সিরাতুল মুস্তাকিম অ্যাপ ডাউনলোড করুনGoogle Play
يَٰٓأَيُّهَا ٱلنَّاسُ ٱتَّقُواْ رَبَّكُمُ ٱلَّذِي خَلَقَكُم مِّن نَّفۡسٖ وَٰحِدَةٖ وَخَلَقَ مِنۡهَا زَوۡجَهَا وَبَثَّ مِنۡهُمَا رِجَالٗا كَثِيرٗا وَنِسَآءٗۚ وَٱتَّقُواْ ٱللَّهَ ٱلَّذِي تَسَآءَلُونَ بِهِۦ وَٱلۡأَرۡحَامَۚ إِنَّ ٱللَّهَ كَانَ عَلَيۡكُمۡ رَقِيبٗا
অর্থ: হে মানুষেরা! তোমরা তোমাদের রবকে ভয় করো, যিনি তোমাদেরকে এক ব্যক্তি (আদম) থেকে সৃষ্টি করেছেন ও তার থেকেই তার স্ত্রী (হাওয়া)কে সৃষ্টি করেছেন এবং তাদের দুজন থেকে অসংখ্য নর-নারী (সৃষ্টি করে পৃথিবীতে) ছড়িয়ে দিয়েছেন। আর তোমরা আল্লাহর তাকওয়া অবলম্বন করো যাঁর দোহাই দিয়ে তোমরা একে অপরের কাছে নিজ নিজ অধিকার দাবী করো এবং আত্মীয়তার বন্ধন ছিন্ন করা থেকে দূরে থাকো। নিশ্চয় আল্লাহ তোমাদের উপর পর্যবেক্ষক।
তাফসীর: ১. হে মানবজাতি! তোমরা নিজেদের প্রভুকে ভয় করো। কারণ, তিনিই তো তোমাদেরকে এক আত্মা তথা তোমাদের পিতা আদম থেকে সৃষ্টি করেছেন। এমনকি তিনি আদম থেকে তার স্ত্রী তথা তোমাদের মা হাওয়াকেও সৃষ্টি করেছেন। উপরন্তু তিনি তাদের উভয় থেকে দুনিয়ার আনাচে-কানাচে প্রচুর মানুষ তথা পুরুষ ও মহিলাকে ছড়িয়ে দিয়েছেন। আর তোমরা সেই আল্লাহকে ভয় করো যাঁর মাধ্যমে তোমরা একে অপরের নিকট এভাবে চাও যে, আমি আল্লাহর দোহাই দিয়ে তোমার নিকট এ কামনা করছি যে, তুমি এমন এমন করবে। তেমনিভাবে তোমরা নিজেদের মধ্যকার আত্মীয়তার বন্ধন ছিন্ন করা থেকে দূরে থাকো। নিশ্চয়ই আল্লাহ তা‘আলা তোমাদের একান্ত পর্যবেক্ষক। তাই তোমাদের কোন আমলই তাঁর অলক্ষ্যে নেই। বরং তিনি তা সবই হিসাব করছেন। যার ভিত্তিতেই তিনি তোমাদেরকে প্রতিদান দিবেন।
وَءَاتُواْ ٱلۡيَتَٰمَىٰٓ أَمۡوَٰلَهُمۡۖ وَلَا تَتَبَدَّلُواْ ٱلۡخَبِيثَ بِٱلطَّيِّبِۖ وَلَا تَأۡكُلُوٓاْ أَمۡوَٰلَهُمۡ إِلَىٰٓ أَمۡوَٰلِكُمۡۚ إِنَّهُۥ كَانَ حُوبٗا كَبِيرٗا
অর্থ: আর তোমরা ইয়াতীমদেরকে তাদের ধন-সম্পদ দিয়ে দাও এবং ভালো সম্পদের সাথে খারাপ সম্পদ বদল করো না। আর তোমরা তোমাদের সম্পদের সাথে তাদের সম্পদ মিশিয়ে গ্রাস করো না; নিশ্চয় এটা মহাপাপ।
তাফসীর: ২. হে ওসিয়তকারীরা! পিতৃহারা এতিমরা বালেগ ও বুদ্ধিমান হলে তোমরা তাদের সম্পদগুলো পুরোপুরিভাবে দিয়ে দাও। আর তোমরা হারামকে হালালের বিপরীতে গ্রহণ করো না। তোমরা এতিমদের উত্তম সম্পদগুলো গ্রহণ করে তাদেরকে এর বিপরীতে নি¤œ মানের খারাপ সম্পদগুলো দিবে না। আর তাদের সম্পদগুলো নিজেদের সম্পদের সাথে মিলিয়ে তা গ্রাস করবে না। কেননা, এটি আল্লাহর নিকট একটি মহাপাপ।
وَإِنۡ خِفۡتُمۡ أَلَّا تُقۡسِطُواْ فِي ٱلۡيَتَٰمَىٰ فَٱنكِحُواْ مَا طَابَ لَكُم مِّنَ ٱلنِّسَآءِ مَثۡنَىٰ وَثُلَٰثَ وَرُبَٰعَۖ فَإِنۡ خِفۡتُمۡ أَلَّا تَعۡدِلُواْ فَوَٰحِدَةً أَوۡ مَا مَلَكَتۡ أَيۡمَٰنُكُمۡۚ ذَٰلِكَ أَدۡنَىٰٓ أَلَّا تَعُولُواْ
অর্থ: আর যদি তোমরা আশঙ্কা করো যে, ইয়াতীম মেয়েদের ব্যাপারে ইনসাফ করতে পারবে না, তাহলে তোমরা বিয়ে করো নারীদের মধ্যে যাকে তোমাদের ভালো লাগে; দু’টি, তিনটি অথবা চারটি। আর যদি আশঙ্কা করো যে সুবিচার করতে পারবে না, তবে একটি বিবাহ করো অথবা তোমাদের অধিকারভুক্ত দাসীকেই গ্রহণ করো। এটা অধিকতর নিকটবর্তী যে, তোমরা যুলম করবে না।
তাফসীর: ৩. তোমরা যদি নিজেদের অধীনস্থ এতীম মেয়েদেরকে বিবাহ করলে তাদের উপর যুলুম বা বেইনসাফির ভয় করো চাই তা তাদেরকে তাদের উপযুক্ত মোহরানা না দিয়ে হোক কিংবা তাদের সাথে দুর্ব্যবহার করে তাহলে তোমরা তাদেরকে পরিত্যাগ করে অন্যান্য পবিত্রা মেয়েদেরকে বিবাহ করো। চাইলে তোমরা এদের থেকে দু’টি, তিনটি কিংবা চারটি বিবাহ করতে পারো। বেইনসাফির ভয় হলে একটি বিবাহ করাই যথেষ্ট অথবা নিজেদের অধীনস্থ বাঁদীদের ব্যবহার করো। কারণ, তাদের সেই অধিকার নেই যা নিজ স্ত্রীদের জন্য রয়েছে। উক্ত আয়াতে এতীমদের সম্পর্কে, শুধু একটি বিবাহ করা অথবা বাঁদীদেরকে ব্যবহার করা সম্পর্কে যা বলা হয়েছে তা যুলুম না করা ও সত্যভ্রষ্ট না হওয়ার নিকটবর্তী।
وَءَاتُواْ ٱلنِّسَآءَ صَدُقَٰتِهِنَّ نِحۡلَةٗۚ فَإِن طِبۡنَ لَكُمۡ عَن شَيۡءٖ مِّنۡهُ نَفۡسٗا فَكُلُوهُ هَنِيٓـٔٗا مَّرِيٓـٔٗا
অর্থ: আর তোমরা স্ত্রীদেরকে সন্তুষ্টচিত্তে তাদের মোহর দিয়ে দাও। তবে তারা যদি নিজেরাই সন্তুষ্টচিত্তে কিছু অংশ ছাড় দেয় তাহলে তোমরা তা সানন্দে তৃপ্তিসহকারে খাও।
তাফসীর: ৪. আর তোমরা বাধ্যতামূলকভাবে মহিলাদেরকে মোহরানা দিয়ে বিয়ে করবে। বিনা চাপে তারা তোমাদেরকে স্বেচ্ছায় মহরের কিয়দংশ ছেড়ে দিলে তোমরা তা বিনা দ্বিধায় আনন্দ চিত্তে খেতে পারো।
وَلَا تُؤۡتُواْ ٱلسُّفَهَآءَ أَمۡوَٰلَكُمُ ٱلَّتِي جَعَلَ ٱللَّهُ لَكُمۡ قِيَٰمٗا وَٱرۡزُقُوهُمۡ فِيهَا وَٱكۡسُوهُمۡ وَقُولُواْ لَهُمۡ قَوۡلٗا مَّعۡرُوفٗا
অর্থ: আর তোমরা নির্বোধদের(১) হাতে তোমাদের ধন-সম্পদ ছেড়ে দিও না; যা দ্বারা আল্লাহ তোমাদের জীবন চালানোর ব্যবস্থা করেছেন এবং তা থেকে তাদেরকে খাবার ও ভরণ-পোষণের ব্যবস্থা করো। আর তোমরা তাদের সাথে উত্তম কথা বলো(২)।
তাফসীর: ৫. হে অভিভাবকরা! সম্পদের সুন্দর ব্যবহার জানেনা এমন লোকদের হাতে সম্পদ উঠিয়ে দিয়ো না। কারণ, আল্লাহ তা‘আলা এ সম্পদগুলোকে জীবন ধারণ ও মানুষের বহুমুখী সুবিধাদির মাধ্যম বানিয়েছেন। আর এরা এ সম্পদগুলো নির্বাহ এবং সংরক্ষণের উপযুক্ত নয়। তবে তোমরা তা থেকে তাদের খাদ্য ও পোশাক-পরিচ্ছদের ব্যবস্থা করো। আর তাদের সাথে সুন্দর কথা বলো। উপরন্তু তোমরা তাদের সাথে এ সুন্দর ওয়াদা করো যে, তারা বুঝমান ও সম্পদের সুন্দর ব্যবহার জানলে তাদের সম্পদ তাদেরকেই ফিরিয়ে দিবে।
(১) অল্প বুদ্ধির অপ্রাপ্ত, অনভিজ্ঞ ছেলে-মেয়ে ও স্ত্রীলোকদের হাতে ধন-সম্পদের দায়-দায়িত্ব তুলে দিওনা। (২) তাদেরকে সুন্দর প্রতিশ্রুতি দাও যে, তারা বিবেকবান হলে ও সম্পদের সুব্যবহার জানলে তাদের সম্পদ তাদেরকেই ফিরিয়ে দিবে।
وَٱبۡتَلُواْ ٱلۡيَتَٰمَىٰ حَتَّىٰٓ إِذَا بَلَغُواْ ٱلنِّكَاحَ فَإِنۡ ءَانَسۡتُم مِّنۡهُمۡ رُشۡدٗا فَٱدۡفَعُوٓاْ إِلَيۡهِمۡ أَمۡوَٰلَهُمۡۖ وَلَا تَأۡكُلُوهَآ إِسۡرَافٗا وَبِدَارًا أَن يَكۡبَرُواْۚ وَمَن كَانَ غَنِيّٗا فَلۡيَسۡتَعۡفِفۡۖ وَمَن كَانَ فَقِيرٗا فَلۡيَأۡكُلۡ بِٱلۡمَعۡرُوفِۚ فَإِذَا دَفَعۡتُمۡ إِلَيۡهِمۡ أَمۡوَٰلَهُمۡ فَأَشۡهِدُواْ عَلَيۡهِمۡۚ وَكَفَىٰ بِٱللَّهِ حَسِيبٗا
অর্থ: আর ইয়াতিমদেরকে যাচাই-পরীক্ষা করতে থাকো; যে পর্যন্ত না তারা বিবাহযোগ্য (সাবালক) হয়(৩)। অতঃপর তাদের মধ্যে ভালো-মন্দ যাচাই করার যোগ্যতা দেখতে পেলে তাদের সম্পদ তাদেরকে ফিরিয়ে দাও। তারা বড় হয়ে (তাদের সম্পদ ফেরত নিবে এ ভয়ে) তাদের সম্পদ অপচয় করে তাড়াতাড়ি খেয়ে ফেলো না। যে সম্পদশালী সে যেন বিরত থাকে এবং যে অভাবী সে যেন সংগত পরিমাণে ভোগ করে। অতঃপর তোমরা যখন তাদেরকে তাদের সম্পদ হস্তান্তর করবে, তখন সাক্ষী রেখো। আর হিসেব গ্রহণে আল্লাহই যথেষ্ট।
তাফসীর: ৬. হে অভিভাবকরা! এতিমরা সাবালক হলে তোমরা তাদেরকে পরীক্ষা করো। তাদেরকে তাদের সামান্যটুকু সম্পদ ব্যয় করার সুযোগ দাও। যদি তারা তা থেকে সুন্দরভাবে তাসারুফ বা ব্যয় করে এবং তাতে তাদের সঠিক বুঝ সুস্পষ্ট হয় তাহলে কোন ধরনের কমতি ছাড়া তাদের পুরো সম্পদটুকুই দিয়ে দাও। প্রয়োজনে তাদের যে সম্পদ আল্লাহ তা‘আলা তোমাদের জন্য হালাল করেছেন সে সীমা অতিক্রম করে তোমরা তাদের সম্পদ খেয়ো না। তারা বড় হয়ে তাদের সম্পদ নিয়ে নিবে এ ভয়ে তোমরা তাদের সম্পদ দ্রæত খেয়ে ফেলো না। তোমাদের কারো নিকট চলার মতো যথেষ্ট সম্পদ থাকলে সে যেন এতীমের সম্পদ গ্রহণ না করে। তবে সম্পদহীন ফকির প্রয়োজন মাফিক গ্রহণ করবে। পক্ষান্তরে তারা সাবালক ও সুস্পষ্ট বুঝসম্পন্ন হওয়ার পর তাদের সম্পদগুলো তাদেরকে হস্তান্তর করার সময় কাউকে সাক্ষী রাখো। যাতে তাদের অধিকারসমূহ রক্ষা পায় এবং তাতে কোন ধরনের দ্ব›দ্ব সৃষ্টি না হয়। বস্তুতঃ এ ব্যাপারে আল্লাহ তা‘আলাই যথেষ্ট সাক্ষী। তিনি তাঁর বান্দাদের সকল কর্মকাÐের সঠিক হিসাব রক্ষক।
(৩) পরীক্ষাকালীন সময়ে তাদের সামান্য সম্পদ ব্যয় করার সুযোগ দাও এবং দেখো তারা কিভাবে তা ব্যয় করে।
لِّلرِّجَالِ نَصِيبٞ مِّمَّا تَرَكَ ٱلۡوَٰلِدَانِ وَٱلۡأَقۡرَبُونَ وَلِلنِّسَآءِ نَصِيبٞ مِّمَّا تَرَكَ ٱلۡوَٰلِدَانِ وَٱلۡأَقۡرَبُونَ مِمَّا قَلَّ مِنۡهُ أَوۡ كَثُرَۚ نَصِيبٗا مَّفۡرُوضٗا
অর্থ: পিতা-মাতা এবং নিকটাত্মীয়-স্বজনের পরিত্যক্ত সম্পত্তিতে পুরুষ ওয়ারিশদের অংশ আছে এবং পিতা-মাতা ও নিকটাত্মীয়-স্বজনের পরিত্যক্ত সম্পত্তিতে নারী ওয়ারিশদেরও অংশ আছে; সেটা অল্পই হোক কিংবা বেশি(৪) নির্ধারিত ও বিধিবদ্ধ।
তাফসীর: ৭. মাতা-পিতা ও নিকটাত্মীয় যেমন ভাই ও চাচারা তাদের মৃত্যুর পর কম-বেশি যে সম্পদটুকু রেখে যাবে তাতে পুরুষ ও মহিলা উভয়েরই অধিকার রয়েছে। জাহিলী যুগের মত নয়; যখন মহিলা ও বাচ্চাদেরকে মিরাস থেকে বঞ্চিত করা হতো। বস্তুতঃ এ অধিকারটুকু আল্লাহ তা‘আলার পক্ষ থেকে বাধ্যতামূলক ও সুস্পষ্ট পরিমিত।
(৪) এটি জাহিলী যুগের মত না হয় যেন, যেখানে মহিলা ও বাচ্চাদেরকে মিরাস থেকে বঞ্চিত করা হতো।
وَإِذَا حَضَرَ ٱلۡقِسۡمَةَ أُوْلُواْ ٱلۡقُرۡبَىٰ وَٱلۡيَتَٰمَىٰ وَٱلۡمَسَٰكِينُ فَٱرۡزُقُوهُم مِّنۡهُ وَقُولُواْ لَهُمۡ قَوۡلٗا مَّعۡرُوفٗا
অর্থ: আর সম্পত্তি বন্টনকালে আত্মীয়-স্বজন, ইয়াতীম এবং অভাবগ্রস্ত লোক উপস্থিত থাকলে তাদেরকে তা থেকে কিছু সম্পদ দিয়ে দাও এবং তাদের সাথে উত্তমভাবে কথা বলো।
তাফসীর: ৮. মিরাস বন্টনের সময় ফকির ও এতীম আর যে আত্মীয়রা মিরাস পায় না তারা উপস্থিত থাকলে সম্পদ বন্টনের আগেই তোমাদের ইচ্ছা মাফিক এমনিতেই তাদেরকে কিছু সম্পদ দিয়ে দাও। কারণ, তারা তা পাওয়ার জন্য লালায়িত। আর তোমরাও তা বিনা কষ্টে পেয়েছো। উপরন্তু তোমরা তাদের সাথে সুশ্রী সুন্দর কথা বলো।
وَلۡيَخۡشَ ٱلَّذِينَ لَوۡ تَرَكُواْ مِنۡ خَلۡفِهِمۡ ذُرِّيَّةٗ ضِعَٰفًا خَافُواْ عَلَيۡهِمۡ فَلۡيَتَّقُواْ ٱللَّهَ وَلۡيَقُولُواْ قَوۡلٗا سَدِيدًا
অর্থ: আর তারা যেন এ কথা ভেবে ভয় করে যে, তারাও যদি অসহায় সন্তান রেখে মারা যেতো, তবে (মৃত্যুর সময়) তারা কতো যে উদ্বিগ্ন হতো! কাজেই তারা যেন আল্লাহকে ভয় করে(১) এবং সংগত কথা বলে।
তাফসীর: ৯. যারা নিজেদের মৃত্যুর পর দুনিয়াতে রেখে যাওয়া বুদ্ধিতে অপরিপক্ক ছোট ছোট বাচ্চাদের নষ্ট হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা করে তারা যেন নিজেদের অধীনস্থ এতীমদের উপর যুলুম করার ব্যাপারে আল্লাহকে ভয় করে। যাতে আল্লাহ তা‘আলা তাদের মৃত্যুর পর তাদের সন্তানের জন্য এমন অভিভাবকের ব্যবস্থা করেন যারা তাদের সন্তানের প্রতি এমনভাবে দয়া করবে যেমনিভাবে তারা অন্যের সন্তানের প্রতি দয়া করেছে। যারা তার ওসিয়তের সময় উপস্থিত থাকে তারাও যেন ওদের সন্তানদের অধিকারের ব্যাপারে ভালো আচরণ করে। তারা যেন ওদের সাথে সত্য ও সঠিক কথা বলে। যাতে সে তার মৃত্যুর পর ওসিয়তের ক্ষেত্রে তার ওয়ারিশের অধিকারের উপর কোন ধরনের যুলুম না করে এবং সেও যেন ওসিয়ত না করে নিজকে কল্যাণ থেকে বঞ্চিত না করে।
(১) অর্থাৎ অধীনস্থ ইয়াতীমদের উপর যুলম করা ও মৃত্যুর সময় ওয়াসিয়াত করার ক্ষেত্রে ওয়ারিশদের অধিকারের ব্যাপারে আল্লাহকে ভয় করে।
إِنَّ ٱلَّذِينَ يَأۡكُلُونَ أَمۡوَٰلَ ٱلۡيَتَٰمَىٰ ظُلۡمًا إِنَّمَا يَأۡكُلُونَ فِي بُطُونِهِمۡ نَارٗاۖ وَسَيَصۡلَوۡنَ سَعِيرٗا
অর্থ: নিশ্চয় যারা ইয়াতীমদের সম্পদ অন্যায়ভাবে গ্রাস করে (৬), তারা তো আসলে তাদের পেটে আগুনই ভর্তি করছে। আর তারা অচিরেই জ্বলন্ত আগুনে জ্বলবে।
তাফসীর: ১০. যারা এতীমদের সম্পদ গ্রাস করে তাতে যুলুম ও অত্যাচারমূলক তাসারুফ করে তারা যেন নিজেদের পেটে জ্বলন্ত আগুন ঢুকায় যা কিয়ামতের দিন অচিরেই তাদেরকে পুড়িয়ে ফেলবে।
(১) তারা ইয়াতীমের সম্পদ যুলম ও সীমালঙ্ঘন করে ভক্ষণ করে।
অনুবাদ: রুওয়াদ অনুবাদ সেন্টার। তাফসীর: তাফসীর সেন্টার ফর কুরআনিক স্টাডিজ। উৎস QuranEnc.