সিরাতুল মুস্তাকিম অ্যাপ ডাউনলোড করুনGoogle Play
يُسَبِّحُ لِلَّهِ مَا فِي ٱلسَّمَٰوَٰتِ وَمَا فِي ٱلۡأَرۡضِ ٱلۡمَلِكِ ٱلۡقُدُّوسِ ٱلۡعَزِيزِ ٱلۡحَكِيمِ
অর্থ: আসমানসমূহে যা আছে এবং জমিনে যা আছে সবই আল্লাহর পবিত্রতা ঘোষণা করে। যিনি অধিপতি, মহাপবিত্র, মহাপরাক্রমশালী, প্রজ্ঞাময়।
তাফসীর: ১. সৃষ্টিকুলের যা কিছু আসমান ও যমীনে রয়েছে তারা সবাই আল্লাহকে সর্ব প্রকার ত্রæটি ও বেমানান বস্তু থেকে মুক্ত ও পবিত্র ঘোষণা করছে। তিনি একক বাদশাহ ও সর্ব প্রকার ত্রæটি থেকে পবিত্র। তিনি এমন প্রতাপশালী যাকে কেউ পরাস্ত করতে পারে না। তিনি তাঁর সৃষ্টি, বিধান ও ফায়সালায় প্রজ্ঞাবান।
هُوَ ٱلَّذِي بَعَثَ فِي ٱلۡأُمِّيِّـۧنَ رَسُولٗا مِّنۡهُمۡ يَتۡلُواْ عَلَيۡهِمۡ ءَايَٰتِهِۦ وَيُزَكِّيهِمۡ وَيُعَلِّمُهُمُ ٱلۡكِتَٰبَ وَٱلۡحِكۡمَةَ وَإِن كَانُواْ مِن قَبۡلُ لَفِي ضَلَٰلٖ مُّبِينٖ
অর্থ: তিনিই উম্মীদের তথা নিরক্ষর আরবদের মাঝে তাদের মধ্য থেকে একজন রাসূল পাঠিয়েছেন, যে তাদের কাছে তিলাওয়াত করে তাঁর আয়াতসমূহ, তাদেরকে (১) (কুফরী ও মন্দ চরিত্র থেকে) পবিত্র করে এবং তাদেরকে শিক্ষা দেয় কিতাব ও হিকমাত (কুরআন ও সুন্নাহ)। যদিও ইতঃপূর্বে তারা স্পষ্ট গোমরাহীতে নিমজ্জিত ছিল।
তাফসীর: ২. তিনি সে সব আরবীর নিকট তাদের মধ্যকার একজন রাসূল প্রেরণ করেন যারা পড়তে ও লিখতে জানে না। তিনি তাদের সামনে তাঁর উপর প্রেরিত আয়াতগুলো পাঠ করেন এবং তাদেরকে কুফরী ও মন্দ চরিত্র থেকে পরিচ্ছন্ন করেন। উপরন্তু তিনি তাদেরকে কুরআন ও সুন্নাহর জ্ঞান শিক্ষা দেন। যদিও বা তারা ইতিপূর্বে হক থেকে সুস্পষ্ট ভ্রান্তির মধ্যে নিমজ্জিত ছিলো। যেহেতু তারা মূর্তি পূজা করতো, অন্যের রক্ত প্রবাহিত করতো ও জ্ঞাতি-বন্ধন ছিন্ন করতো।
(১) কুফরী ও মন্দ চরিত্র থেকে।
وَءَاخَرِينَ مِنۡهُمۡ لَمَّا يَلۡحَقُواْ بِهِمۡۚ وَهُوَ ٱلۡعَزِيزُ ٱلۡحَكِيمُ
অর্থ: আর (তিনি এ রাসূলকে পাঠিয়েছেন) তাদের মধ্যকার অন্যান্যদের কাছেও, যারা এখনো তাদের সঙ্গে মিলিত হয়নি। আর তিনি পরাক্রমশালী, প্রজ্ঞাময়।
তাফসীর: ৩. তিনি এ রাসূলকে পরবর্তীতে আগত আরব-অনারব সহ অন্যান্য জাতির নিকটও প্রেরণ করেছেন। তিনি এমন পরাক্রমশালী যাঁকে কেউ পরাস্ত করতে পারে না। তিনি তাঁর সৃষ্টি, বিধান ও ফায়সালায় প্রজ্ঞাবান।
ذَٰلِكَ فَضۡلُ ٱللَّهِ يُؤۡتِيهِ مَن يَشَآءُۚ وَٱللَّهُ ذُو ٱلۡفَضۡلِ ٱلۡعَظِيمِ
অর্থ: এটা (সকলের প্রতি রাসূল প্রেরণ) আল্লাহর অনুগ্রহ, যাকে ইচ্ছা তিনি তা দান করেন। আর আল্লাহ মহা অনুগ্রহের অধিকারী।
তাফসীর: ৪. উপরোল্লিখিত বিষয় যা হলো রাসূলকে আরব-অনারব সবার নিকট প্রেরণ করা এটি মূলতঃ আল্লাহর অনুগ্রহ। তিনি যাকে ইচ্ছা তা প্রদান করেন। বস্তুতঃ আল্লাহ মহা অনুগ্রহশীল। তাঁর এ মহা অনুগ্রহের মধ্যে রয়েছে এ উম্মতের রাসূলকে গোটা মানব জাতির নিকট প্রেরণ করা।
مَثَلُ ٱلَّذِينَ حُمِّلُواْ ٱلتَّوۡرَىٰةَ ثُمَّ لَمۡ يَحۡمِلُوهَا كَمَثَلِ ٱلۡحِمَارِ يَحۡمِلُ أَسۡفَارَۢاۚ بِئۡسَ مَثَلُ ٱلۡقَوۡمِ ٱلَّذِينَ كَذَّبُواْ بِـَٔايَٰتِ ٱللَّهِۚ وَٱللَّهُ لَا يَهۡدِي ٱلۡقَوۡمَ ٱلظَّٰلِمِينَ
অর্থ: যাদেরকে তাওরাতের দায়িত্বভার দেয়া হয়েছিল, কিন্তু তারা তা বহন করেনি, তারা গাধার মতো! যে বহু কিতাবের বোঝা বহন করে। সে সম্প্রদায়ের উপমা কতইনা নিকৃষ্ট, যারা আল্লাহর আয়াতসমূহকে অস্বীকার করে। আর আল্লাহ যালিম সম্প্রদায়কে হিদায়াত করেন না।
তাফসীর: ৫. যে সব ইহুদিকে তাওরাত মানতে বাধ্য করার পর তারা তা প্রত্যাখ্যান করেছে তাদের উদাহরণ হলো ওই গাধার ন্যায় যে বড় বড় কিতাবাদি বহন করে। অথচ তার উপর কী চাপানো হয়েছে সে সেই ব্যাপারে কিছুই জানে না। এটি কি কিতাবাদি, না অন্য কিছু? যে জাতি আল্লাহর আয়াতগুলো অস্বীকার করে তার দৃষ্টান্ত অতি নিকৃষ্ট। বস্তুতঃ আল্লাহ জালিম সম্প্রদায়কে হকের পথ দেখান না।
قُلۡ يَٰٓأَيُّهَا ٱلَّذِينَ هَادُوٓاْ إِن زَعَمۡتُمۡ أَنَّكُمۡ أَوۡلِيَآءُ لِلَّهِ مِن دُونِ ٱلنَّاسِ فَتَمَنَّوُاْ ٱلۡمَوۡتَ إِن كُنتُمۡ صَٰدِقِينَ
অর্থ: হে রাসূল! বলো: হে ইয়াহূদীরা! যদি তোমরা মনে কর যে, তোমরাই আল্লাহর বন্ধু, অন্য লোকেরা নয়, তাহলে তোমরা মৃত্যু কামনা করো, যদি তোমরা (এ দাবিতে) সত্যবাদী হও।
তাফসীর: ৬. হে রাসূল! আপনি বলুন, হে তোমরা যারা তাওরাত বিকৃত হওয়ার পরও ইহুদি ধর্মের উপর অটল রয়েছো তোমরা যদি ধারণা করো যে, তোমরা অন্য লোকদের তুলনায় আল্লাহর বিশেষ আপন কেউ তাহলে তোমরা মৃত্যু কামনা করো। যাতে তোমাদের ধারণা অনুযায়ী তোমাদের উদ্দেশ্যে সম্মাননার বিশেষিত বিষয় তরান্বিত করা হয়। যদি তোমরা এ দাবিতে সত্যবাদী হয়ে থাকো যে, তোমরা অন্যদের তুলনায় আল্লাহর একান্ত আপন।
وَلَا يَتَمَنَّوۡنَهُۥٓ أَبَدَۢا بِمَا قَدَّمَتۡ أَيۡدِيهِمۡۚ وَٱللَّهُ عَلِيمُۢ بِٱلظَّٰلِمِينَ
অর্থ: আর তারা তাদের হাত যা আগে পাঠিয়েছে সে কারণে কখনো মৃত্যু কামনা করবে না। আর আল্লাহ এসব যালিমদের সম্পর্কে সম্যক অবহিত।
তাফসীর: ৭. বস্তুতঃ তারা আদৗ মৃত্যু কামনা করবে না। বরং তারা নিজেদের কৃত পাপ, কুফরী, জুলুম এবং তাওরাতকে বিকৃত ও পরিবর্তন করার কারণে দুনিয়াতে চিরস্থায়ীভাবে থাকা কামনা করবে। বস্তুতঃ আল্লাহ জালিমদের ব্যাপারে সম্যক অবগত। তাঁর নিকট তাদের কোন আমলই গোপন থাকে না এবং তিনি এর উপর তাদেরকে প্রতিদান দিবেন।
قُلۡ إِنَّ ٱلۡمَوۡتَ ٱلَّذِي تَفِرُّونَ مِنۡهُ فَإِنَّهُۥ مُلَٰقِيكُمۡۖ ثُمَّ تُرَدُّونَ إِلَىٰ عَٰلِمِ ٱلۡغَيۡبِ وَٱلشَّهَٰدَةِ فَيُنَبِّئُكُم بِمَا كُنتُمۡ تَعۡمَلُونَ
অর্থ: হে রাসূল! তুমি (এ সব ইয়াহূদীদেরকে) বলো: ‘যে মৃত্যু হতে তোমরা পলায়ন করছ, তা অবশ্যই তোমাদের সাথে সাক্ষাৎ করবে। তারপর তোমাদেরকে অদৃশ্য ও দৃশ্য সম্পর্কে পরিজ্ঞাত আল্লাহর কাছে ফিরিয়ে নেয়া হবে। অতঃপর তিনি তোমাদেরকে (দুনিয়াতে) তোমরা যা আমল করতে সে সম্পর্কে জানিয়ে দিবেন।’
তাফসীর: ৮. হে রাসূল! আপনি এ সব ইহুদিদেরকে বলে দিন, তোমরা যে মৃত্যু থেকে পালিয়ে বেড়াও তা অবশ্যই তোমাদেরকে তাৎক্ষণিক কিংবা বিলম্বে পাবেই। অতঃপর তোমরা উপস্থিত-অনুপস্থিত সবজান্তা আল্লাহর দিকে প্রত্যাবর্তিত হবে। তাঁর নিকট এতদুভয়ের কোন কিছুই গোপন থাকে না। অতঃপর তিনি তোদেরকে দুনিয়ার কর্মকাÐ সম্পর্কে সংবাদ ও এর প্রতিদান দিবেন।
يَٰٓأَيُّهَا ٱلَّذِينَ ءَامَنُوٓاْ إِذَا نُودِيَ لِلصَّلَوٰةِ مِن يَوۡمِ ٱلۡجُمُعَةِ فَٱسۡعَوۡاْ إِلَىٰ ذِكۡرِ ٱللَّهِ وَذَرُواْ ٱلۡبَيۡعَۚ ذَٰلِكُمۡ خَيۡرٞ لَّكُمۡ إِن كُنتُمۡ تَعۡلَمُونَ
অর্থ: হে মুমিনগণ! যখন জুমু‘আর দিনে সালাতের জন্য আহ্বান করা হয়, তখন তোমরা আল্লাহর স্মরণের (সালাতের) দিকে ধাবিত হও। আর বেচা-কেনা বর্জন কর। এটাই তোমাদের জন্য সর্বোত্তম, যদি তোমরা জানতে।
তাফসীর: ৯. হে মুমিন সম্প্রদায়! তোমরা যারা আল্লাহর উপর ঈমান এনেছো এবং তাঁর প্রবর্তিত বিধান অনুযায়ী আমল করে থাকো জুমআর দিন ইমাম মিম্বরে আরোহণ করার পর যখন আযান দেয়া হয় তখন তোমরা খুৎবা ও নামাযের উদ্দেশ্যে মসজিদের দিকে তাড়াতাড়ি যাও এবং বিক্রয় বন্ধ করো। যেন তা তোমাদেরকে আনুগত্য থেকে বারণ করতে না পারে। জুমআর নামাযের দিকে তাড়াতাড়ি যাওয়া ও বিক্রয় বন্ধ করার এ নির্দেশ তোমাদের জন্য অতি উত্তম যদি তোমরা তা জানতে। অতএব, তোমরা নির্দেশিত বিষয়ের আনুগত্য করো।
فَإِذَا قُضِيَتِ ٱلصَّلَوٰةُ فَٱنتَشِرُواْ فِي ٱلۡأَرۡضِ وَٱبۡتَغُواْ مِن فَضۡلِ ٱللَّهِ وَٱذۡكُرُواْ ٱللَّهَ كَثِيرٗا لَّعَلَّكُمۡ تُفۡلِحُونَ
অর্থ: অতঃপর যখন (জুমু‘আর) সালাত সম্পন্ন হবে তখন তোমরা (২) পৃথিবীতে ছড়িয়ে পড়ো এবং (৩) আল্লাহর অনুগ্রহ অন্বেষণ করো। আর আল্লাহকে বেশি বেশি স্মরণ করো, যাতে তোমরা সফলকাম হতে পারো।
তাফসীর: ১০. অতঃপর যখন জুমুআর নামায সুসম্পন্ন হবে তখন তোমরা হালাল জীবিকা ও তোমাদের প্রয়োজন মিটানোর উদ্দেশ্যে যমীনে ছড়িয়ে পড়ো এবং তোমরা হালাল উপার্জন ও হালাল লাভের মাধ্যমে আল্লাহর অনুগ্রহ অন্বেষণ করো। তোমরা জীবিকা অন্বেষণের সময় আল্লাহকে বেশী বেশী স্মরণ করো। তোমাদেরকে জীবিকার আন্বেষণ যেন আল্লাহর স্মরণ থেকে উদাসীন না করে। যাতে তোমরা নিজেদের পছন্দের বস্তু লাভ করতে পারো এবং অপছন্দের বস্তু থেকে রক্ষা পেতে পারো।
(২) জীবিকা ও প্রয়োজন পূরণের জন্যে। (৩) হালাল উপার্জনের মাধ্যমে।
অনুবাদ: রুওয়াদ অনুবাদ সেন্টার। তাফসীর: তাফসীর সেন্টার ফর কুরআনিক স্টাডিজ। উৎস QuranEnc.