সিরাতুল মুস্তাকিম অ্যাপ ডাউনলোড করুনGoogle Play
صٓۚ وَٱلۡقُرۡءَانِ ذِي ٱلذِّكۡرِ
অর্থ: সোয়াদ; উপদেশপূর্ণ কুরআনের শপথ।(১)
তাফসীর: ১. সা-দ, এসব বিচ্ছিন্ন অক্ষরের অর্থের ব্যাপারে আলোচনা সূরা বাক্বারার শুরুতে করা হয়েছে। কুরআনের নামে আল্লাহ শপথ করেছেন। যাতে মানুষের ইহকালীন ও পরকালীন উপকারী বিষয়াদি বিবৃত হয়েছে। এটা মুশরিকদের ধারণা অনুযায়ী আল্লাহর সাথে অন্য শরীক প্রমাণ করার জন্য নয়।
(১) এ আল কুরআনে মানুষের ইহকালীন ও পরকালীন উপকারি বিষয়াদি বিবৃত হয়েছে।
بَلِ ٱلَّذِينَ كَفَرُواْ فِي عِزَّةٖ وَشِقَاقٖ
অর্থ: বরং যারা কুফরি করেছে, তারা অহংকার ও সত্যের বিরোধিতায় নিমজ্জিত রয়েছে।(২)
তাফসীর: ২. কিন্তু কাফিররা আল্লাহর একত্ববাদের ক্ষেত্রে ভÐামী ও অহংকার এবং নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এর সাথে বিরুদ্ধাচরণ ও শত্রæতায় লিপ্ত থাকে।
(২) তারা আল্লাহর একত্ববাদ ও নবী মুহাম্মাদের রিসালাতের মিথ্যারোপ ও বিরোধিতায় আকুন্ঠ নিমজ্জিত ছিলো।
كَمۡ أَهۡلَكۡنَا مِن قَبۡلِهِم مِّن قَرۡنٖ فَنَادَواْ وَّلَاتَ حِينَ مَنَاصٖ
অর্থ: তাদের পূর্বে আমি কত বংশধরকে ধ্বংস করেছি। তখন তারা আর্তচিৎকার করেছিল; কিন্তু তখন (শাস্তি থেকে) পলায়নের কোন সময় ছিল না।
তাফসীর: ৩. আমি তাদের পূর্বে কতো জাতিকে ধ্বংস করেছি। যারা নিজেদের রাসূলদের প্রতি মিথ্যারোপ করেছে। অতঃপর তারা আবার নিজেদের উপর শাস্তি আপতিত হলে আর্তনাদ করেছে। অথচ সেটি শাস্তি থেকে রেহাই পাওয়ার এমন সময় ছিলো না যে, তাতে তাদের আর্তনাদ কোন কাজে আসবে।
وَعَجِبُوٓاْ أَن جَآءَهُم مُّنذِرٞ مِّنۡهُمۡۖ وَقَالَ ٱلۡكَٰفِرُونَ هَٰذَا سَٰحِرٞ كَذَّابٌ
অর্থ: আর তারা আশ্চার্যান্বিত হয়েছে যে, তাদের কাছে তাদের মধ্য থেকেই একজন সতর্ককারী (রাসূল) এসেছে এবং কাফিররা বলে: ‘এ তো জাদুকর, মিথ্যাবাদী।’
তাফসীর: ৪. যখন তাদের নিকট তাদের মধ্য থেকে একজন রাসূল এ কথা নিয়ে আগমন করলেন যে, যদি তারা কুফরির উপর অটল থাকে তবে তাদের জন্য শাস্তির ভয় রয়েছে তখন তারা আশ্চার্যান্বিত হয়ে গেলো। কাফিররা যখন মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) কর্তৃক আনিত বিষয়ের সত্যতার প্রমাণ প্রত্যক্ষ করলো তখন তারা বললো: এতো একজন যাদুকর। যে মানুষকে যাদু করে বেড়াচ্ছে। সে দাবি করছে যে, সে আল্লাহর পক্ষ থেকে প্রেরিত এমন রাসূল যার উপর তিনি ওহী নাযিল করেন। আসলে সে মহা মিথ্যাবাদী।
أَجَعَلَ ٱلۡأٓلِهَةَ إِلَٰهٗا وَٰحِدًاۖ إِنَّ هَٰذَا لَشَيۡءٌ عُجَابٞ
অর্থ: ‘সে কি সকল উপাস্যকে এক ইলাহ বানিয়ে নিয়েছে? নিশ্চয় এ তো এক আশ্চর্য বিষয়!’
তাফসীর: ৫. সে ব্যক্তি কি বহু দেবতাকে এক দেবতায় পরিণত করতে চায়। যে তিনি ব্যতীত আর কোন দেবতা নেই?! তার এই আচরণ চূড়ান্ত পর্যায়ের উদ্ভট কাজ।
وَٱنطَلَقَ ٱلۡمَلَأُ مِنۡهُمۡ أَنِ ٱمۡشُواْ وَٱصۡبِرُواْ عَلَىٰٓ ءَالِهَتِكُمۡۖ إِنَّ هَٰذَا لَشَيۡءٞ يُرَادُ
অর্থ: আর তাদের গণ্যমান্য ও মোড়লরা চলে গেল একথা বলে যে, ‘তোমরা চলে যাও এবং তোমাদের উপাস্যগুলোর ওপর অবিচল থাক। নিশ্চয় (মুহাম্মাদের এক ইলাহের ইবাদাতের) এ বিষয়টি উদ্দেশ্য প্রণোদিত।’
তাফসীর: ৬. আর তাদের গণ্যমান্য ও মোড়লরা তাদের অনুসারীদেরকে এই বলে চললো যে, তোমরা যে আদর্শের উপর রয়েছো তার উপর অবিচল থাকো। তোমরা মুহাম্মাদের ধর্মে প্রবেশ করো না। বরং তোমাদের দেবতাদের ইবাদাতের উপর অটল থাকো। মুহাম্মদ যে এক দেবতার ইবাদাতের প্রতি আহŸান জানাচ্ছে তা হলো একটি পরিকল্পিত বিষয়। যদ্বারা সে আমাদের উপর কর্তৃত্ব চালাতে ও আমাদেরকে তার অনুসারী বানাতে চায়।
مَا سَمِعۡنَا بِهَٰذَا فِي ٱلۡمِلَّةِ ٱلۡأٓخِرَةِ إِنۡ هَٰذَآ إِلَّا ٱخۡتِلَٰقٌ
অর্থ: আমরা তো সাম্প্রতিক ধর্মমতে ((মুহাম্মাদের তাওহীদের) এ কথা শুনিনি।(৩) এটি তো নিছক মিথ্যা-বানোয়াট কথা ছাড়া আর কিছু নয়।
তাফসীর: ৭. আমরা আমাদের বাপ-দাদার জীবনাদর্শে আল্লাহর একত্ববাদের যে কথা মুহাম্মদ বলছে তা কখনো শুনিনি। আর না তা ঈসা (আলাইহিস-সালাম) এর ধর্মে ছিলো। বরং আমরা যা শুনছি তা কেবল মিথ্যা আর অপবাদ।
(৩) অর্থাৎ আমরা আমাদের বাপ-দাদার জীবনাদর্শে বা ঈসা আলাইহিস সালামের ধর্মে আল্লাহর একত্ববাদের এমন কথা শুনিনি।
أَءُنزِلَ عَلَيۡهِ ٱلذِّكۡرُ مِنۢ بَيۡنِنَاۚ بَلۡ هُمۡ فِي شَكّٖ مِّن ذِكۡرِيۚ بَل لَّمَّا يَذُوقُواْ عَذَابِ
অর্থ: (মুশরিকরা বলল:) ‘আমাদের মধ্য থেকে শুধু তার ওপরই কি যিক্র (আল কুরআন) নাযিল করা হল?(৪) বরং তারা আমার যিকরের ব্যাপারে সন্দেহে রয়েছে। বরং তারা এখনও আমার শাস্তি আস্বাদন করেনি।(৫)
তাফসীর: ৮. এটা কি হতে পারে যে, আমাদের মধ্যে শুধু তার উপরই কুরআন অবতীর্ণ হবে। আর আমাদের উপর অবতীর্ণ হবে না? অথচ আমরা হলাম উচ্চ শ্রেণীর নেতা। হে রাসূল! এসব মুশরিকরা আপনার উপর অবতীর্ণ ওহীর ক্ষেত্রে সন্দিহান। তারা এখনও আল্লাহর শাস্তি আস্বাদন করে নি। তাদেরকে দেয়া অবকাশের দরুন তারা অহমিকায় নিপতিত। তারা যদি তা আস্বাদন করতো তাহলে তারা আল্লাহর সাথে কুফরি, শিরক ও আপনার উপর অবতীর্ণ ওহীর ক্ষেত্রে সন্দেহ পোষণে দুঃসাহসী হতো না।
(৪) অথচ আমরা হলাম উচ্চ শ্রেণীর নেতা। (৫) তারা যদি আমার শাস্তি আস্বাদন করতো, তাহলে তারা আল্লাহর সাথে কুফরী ও শিরক করতে এবং তোমার ওপর অবতীর্ণ ওহীর ব্যাপারে সন্দেহ পোষণে দুঃসাহস দেখাতো না।
أَمۡ عِندَهُمۡ خَزَآئِنُ رَحۡمَةِ رَبِّكَ ٱلۡعَزِيزِ ٱلۡوَهَّابِ
অর্থ: নাকি তোমার পরাক্রমশালী, মহাদাতা রবের রহমতের ভাণ্ডারসমূহ তাদের কাছেই রয়েছে?(৬)
তাফসীর: ৯. না কি এসব অবিশ্বাসী মুশরিকদের নিকট আপনার পরাক্রমশালী প্রতিপালকের অনুগ্রহের ভাÐার রয়েছে। যাঁকে কেউ পরাভূত করতে পারে না। তিনি যাকে যা ইচ্ছা দান করেন। আর তাঁর অনুগ্রহের ভাÐারের মধ্যে রয়েছে নবুওয়াত। ফলে তিনি যাকে ইচ্ছা তা প্রদান করেন। বস্তুতঃ এটি তাদের হাতে নয় যে, যাকে ইচ্ছা দিবে বা বারণ করবে।
(৬) বস্তুত এটি তাদের হাতে নেই; বরং রহমতের ভাণ্ডার একমাত্র মহান আল্লাহর কাছে, যিনি যাকে ইচ্ছা তা দান করেন অথবা তা থেকে নিবৃত রাখেন।
أَمۡ لَهُم مُّلۡكُ ٱلسَّمَٰوَٰتِ وَٱلۡأَرۡضِ وَمَا بَيۡنَهُمَاۖ فَلۡيَرۡتَقُواْ فِي ٱلۡأَسۡبَٰبِ
অর্থ: নাকি আসমানসমূহ, জমিন এবং এ দুয়ের মধ্যবর্তী সবকিছুর রাজত্ব তাদের? তাহলে তারা উপায়-উপকরণে আরোহণ করুক।(৭)
তাফসীর: ১০. না কি তাদের হাতে আসমান-যমীন ও এতদুভয়ের রাজত্ব রয়েছে? যার ফলে তাদের জন্য কিছু প্রদান করা কিংবা বারণ করার অধিকার সাব্যস্ত হয়ে গেছে? যদি এটিই তাদের ধারণা হয়ে থাকে তবে যেন তারা আসমান পর্যন্ত পৌঁছার সিঁড়ি অবলম্বন করে। যাতে করে তারা প্রদান ও বারণের বিধান বাস্তবায়ন করতে পারে। অথচ কস্মিনকালেও তারা তা করতে পারবে না।
(৭) অথচ কস্মিনকালেও তারা আসমানে আরোহণ করতে পারবে না।
অনুবাদ: রুওয়াদ অনুবাদ সেন্টার। তাফসীর: তাফসীর সেন্টার ফর কুরআনিক স্টাডিজ। উৎস QuranEnc.