেন সাজিয়ে রাখা কাষ্ঠখÐ তথা বিবেকহীন দেহ মাত্র। কোন কিছুই বুঝে না ও ধারণ করে না। তারা কাপুরুষ হওয়ার দরুন প্রত্যেকটি শব্দকে বজ্র মনে করে। তারাই প্রকৃত শত্রæ। তাই তাদের থেকে সাবধান থাকুন হে রাসূল! যেন তারা আপনার কোন গোপন তথ্য ফাঁস করতে না পারে কিংবা আপনার উদ্দেশ্যে কোন দুরভিসন্ধি আঁটতে না পারে। আল্লাহ তাদেরকে অভিশাপ দিয়েছেন। কীভাবে তারা সুস্পষ্ট দলীল প্রমাণ থাকা সত্তে¡ও সত্যভ্রষ্ট হয়?!
وَإِذَا قِيلَ لَهُمۡ تَعَالَوۡاْ يَسۡتَغۡفِرۡ لَكُمۡ رَسُولُ ٱللَّهِ لَوَّوۡاْ رُءُوسَهُمۡ وَرَأَيۡتَهُمۡ يَصُدُّونَ وَهُم مُّسۡتَكۡبِرُونَ
অর্থ: আর এ সব মুনাফিককে যখন বলা হয়, ‘এসো, আল্লাহর রাসূল তোমাদের (প্রকাশিত অপরাধের) জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করবেন’, তখন তারা অবজ্ঞাভরে তাদের মাথা ঘুরিয়ে নেয়। আর তুমি তাদেরকে দেখতে পাবে, তারা অহংকারভরে বিমুখ হয়ে আছে।
তাফসীর: ৫. যখন এ সব মুনাফিককে বলা হয়, তোমরা আল্লাহর রাসূলের নিকট নিজেদের পক্ষ থেকে প্রকাশিত অপরাধের ব্যাপারে ক্ষমা চাইতে আসো, তিনি তোমাদের উদ্দেশ্যে আল্লাহর নিকট ক্ষমা চাইবেন তখন তারা ঠাট্টা ও বিদ্রƒপমূলকভাবে নিজেদের মাথা ঘুরিয়ে ফেলে। আর আপনি তাদেরকে দেখবেন, যে ব্যাপারে তাদেরকে নির্দেশ দেয়া হয় তা থেকে তারা মুখ ফিরিয়ে নেয়। বস্তুতঃ তারা সত্য গ্রহণ ও তার প্রতি বশ্যতা স্বীকার থেকে অহঙ্কারবশত দূরে থাকে।
سَوَآءٌ عَلَيۡهِمۡ أَسۡتَغۡفَرۡتَ لَهُمۡ أَمۡ لَمۡ تَسۡتَغۡفِرۡ لَهُمۡ لَن يَغۡفِرَ ٱللَّهُ لَهُمۡۚ إِنَّ ٱللَّهَ لَا يَهۡدِي ٱلۡقَوۡمَ ٱلۡفَٰسِقِينَ
অর্থ: হে রাসূল! তুমি তাদের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করো অথবা না করো, উভয়টি তাদের ক্ষেত্রে সমান। আল্লাহ তাদেরকে কখনোই ক্ষমা করবেন না। অবশ্যই আল্লাহ পাপাচারী সম্প্রদায়কে হিদায়াত দেন না।
তাফসীর: ৬. হে রাসূল! তাদের পাপগুলোর উদ্দেশ্যে আপনার ক্ষমা চাওয়া আর না চাওয়া উভয়ই সমান। আল্লাহ তাদের পাপগুলো আদৗ ক্ষমা করবেন না। আল্লাহ তাঁর আনুগত্যের বাইরে থাকা সম্প্রদায়কে কখনো তাওফীক প্রদান করেন না। যারা তাঁর অবাধ্যতার উপর সর্বদা অটল ও অবিচল।
هُمُ ٱلَّذِينَ يَقُولُونَ لَا تُنفِقُواْ عَلَىٰ مَنۡ عِندَ رَسُولِ ٱللَّهِ حَتَّىٰ يَنفَضُّواْۗ وَلِلَّهِ خَزَآئِنُ ٱلسَّمَٰوَٰتِ وَٱلۡأَرۡضِ وَلَٰكِنَّ ٱلۡمُنَٰفِقِينَ لَا يَفۡقَهُونَ
অর্থ: তারাই (এসব মুনাফিকরাই) বলে: যারা আল্লাহর রাসূলের কাছে আছে, তোমরা তাদের জন্য খরচ করো না; যতক্ষণ না তারা তার কাছ থেকে সরে যায়। আর আসমানসমূহ ও জমিনের ধন-ভাণ্ডার তো আল্লাহরই; কিন্তু মুনাফিকরা তা বুঝে না।
তাফসীর: ৭. তারাই বলে: তোমরা নিজেদের সম্পদগুলো রাসূলের নিকট থাকা ফকীর ও মদীনার আশপাশের বেদুঈনদের উপর খরচ করো না। যাতে তারা তাঁর থেকে দূরে সরে পড়ে। বস্তুতঃ আসমান ও যমীনসমূহের ভাÐার এককভাবে আল্লাহর। তিনি তাঁর বান্দাদের মধ্যে যাকে ইচ্ছা জীবিকা দিয়ে থাকেন। তবে মুনাফিকরা এ কথা জানে না যে, জীবিকার ভাÐারগুলো মহান আল্লাহর হাতে।
يَقُولُونَ لَئِن رَّجَعۡنَآ إِلَى ٱلۡمَدِينَةِ لَيُخۡرِجَنَّ ٱلۡأَعَزُّ مِنۡهَا ٱلۡأَذَلَّۚ وَلِلَّهِ ٱلۡعِزَّةُ وَلِرَسُولِهِۦ وَلِلۡمُؤۡمِنِينَ وَلَٰكِنَّ ٱلۡمُنَٰفِقِينَ لَا يَعۡلَمُونَ
অর্থ: তারা বলে: ‘(এবার) যদি আমরা মদীনায় ফিরে যাই তাহলে সেখান থেকে (আমাদের) শক্তিশালীরা(২) অবশ্যই দুর্বলদেরকে(৩) বহিষ্কার করবে।’ অথচ সকল মর্যাদা তো আল্লাহর, তাঁর রাসূলের ও মু’মিনদেরই; কিন্তু মুনাফিকরা তা জানে না।
তাফসীর: ৮. তাদের নেতা আব্দুল্লাহ ইবনু উবাই বলে: আমরা যদি মদীনায় ফেরত যাই তাহলে আমাদের মধ্যে যারা সম্মানী তথা আমি ও আমার জাতি যারা অসম্মানী তথা মোহাম্মদ ও তার সাথীদেরকে অবশ্যই সেখান থেকে বের করে দেবো। অথচ সম্মান তো কেবল আল্লাহ, তদীয় রাসূল ও মুমিনদের জন্য। তা আব্দুল্লাহ ইবনু উবাই ও তার সাথীদের জন্য নয়। কিন্তু মুনাফিকরা জানে না যে, সম্মান মূলতঃ আল্লাহ, তদীয় রাসূল ও মুমিনদের জন্য।
(২) আব্দুল্লাহ ইবনু উবাই ও তার সাথীরা। (৩) মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু ‘আলাহি ওয়া সাল্লাম ও তার সাথীদেরকে।
يَٰٓأَيُّهَا ٱلَّذِينَ ءَامَنُواْ لَا تُلۡهِكُمۡ أَمۡوَٰلُكُمۡ وَلَآ أَوۡلَٰدُكُمۡ عَن ذِكۡرِ ٱللَّهِۚ وَمَن يَفۡعَلۡ ذَٰلِكَ فَأُوْلَٰٓئِكَ هُمُ ٱلۡخَٰسِرُونَ
অর্থ: হে তোমরা যারা ঈমান এনেছ! তোমাদের ধন-সম্পদ ও সন্তান- সন্ততি যেন তোমাদেরকে আল্লাহর স্মরণ (সালাত ইত্যাদি) থেকে উদাসীন না করে। আর যারা এরূপ করে তারাই তো ক্ষতিগ্রস্ত।
তাফসীর: ৯. হে মুমিন সম্প্রদায়! তোমরা যারা আল্লাহর উপর ঈমান এনেছো এবং তোমাদের উদ্দেশ্যে তাঁর রচিত বিধান অনুযায়ী আমল করে থাকো তোমাদের ধন-সম্পদ ও সন্তান-সন্ততি যেন ইসলামের ফরয বিধি-বিধান তথা নামায ইত্যাদি থেকে তোমাদেরকে উদাসীন করতে না পারে। বস্তুতঃ যাদের ধন-সম্পদ ও সন্তান-সন্ততি তাদেরকে আল্লাহ ফরয ইবাদাত তথা নামায ইত্যাদি থেকে ব্যস্ত রাখে তারা সত্যিই ক্ষতিগ্রস্ত। যারা কিয়ামতের দিন নিজেদেরকে ও তাদের পরিবাবর্গকে ক্ষতির সম্মুখীন করবে।
وَأَنفِقُواْ مِن مَّا رَزَقۡنَٰكُم مِّن قَبۡلِ أَن يَأۡتِيَ أَحَدَكُمُ ٱلۡمَوۡتُ فَيَقُولَ رَبِّ لَوۡلَآ أَخَّرۡتَنِيٓ إِلَىٰٓ أَجَلٖ قَرِيبٖ فَأَصَّدَّقَ وَأَكُن مِّنَ ٱلصَّٰلِحِينَ
অর্থ: আর আমি (আল্লাহ) তোমাদেরকে যে রিযক দিয়েছি, তা থেকে ব্যয় করো, তোমাদের মৃত্যু আসার পূর্বে। কেননা (মৃত্যু আসলে) তখন সে বলবে: হে আমার রব, যদি আপনি আমাকে আরো কিছু কাল পর্যন্ত অবকাশ দিতেন, তাহলে আমি দান-সাদাকা করতাম এবং সৎকর্মপরায়ণদের অন্তর্ভুক্ত হতাম।
তাফসীর: ১০. তোমরা আল্লাহ প্রদত্ত সম্পদ থেকে ব্যয় করো তোমাদের কারো নিকট মৃত্যু হাজির হওয়ার পূর্বে। যখন সে স্বীয় রবকে বলবে: হে আমার প্রতিপালক! আপনি কেন আমার জন্য একটুখানি সময় পিছিয়ে দিলেন না। যাতে করে আমি নিজ সম্পদ থেকে আল্লাহর পথে দান করতাম এবং আল্লাহর সৎ বান্দাদের অন্তর্ভুক্ত হতাম। যাদের আমল সংশোধন হয়েছে।
অনুবাদ: রুওয়াদ অনুবাদ সেন্টার। তাফসীর: তাফসীর সেন্টার ফর কুরআনিক স্টাডিজ। উৎস QuranEnc.