সিরাতুল মুস্তাকিম অ্যাপ ডাউনলোড করুনGoogle Play
وَٱلصَّٰٓفَّٰتِ صَفّٗا
অর্থ: শপথ সেই ফিরিশতাদের, যারা সারিবদ্ধভাবে দাঁড়িয়ে থাকে।
তাফসীর: ১. তিনি তাঁর ফিরিশতাদের নামে শপথ করলেন। যাঁরা তাঁদের এবাদতে পরস্পর মিলিতভাবে সারিবদ্ধ হয়ে দাঁড়ান।
فَٱلزَّٰجِرَٰتِ زَجۡرٗا
অর্থ: অতঃপর শপথ সেই ফিরিশতাদের, যারা (আল্লাহর আদেশে মেঘমালাকে) প্রবলভাবে তাড়িত করে।
তাফসীর: ২. তিনি আরো শপথ করেছেন ওই সকল ফিরিশতার নামে যাঁরা আল্লাহর কালাম পাঠ করেন।
فَٱلتَّٰلِيَٰتِ ذِكۡرًا
অর্থ: অতঃপর শপথ সেই ফিরিশতাদের, যারা উপদেশবাণী (আল কুরআন) তিলাওয়াত করে।
তাফসীর: ৩. তিনি আরো শপথ করলেন ওই সব ফিরিশতাদের নামে যাঁরা মেঘমালাকে হাঁকিয়ে ওই স্থানে চালিয়ে নিয়ে যান যেখানে আল্লাহ পানি বর্ষাতে ইচ্ছা করেন।
إِنَّ إِلَٰهَكُمۡ لَوَٰحِدٞ
অর্থ: নিশ্চয়ই তোমাদের ইলাহ (উপাস্য) অবশ্যই এক।
তাফসীর: ৪. হে লোক সকল তোমাদের মাবূদ নিঃসন্দেহে একজনই। তাঁর কোন শরীক নেই। আর তিনি হলেন আল্লাহ।
رَّبُّ ٱلسَّمَٰوَٰتِ وَٱلۡأَرۡضِ وَمَا بَيۡنَهُمَا وَرَبُّ ٱلۡمَشَٰرِقِ
অর্থ: তিনি আসমানসমূহ, জমিন ও এ দু’য়ের মধ্যে যা আছে তার রব এবং উদয়স্থলসমূহেরও রব।
তাফসীর: ৫. তিনি আসমান, যমীন ও এতদুভয়েরসব কিছুর প্রতিপালক। তিনি বছর ব্যাপী সূর্যের উদয়াচল ও অস্তাচলের প্রতিপালক।
إِنَّا زَيَّنَّا ٱلسَّمَآءَ ٱلدُّنۡيَا بِزِينَةٍ ٱلۡكَوَاكِبِ
অর্থ: নিশ্চয় আমি (জমিনের) নিকটবর্তী আসমানকে নক্ষত্ররাজির সৌন্দর্যের দ্বারা সুশোভিত করেছি।
তাফসীর: ৬. আমি যমীনের নিকটবর্তী আসমানকে সুন্দর অলঙ্কার তথা এমন নক্ষত্ররাজি দ্বারা সাজিয়েছি যা দেখতে চমকপ্রদ মাণিক্য স্বরূপ।
وَحِفۡظٗا مِّن كُلِّ شَيۡطَٰنٖ مَّارِدٖ
অর্থ: আর আমি ( আসমানকে) প্রত্যেক বিদ্রোহী শয়তান থেকে (৩৭)হিফাযত করেছি।
তাফসীর: ৭. আর আমি দুনিয়ার আসমানকে সকল আনুগত্যের সীমা লঙ্ঘনকারী অবাধ্য শয়ত্বান থেকে তারকারাজির নিক্ষেপণের মাধ্যমে হেফাজত করেছি।
(৩৭) তারকারাজির নিক্ষেপণের মাধ্যমে।
لَّا يَسَّمَّعُونَ إِلَى ٱلۡمَلَإِ ٱلۡأَعۡلَىٰ وَيُقۡذَفُونَ مِن كُلِّ جَانِبٖ
অর্থ: ফলে তারা ঊর্ধ্বজগতের প্রত্যাদেশের কিছু শুনতে পারে না। আর তাদের প্রতি সব দিক থেকে নিক্ষেপ করা হয় (উল্কাপিণ্ড)।
তাফসীর: ৮. এসব শয়তানরা আসমানে ফিরিশতাদের উপর তাঁদের প্রতিপালক দ্বীন কিংবা দুনিয়াবী বিষয়ে যে সব প্রত্যাদেশ অবগত করেন তা শুনতে পায় না। বরং তাদেরকে সব দিক থেকে স্ফুলিঙ্গ দ্বারা আঘাত করা হয়।
دُحُورٗاۖ وَلَهُمۡ عَذَابٞ وَاصِبٌ
অর্থ: তাদেরকে বিতাড়িত করার জন্য। আর তাদের জন্য রয়েছে (পরকালের) অব্যাহত শাস্তি।
তাফসীর: ৯. তাদেরকে বিতাড়িত করণ ও শ্রবণ থেকে দূরে সরানোর নিমিত্তে। আর তাদের জন্য রয়েছে পরকালের কষ্টদায়ক, অবিচ্ছিন্ন ও স্থায়ী শাস্তি।
إِلَّا مَنۡ خَطِفَ ٱلۡخَطۡفَةَ فَأَتۡبَعَهُۥ شِهَابٞ ثَاقِبٞ
অর্থ: তবে কেউ (শয়তান) গোপনে হঠাৎ কিছু শুনে ফেললে , তাকে পিছু তাড়া করে জ্বলন্ত উল্কাপিণ্ড।
তাফসীর: ১০. তবে যে শয়তান কেড়ে নিয়ে কিছু কথা শ্রবণ করে ফেলে তার কথা ব্যতিক্রম। আর এটি হচ্ছে সেই কথা যা যমীনবাসীর নিকট পৌঁছার পূর্বে ফিরিশতাগণ পরস্পর বলাবলি করেন এবং তখনই তাকে চমকপ্রদ তারকা আঘাত হেনে জ্বালিয়ে ফেলে। কখনও তাকে অগ্নিস্ফুলিঙ্গ পোড়ানোর পূর্বে সে উক্ত কথাটি তার জ্যোতিষী বন্ধুদের নিকট পৌঁছিয়ে দেয়। ফলে তারা এর সাথে শত মিথ্যা যুক্ত করে।
অনুবাদ: রুওয়াদ অনুবাদ সেন্টার। তাফসীর: তাফসীর সেন্টার ফর কুরআনিক স্টাডিজ। উৎস QuranEnc.