সিরাতুল মুস্তাকিম অ্যাপ ডাউনলোড করুনGoogle Play
ٱقۡتَرَبَتِ ٱلسَّاعَةُ وَٱنشَقَّ ٱلۡقَمَرُ
অর্থ: কিয়ামত নিকটবর্তী হয়েছে এবং চাঁদ বিদীর্ণ হয়েছে।(৩৩)
তাফসীর: ১. কিয়ামত নিকটবর্তী হয়েছে। আর নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এর জীবদ্দশায় চন্দ্র দ্বিখÐিত হয়েছে। ফলে এটি ছিল নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এর একটি চাক্ষুষ নিদর্শন।
(৩৩) রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের জীবদ্দশায় চন্দ্র দ্বিখণ্ডিত হয়েছে। এটি তার একটি মু‘জিযা এবং কিয়ামতের একটি বড় আলামত।
وَإِن يَرَوۡاْ ءَايَةٗ يُعۡرِضُواْ وَيَقُولُواْ سِحۡرٞ مُّسۡتَمِرّٞ
অর্থ: আর তারা (নবীর সত্যতার) কোন নিদর্শন দেখলে মুখ ফিরিয়ে নেয় এবং বলে, ‘এ তো চিরাচরিত যাদু।’
তাফসীর: ২. মুশরিকরা যখন নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এর সত্যতার কোন প্রমাণ ও নিদর্শন দেখে তখন তারা তা গ্রহণ থেকে বিমুখ হয়ে বলে: আমরা তাঁর পক্ষ থেকে যতো দলীল-প্রমাণাদি প্রত্যক্ষ করেছি তা সবই যাদু।
وَكَذَّبُواْ وَٱتَّبَعُوٓاْ أَهۡوَآءَهُمۡۚ وَكُلُّ أَمۡرٖ مُّسۡتَقِرّٞ
অর্থ: আর তারা (সত্যকে) মিথ্যা বলে প্রত্যাখ্যান করেছে এবং নিজেদের প্রবৃত্তির অনুসরণ করেছে। আর প্রত্যেক বিষয়ই (নির্ধারিত সময়ে) তার চূড়ান্ত পরিণতিতে উপনীত হবে।
তাফসীর: ৩. তাদের নিকট যে সত্য আগমন করেছে তারা সেটির প্রতি মিথ্যারোপ করলো এবং এ মিথ্যারোপে তারা নিজেদের প্রবৃত্তির অনুসরণ করেছে। বস্তুতঃ ভালো-মন্দ সবই কিয়ামত দিবসে ন্যায্যভাবে সংঘটিত হবে।
وَلَقَدۡ جَآءَهُم مِّنَ ٱلۡأَنۢبَآءِ مَا فِيهِ مُزۡدَجَرٌ
অর্থ: আর তাদের কাছে তো (২) সংবাদসমূহ এসেছে, যাতে রয়েছে (৩)কঠোর নিষেধাজ্ঞা।
তাফসীর: ৪. অথচ যে সব জাতিকে আমি কুফরী ও জুলুমের কারণে ধ্বংস করেছি তাদের নিকট ওদের সংবাদ এসেছে। যা তাদেরকে কুফরী ও জুলুম থেকে বিরত রাখার জন্য যথেষ্ট।
(২) অতীত জাতিসমূহের ধ্বংসের। (৩)কুফরী ও জুলম থেকে বিরত থাকার।
حِكۡمَةُۢ بَٰلِغَةٞۖ فَمَا تُغۡنِ ٱلنُّذُرُ
অর্থ: এগুলো পরিপূর্ণ প্রজ্ঞার কথা; যদিও এসব সতর্কবাণী তাদের কোন উপকারে আসেনি।
তাফসীর: ৫. তাদের নিকট পূর্ণাঙ্গ প্রজ্ঞার কথা এসেছে যাতে তাদের উপর প্রমাণ সাব্যস্ত হয়। বস্তুতঃ যে জাতি আল্লাহ ও পরকাল দিবসে বিশ্বাসী নয় সতর্ক-সঙ্কেত তাদের কোন উপকারে আসবে না।
فَتَوَلَّ عَنۡهُمۡۘ يَوۡمَ يَدۡعُ ٱلدَّاعِ إِلَىٰ شَيۡءٖ نُّكُرٍ
অর্থ: অতএব, হে রাসূল! তুমি তাদের থেকে মুখ ফিরিয়ে নাও, যেদিন আহ্বানকারী (ফিরিশতা) আহ্বান করবে এক বিভীষিকাময় বিষয়ের দিকে,
তাফসীর: ৬. তারা হিদায়েত গ্রহণ না করলে হে রাসূল! আপনি সেই দিনের অপেক্ষায় তাদের থেকে বিমুখ থাকুন যে দিন সিঙ্গায় ফুৎকারে নিয়োজিত ফিরিশতা এমন এক ভয়ানক বিষয়ের দিকে আহŸান জানাবে যে সম্পর্কে ইতিপূর্বে সৃষ্টিকুল অবগত ছিলো না।
خُشَّعًا أَبۡصَٰرُهُمۡ يَخۡرُجُونَ مِنَ ٱلۡأَجۡدَاثِ كَأَنَّهُمۡ جَرَادٞ مُّنتَشِرٞ
অর্থ: (সেদিন) চক্ষুগুলো অপদস্ত অবস্থায় তারা কবর থেকে বের হয়ে (হাশরের মাঠে) আসবে। মনে হবে যেন তারা বিক্ষিপ্ত পঙ্গপাল।
তাফসীর: ৭. তাদের চক্ষুগুলো অপদস্ত থাকবে। তারা কবর থেকে উঠে হিসেবের মাঠের দিকে বিক্ষিপ্ত পতঙ্গের ন্যায় অগ্রসর হবে।
مُّهۡطِعِينَ إِلَى ٱلدَّاعِۖ يَقُولُ ٱلۡكَٰفِرُونَ هَٰذَا يَوۡمٌ عَسِرٞ
অর্থ: তারা (সেই) আহ্বানকারী (ফিরিশতা)-র দিকে ভীত-সন্ত্রস্ত অবস্থায় ছুটে আসবে। কাফিররা বলবে: ‘এটি ভীষণ ভয়াবহ দিন।’
তাফসীর: ৮. অবস্থানের পানে আহŸানকারীর ডাকে ত্বরান্বিত হয়ে। তখন কাফিররা বলবে: এ দিনটি অতি কঠিন। কেননা, তাতে রয়েছে বিভীষিকা ও ভয়াবহতা।
۞ كَذَّبَتۡ قَبۡلَهُمۡ قَوۡمُ نُوحٖ فَكَذَّبُواْ عَبۡدَنَا وَقَالُواْ مَجۡنُونٞ وَٱزۡدُجِرَ
অর্থ: তাদের পূর্বে নূহের সম্প্রদায়ও (তাদের নবীকে) অস্বীকার করেছিল। তারা আমার বান্দা (নূহ)কে অস্বীকার করেছিল এবং বলেছিল: ‘সে তো একজন পাগল।’ আর তাকে হুমকি-ধমকিও দেয়া হয়েছিল।
তাফসীর: ৯. হে রাসূল! আপনার দাওয়াত অগ্রাহ্যকারী এ সব লোকের পূর্বে নূহ (আলাইহিমাস-সালাম) এর জাতি আমার বান্দা নূহ (আলাইহিমাস-সালাম) এর প্রতি মিথ্যারোপ করে যখন আমি তাঁকে তাদের প্রতি প্রেরণ করি। এমন কি তাদেরকে দাওয়াত প্রদান থেকে বিরত না হলে তারা তাঁর ব্যাপারে বলেছিলো যে, তিনি পাগল এবং তাঁকে গাল-মন্দ ও ধমক দিয়ে হুমকিও দিয়েছিলো।
فَدَعَا رَبَّهُۥٓ أَنِّي مَغۡلُوبٞ فَٱنتَصِرۡ
অর্থ: অতঃপর সে তার রবকে ডাকলো (এবং বললো) ‘আমি একান্ত অসহায়। অতএব, তুমি (৪) প্রতিশোধ গ্রহণ করো।’
তাফসীর: ১০. তখন নূহ (আলাইহিমাস-সালাম) স্বীয় রবকে আহŸান করে বললেন, আমার জাতি আমার উপর চড়াও হয়েছে এবং আমার দাওয়াত অগ্রাহ্য করেছে তাই আপনি তাদের উপর শাস্তি অবতীর্ণ করে আমাকে শক্তিশালী করুন।
(৪) তাদের উপর শাস্তি অবতীর্ণ করে তাদের থেকে।
অনুবাদ: রুওয়াদ অনুবাদ সেন্টার। তাফসীর: তাফসীর সেন্টার ফর কুরআনিক স্টাডিজ। উৎস QuranEnc.