সিরাতুল মুস্তাকিম অ্যাপ ডাউনলোড করুনGoogle Play
يُسَبِّحُ لِلَّهِ مَا فِي ٱلسَّمَٰوَٰتِ وَمَا فِي ٱلۡأَرۡضِۖ لَهُ ٱلۡمُلۡكُ وَلَهُ ٱلۡحَمۡدُۖ وَهُوَ عَلَىٰ كُلِّ شَيۡءٖ قَدِيرٌ
অর্থ: আসমানসমূহে যা কিছু আছে এবং জমিনে যা কিছু আছে, সবই আল্লাহর জন্য পবিত্রতা ঘোষণা করে। সার্বভৌমত্ব একমাত্র তাঁরই এবং সকল প্রশংসা তাঁরই। তিনি সর্ব বিষয়ে সর্বশক্তিমান।
তাফসীর: ১. সৃষ্টিকুলের যা কিছু আসমান ও যমীনে রয়েছে তারা সবাই আল্লাহকে সর্ব প্রকার ত্রæটি ও বেমানান বস্তু থেকে মুক্ত ও পবিত্র ঘোষণা করছে। সকল আধিপত্য এককভাবে তাঁরই। তাই তিনি ব্যতীত কোন বাদশাহ নেই। তাঁর জন্যই রয়েছে উত্তম প্রশংসা। তিনি সর্ব বিষয়ে ক্ষমতাবান। কোন কিছুই তাঁকে অপারগ করতে পারে না।
هُوَ ٱلَّذِي خَلَقَكُمۡ فَمِنكُمۡ كَافِرٞ وَمِنكُم مُّؤۡمِنٞۚ وَٱللَّهُ بِمَا تَعۡمَلُونَ بَصِيرٌ
অর্থ: তিনিই তোমাদেরকে সৃষ্টি করেছেন। অতঃপর তোমাদের মধ্যে কতক কাফির এবং কতক মু’মিন। আর তোমরা যে আমল করো আল্লাহ সে সম্পর্কে সম্যক দ্রষ্টা।
তাফসীর: ২. হে মানব সমাজ! তিনিই সেই সত্তা যিনি তোমাদেরকে সৃষ্টি করেছেন। তবে তোমাদের মধ্যে কেউ কাফির ফলে তার ঠিকানা হবে জাহান্নাম। আর কেউ মুমিন ফলে তার ঠিকানা হবে জান্নাত। বস্তুতঃ আল্লাহ তোমাদের আমল সম্পর্কে পরিজ্ঞাত। তাঁর নিকট তোমাদের কোন আচরণই গোপন থাকে না এবং তিনি অচিরেই এর প্রতিদান দিবেন।
خَلَقَ ٱلسَّمَٰوَٰتِ وَٱلۡأَرۡضَ بِٱلۡحَقِّ وَصَوَّرَكُمۡ فَأَحۡسَنَ صُوَرَكُمۡۖ وَإِلَيۡهِ ٱلۡمَصِيرُ
অর্থ: তিনি আসমানসমূহ ও জমিনকে যথার্থভাবে সৃষ্টি করেছেন এবং তোমাদেরকে আকৃতি দান করেছেন অতঃপর অতি সুন্দর করে তোমাদের আকৃতি দিয়েছেন। আর (কিয়ামত দিবসে) প্রত্যাবর্তন তো তাঁরই নিকট।
তাফসীর: ৩. আল্লাহ আসমান ও যমীনকে সত্যিকারার্থেই সৃষ্টি করেছেন। এতদুভয়কে তিনি অনর্থক সৃষ্টি করেন নি। হে মানব সমাজ! তিনি তোমাদেরকে সৃষ্টি করেছেন এবং তোমাদের আকৃতিকে তাঁর নিজ অনুগ্রহে সুন্দর করেছেন। তিনি চাইলে তা কুৎসিত করতে পারতেন। এককভাবে কিয়ামত দিবসে তাঁর নিকটই প্রত্যাবর্তন করতে হবে। ফলে তিনি তোমাদের কাজের বদলা দিবেন। ভলো কাজের প্রতিদান হবে ভালো। আর মন্দ কাজের প্রতিদান হবে মন্দ।
يَعۡلَمُ مَا فِي ٱلسَّمَٰوَٰتِ وَٱلۡأَرۡضِ وَيَعۡلَمُ مَا تُسِرُّونَ وَمَا تُعۡلِنُونَۚ وَٱللَّهُ عَلِيمُۢ بِذَاتِ ٱلصُّدُورِ
অর্থ: আসমানসমূহ ও জমিনে যা কিছু আছে তিনি তা জানেন এবং তিনি জানেন, যা তোমরা গোপন করো এবং যা তোমরা প্রকাশ করো। আল্লাহ অন্তরসমূহে (ভালো-মন্দ) যা কিছু আছে সে বিষয়ে সম্যক জ্ঞাত।
তাফসীর: ৪. তিনি আসমান ও যমীনে যা কিছু আছে সবই জানেন। তিনি আরো জানেন তোমরা যা প্রকাশ করো আর যা গোপন করো। তিনি বক্ষগুলোতে ভালো-মন্দ যা রয়েছে তা সবই জানেন। তাঁর নিকট এ সবের কোন কিছুই গোপন থাকে না।
أَلَمۡ يَأۡتِكُمۡ نَبَؤُاْ ٱلَّذِينَ كَفَرُواْ مِن قَبۡلُ فَذَاقُواْ وَبَالَ أَمۡرِهِمۡ وَلَهُمۡ عَذَابٌ أَلِيمٞ
অর্থ: হে মুশরিকরা! তোমাদের কাছে ইতঃপূর্বে যারা কুফরী করেছে, তাদের সংবাদ কি পৌঁছেনি? তারা তাদের কর্মের মন্দ পরিণাম আস্বাদন করেছিল এবং তাদের জন্য রয়েছে যন্ত্রণাদায়ক শাস্তি।
তাফসীর: ৫. হে মুশরিকরা! তোমাদের নিকট কি তোমাদের পূর্বেকার অবিশ্বাসীদের সংবাদ আসেনি?! যেমন: নূহ, আদ, সামূদ ও অন্যান্য সম্প্রদায়ের। তারা দুনিয়াতে কুফরীর শাস্তি আস্বাদন করেছে। উপরন্তু তাদের জন্য রয়েছে পরকালের কষ্টদায়ক শাস্তি। হ্যাঁ, অবশ্যই তোমাদের নিকট তা এসেছে। তাই তোমরা তাদের পরিণতি থেকে উপদেশ গ্রহণ করো এবং তাদের মতো তোমাদের উপর শাস্তি আসার পূর্বেই তোমরা আল্লাহর নিকট তাওবা করো।
ذَٰلِكَ بِأَنَّهُۥ كَانَت تَّأۡتِيهِمۡ رُسُلُهُم بِٱلۡبَيِّنَٰتِ فَقَالُوٓاْ أَبَشَرٞ يَهۡدُونَنَا فَكَفَرُواْ وَتَوَلَّواْۖ وَّٱسۡتَغۡنَى ٱللَّهُۚ وَٱللَّهُ غَنِيٌّ حَمِيدٞ
অর্থ: এটি এ কারণে যে, তাদের রাসূলগণ তাদের কাছে সুস্পষ্ট নিদর্শনাবলি নিয়ে আসতেন। তখন তারা বলত, ‘একজন মানুষই কি আমাদের পথ দেখাবে?’ অতঃপর তারা কুফরি করল এবং মুখ ফিরিয়ে নিল। আর আল্লাহ তাদের থেকে অমুখাপেক্ষী রইলেন। আর আল্লাহ সর্বতোভাবে অমুখাপেক্ষী, পরম প্রশংসিত।
তাফসীর: ৬. তাদের নিকট শাস্তি এ জন্য আসলো যে, তাদের নিকট রাসূলগণ আল্লাহর সুস্পষ্ট দলীল ও প্রমাণাদি নিয়ে আগমন করলে রাসূলগণ মানব শ্রেণী থেকে কেন আগমন করলেন এ আপত্তি উত্থাপন করে তারা বললো যে, মানুষ আমাদেরকে কী পথ দেখাবে? এ কথা বলে তারা কুফরী করে ঈমান থেকে বিমুখ হয়ে গেলো। এতে করে তারা আল্লাহর কোনরূপ ক্ষতি করতে পারলো না। বরং তিনি তাদের ঈমান ও আনুগত্য থেকে বেপরওয়া হলেন। কেননা, তাদের আনুগত্য তাঁর কোন কিছুই বৃদ্ধি করে না। বস্তুতঃ আল্লাহ ধনাঢ্য। তিনি তাঁর বান্দাদের মুখাপেক্ষী নন। তিনি তাঁর কথা ও কাজে প্রশংসনীয়।
زَعَمَ ٱلَّذِينَ كَفَرُوٓاْ أَن لَّن يُبۡعَثُواْۚ قُلۡ بَلَىٰ وَرَبِّي لَتُبۡعَثُنَّ ثُمَّ لَتُنَبَّؤُنَّ بِمَا عَمِلۡتُمۡۚ وَذَٰلِكَ عَلَى ٱللَّهِ يَسِيرٞ
অর্থ: কাফিররা দাবি করে যে, তাদের কখনো পুনরুত্থিত করা হবে না। বলুন, ‘কেন নয়! আমার রবের শপথ, তোমাদের অবশ্যই পুনরুত্থিত করা হবে। তারপর তোমরা যা আমল করেছিলে, সে সম্পর্কে তোমাদের অবশ্যই অবহিত করা হবে। আর তা আল্লাহর জন্য অত্যন্ত সহজ।’
তাফসীর: ৭. কাফিররা ধারণা করে নিয়েছে যে, আল্লাহ তাদেরকে মরণের পর পুনরুত্থিত করবেন না। হে রাসূল! আপনি এ সব পুনরুত্থান অস্বীকারকারীদেরকে বলে দিন যে, হ্যাঁ আমার রবের শপথ, অবশ্যই তোমরা কিয়ামত দিবসে পুনরুত্থিত হবে। অতঃপর দুনিয়ার কৃতকর্মের সংবাদ তোমাদেরকে দেয়া হবে। আর এ পুনরুত্থান আল্লাহর জন্য অতি সহজ। কেননা, তিনি তোমাদেরকে প্রথমবার সৃষ্টি করেছেন। অতএব, তিনি তোমাদেরকে মৃত্যুর পর হিসাব ও প্রতিদানের উদ্দেশ্যে পুনরুত্থান দানে অবশ্যই সক্ষম।
فَـَٔامِنُواْ بِٱللَّهِ وَرَسُولِهِۦ وَٱلنُّورِ ٱلَّذِيٓ أَنزَلۡنَاۚ وَٱللَّهُ بِمَا تَعۡمَلُونَ خَبِيرٞ
অর্থ: অতএব, হে মানব সমাজ! তোমরা আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের এবং আমি যে নূর (আল-কুরআন) অবতীর্ণ করেছি, তার প্রতি ঈমান আনো। আর তোমরা যে আমল করছ, আল্লাহ সে বিষয়ে সম্যক অবহিত।
তাফসীর: ৮. হে মানব সমাজ! তোমরা আল্লাহ ও তদীয় রাসূলের উপর ঈমান আনো এবং ওই কুরআনের উপরও ঈমান আনো যা আমি নিজ রাসূলের উপর অবতীর্ণ করেছি। বস্তুতঃ আল্লাহ তোমাদের আমল সম্পর্কে পরিজ্ঞাত। তাঁর নিকট তোমাদের কোন আমলই গোপন নয় এবং তিনি এর প্রতিদান দিবেন।
يَوۡمَ يَجۡمَعُكُمۡ لِيَوۡمِ ٱلۡجَمۡعِۖ ذَٰلِكَ يَوۡمُ ٱلتَّغَابُنِۗ وَمَن يُؤۡمِنۢ بِٱللَّهِ وَيَعۡمَلۡ صَٰلِحٗا يُكَفِّرۡ عَنۡهُ سَيِّـَٔاتِهِۦ وَيُدۡخِلۡهُ جَنَّٰتٖ تَجۡرِي مِن تَحۡتِهَا ٱلۡأَنۡهَٰرُ خَٰلِدِينَ فِيهَآ أَبَدٗاۚ ذَٰلِكَ ٱلۡفَوۡزُ ٱلۡعَظِيمُ
অর্থ: হে রাসূল! সেদিনের কথা স্মরণ করো, যেদিন কিয়ামত দিবসের উদ্দেশ্যে আল্লাহ তোমাদের সমবেত করবেন, ঐ দিনই হচ্ছে লাভ- লোকসানের দিন (এটা মু’মিনদের জন্য লাভের দিন আর কাফিরদের জন্য লোকসানের দিন)।(১) আর যে আল্লাহর প্রতি ঈমান আনে ও সৎকর্ম করে আল্লাহ তার পাপসমূহ মোচন করে দিবেন এবং তাকে প্রবেশ করাবেন জান্নাতসমূহে, যার পাদদেশ দিয়ে ঝর্ণাধারা প্রবাহিত হয়, সেথায় তারা চিরস্থায়ী হবে। এটাই মহাসাফল্য।
তাফসীর: ৯. হে রাসূল! আপনি সেই দিনের কথা স্মরণ করুন যে কিয়ামত দিবসে আমলের প্রতিদান দেয়ার উদ্দেশ্যে আল্লাহ তোমাদেরকে সমবেত করবেন। এই সেই দিন যাতে কাফিরদের ক্ষতি ও ঘাটতি প্রকাশ পাবে। যখন মুমিনরা জান্নাতে থাকা জাহান্নামীদের বাড়ীগুলোর উত্তারাধিকারী হবে। আর জাহান্নামীরা জাহান্নামে থাকা জান্নাতীদের আবাসনগুলোর উত্তরাধিকারী হবে। বস্তুতঃ যে ব্যক্তি আল্লাহর উপর ইমান আনে ও সৎ আমল করে আল্লাহ তার পাপসমূহ ক্ষমা করে দেন। তাকে এমন সব জান্নাতে প্রবিষ্ট করেন যেগুলোর অট্টালিকা ও বৃক্ষরাজির তলদেশ দিয়ে নদী-নালা প্রবাহিত হয়। তারা সেখানে চিরস্থায়ীভাবে বসবাস করবে। সেখান থেকে তারা কখনো বের হবে না। আর না তাদের থেকে তাঁর নিয়ামত কখনো বিচ্ছিন্ন হবে। তারা যা লাভ করলো তা এমন সফলতা যার সাথে অন্য কোন সফলতার তুলনা হয় না।
(১) অর্থাৎ সেই দিনে কাফিরদের ক্ষতি ও ঘাটতি প্রকাশ পাবে। যখন মু’মিনরা জাহান্নামীদের জন্যে জান্নাতে সংরক্ষিত বাড়িগুলোর উত্তারাধিকারী হবে। আর জাহান্নামীরা জান্নাতীদের জন্যে জাহান্নামে রাখা আবাসনগুলোর উত্তরাধিকারী হবে।
وَٱلَّذِينَ كَفَرُواْ وَكَذَّبُواْ بِـَٔايَٰتِنَآ أُوْلَٰٓئِكَ أَصۡحَٰبُ ٱلنَّارِ خَٰلِدِينَ فِيهَاۖ وَبِئۡسَ ٱلۡمَصِيرُ
অর্থ: কিন্তু যারা কুফরী করে এবং আমার আয়াতসমূহ অস্বীকার করে তারাই জাহান্নামের অধিবাসী। তথায় তারা চিরস্থায়ী হবে। আর তা কতই না নিকৃষ্ট প্রত্যাবর্তনস্থল।
তাফসীর: ১০. যারা আল্লাহকে অবিশ্বাস করে এবং আমার সে সব আয়াতকে অস্বীকার করে যেগুলোকে আমি নিজ রাসূলের উপর অবতীর্ণ করেছি তারা জাহান্নামী। তারা সেখানে চিরস্থায়ীভাবে বসবাস করবে। বস্তুতঃ কতোই না মন্দ তাদের ঠিকানা।
অনুবাদ: রুওয়াদ অনুবাদ সেন্টার। তাফসীর: তাফসীর সেন্টার ফর কুরআনিক স্টাডিজ। উৎস QuranEnc.