সিরাতুল মুস্তাকিম অ্যাপ ডাউনলোড করুনGoogle Play
قُلۡ أُوحِيَ إِلَيَّ أَنَّهُ ٱسۡتَمَعَ نَفَرٞ مِّنَ ٱلۡجِنِّ فَقَالُوٓاْ إِنَّا سَمِعۡنَا قُرۡءَانًا عَجَبٗا
অর্থ: হে রাসূল! (তোমার উম্মতকে) বলো: ‘আমার প্রতি ওহী করা হয়েছে যে, নিশ্চয় জিনদের একটি দল মনোযোগ সহকারে (আল-কুরআন তিলাওয়াত) শুনেছে। অতঃপর তারা (নিজ জাতির কাছে গিয়ে) বলেছে: ‘আমরা তো এক বিস্ময়কর কুরআন শুনেছি,
তাফসীর: ১. হে রাসূল! আপনি নিজ উম্মতকে বলে দিন, আমাকে ওহীযোগে অবগত করা হয়েছে যে, নাখলা উপত্যকায় জিনদের এক দল আমার কুরআন তিলাওয়াত শ্রবণ করেছে। অতঃপর তারা নিজেদের জাতির নিকট আগমন করে বলে: আমরা এমন বাণী শ্রবণ করেছি যা তার বর্ণনা ও সাবলীলতায় অতি চমৎকার।
يَهۡدِيٓ إِلَى ٱلرُّشۡدِ فَـَٔامَنَّا بِهِۦۖ وَلَن نُّشۡرِكَ بِرَبِّنَآ أَحَدٗا
অর্থ: ‘যা সত্যের দিকে হিদায়াত করে; তাই আমরা এর প্রতি ঈমান এনেছি। আর আমরা কখনো আমাদের রবের সাথে কাউকে শরীক করব না।’
তাফসীর: ২. আমরা যে বাণী শ্রবণ করেছি তা প্রমাণ করে যে, এটি আক্বীদা, কথা ও কাজে সঠিক। তাই আমরা এর উপর ঈমান এনেছি। আর আমাদের যে রব এটি অবতীর্ণ করেছেন তাঁর সাথে আমরা কাউকে শরীক করি না।
وَأَنَّهُۥ تَعَٰلَىٰ جَدُّ رَبِّنَا مَا ٱتَّخَذَ صَٰحِبَةٗ وَلَا وَلَدٗا
অর্থ: ‘আর নিশ্চয় আমাদের রবের মর্যাদা সমুচ্চ। তিনি কাউকে স্ত্রী কিংবা সন্তান হিসেবে গ্রহণ করেননি।’
তাফসীর: ৩. আমরা আরো ঈমান এনেছি যে, আমাদের রবের মাহাত্ম্য ও মর্যাদা সমুন্নত। তিনি স্ত্রী কিংবা সন্তান গ্রহণ করেন নি যেমনটি মুশরিকরা বলে থাকে।
وَأَنَّهُۥ كَانَ يَقُولُ سَفِيهُنَا عَلَى ٱللَّهِ شَطَطٗا
অর্থ: ‘আর আমাদের মধ্যকার নির্বোধেরা আল্লাহর ব্যাপারে অবাস্তব (শিরকী) কথা- বার্তা বলত।’
তাফসীর: ৪. এদিকে ইবলীস মহান আল্লাহর প্রতি স্ত্রী ও সন্তানের সম্বন্ধ জুড়ে দিয়ে তাঁর সাথে বক্রতার অচরণ দেখায়।
وَأَنَّا ظَنَنَّآ أَن لَّن تَقُولَ ٱلۡإِنسُ وَٱلۡجِنُّ عَلَى ٱللَّهِ كَذِبٗا
অর্থ: ‘অথচ আমরা তো ধারণা করতাম যে, কোন মানুষ ও জিন কখনো আল্লাহ সম্পর্কে মিথ্যা আরোপ করতে পারে না।’(১)
তাফসীর: ৫. আমরা ধারণা করতাম যে, জিন ও ইনসানের মধ্যকার মুশরিকরা তাঁর স্ত্রী ও সন্তানদের ব্যাপারে যে ধারণা পোষণ করতো তারা এতে মিথ্যাবাদী নয়। ফলে তাদের অন্ধ অনুকরণে আমরা তাদেরকে সত্য বলে জানতাম।
(১) ফলে তাদের অন্ধ অনুকরণে আমরা আল্লাহর স্ত্রী ও সন্তান হওয়ার ব্যাপারটিকে সত্য বলে মনে করতাম।
وَأَنَّهُۥ كَانَ رِجَالٞ مِّنَ ٱلۡإِنسِ يَعُوذُونَ بِرِجَالٖ مِّنَ ٱلۡجِنِّ فَزَادُوهُمۡ رَهَقٗا
অর্থ: আর নিশ্চয় কতিপয় (মূর্খ) মানুষ কতিপয় জিনের আশ্রয় নিত, ফলে তারা জিনদের অহংকার বাড়িয়ে দিয়েছিল।
তাফসীর: ৬. জাহেলী যুগে এমন কিছু মানুষ ছিলো যারা ভয়ানক কোন জায়গায় অবতরণ করলে জিনদের আশ্রয় কামনা করতো এই বলে যে, আমি এ উপত্যকার সর্দারের নিকট তার জাতির বখাটেদের অনিষ্ট থেকে আশ্রয় কামনা করছি। এর কারণে মানুষ শ্রেণীর পুরুষেরা জিন শ্রেণীর পুরুষদেরকে আরো বেশী ভয় করতে লাগলো।
وَأَنَّهُمۡ ظَنُّواْ كَمَا ظَنَنتُمۡ أَن لَّن يَبۡعَثَ ٱللَّهُ أَحَدٗا
অর্থ: ‘আর নিশ্চয় তারা (কতিপয় জিনরা) ধারণা করেছিল যেমন তোমরা (কতিপয় মানুষ) ধারণা করেছ যে, আল্লাহ কাউকে কখনই পুনরুত্থিত করবেন না।’
তাফসীর: ৭. হে জিনরা! তোমাদের মতো কিছু মানুষও এ ধারণা করে যে, আল্লাহ কাউকে তার মৃত্যুর পর হিসাব ও প্রতিদানের জন্য পুনরুত্থিত করবেন না।
وَأَنَّا لَمَسۡنَا ٱلسَّمَآءَ فَوَجَدۡنَٰهَا مُلِئَتۡ حَرَسٗا شَدِيدٗا وَشُهُبٗا
অর্থ: আর নিশ্চয়ই আমরা (ঊর্ধ্বজগতের সংবাদ জানতে চোরাই পথে) আসমানে পৌঁছাতে চেয়েছিলাম; কিন্তু দেখলাম, তা কঠোর প্রহরী ও উল্কাপিণ্ডে পরিপূর্ণ করে দেওয়া হয়েছে।
তাফসীর: ৮. আমরা আসমানের সংবাদ জানতে চাইলে সেটিকে চোরাই পথে আমাদের শ্রবণ থেকে রক্ষী বাহিনী ফিরিশতাদের মাধ্যমে এবং প্রজ্বলিত আগুন দিয়ে ভরপুর পেলাম। যে কেউ আসমানের নিকটবর্তী হতে চাইলে তাকে সেটি ছুঁড়ে মারা হয়।
وَأَنَّا كُنَّا نَقۡعُدُ مِنۡهَا مَقَٰعِدَ لِلسَّمۡعِۖ فَمَن يَسۡتَمِعِ ٱلۡأٓنَ يَجِدۡ لَهُۥ شِهَابٗا رَّصَدٗا
অর্থ: ‘আর আমরা ইতঃপূর্বে তো (ঊর্ধ্বজগতের) সংবাদ শোনার জন্য আসমানের বিভিন্ন ঘাটিতে বসতাম; কিন্তু এখন যে শুনতে চাইবে, সে তার জন্য জ্বলন্ত উল্কাপিণ্ড প্রস্তুত পাবে।’
তাফসীর: ৯. ইতিপূর্বে আমরা আসমানে এমন একটি স্থান বের করে নিতাম যেখান থেকে ফিরিশতাদের আদান-প্রদানকৃত সংবাদগুলো আমরা জেনে নিতে পারতাম। অতঃপর আমরা যমীনের গণকদেরকে এর সংবাদ অবিহিত করতাম। কিন্তু বর্তমানে তা পরিবর্তন হয়ে গিয়েছে। তাই এখন যে শ্রবণ করে সে নিজের জন্য প্রজ্বলিত অগ্নিশিখা প্রস্তুত দেখতে পায়। যখনই সে নিকটবর্তী হয় তখনই তার দিকে এটি প্রেরণ করা হয় এবং এটি তাকে জ্বালিয়ে ফেলে।
وَأَنَّا لَا نَدۡرِيٓ أَشَرٌّ أُرِيدَ بِمَن فِي ٱلۡأَرۡضِ أَمۡ أَرَادَ بِهِمۡ رَبُّهُمۡ رَشَدٗا
অর্থ: আর নিশ্চয়ই আমরা (এ কঠোর পাহারার কারণ) বুঝতে পারছিলাম না—পৃথিবীতে যারা রয়েছে তাদের জন্য কোনো অকল্যাণ চাওয়া হয়েছে, নাকি তাদের রব তাদের জন্য সৎপথের ইচ্ছা করেছেন।
তাফসীর: ১০. আমরা এ কঠোর পাহারার কারণ কী তা জানি না। এর মাধ্যমে কি যমীনবাসীর কোন অকল্যাণ কামনা করা হয়েছে, না কি আল্লাহ তাদের ব্যাপারে কোন কল্যাণের ইচ্ছা পোষণ করেছেন। বস্তুতঃ আমাদের থেকে আসমানবাসীর সংবাদ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে।
অনুবাদ: রুওয়াদ অনুবাদ সেন্টার। তাফসীর: তাফসীর সেন্টার ফর কুরআনিক স্টাডিজ। উৎস QuranEnc.