সিরাতুল মুস্তাকিম অ্যাপ ডাউনলোড করুনGoogle Play
ٱلۡحَمۡدُ لِلَّهِ ٱلَّذِيٓ أَنزَلَ عَلَىٰ عَبۡدِهِ ٱلۡكِتَٰبَ وَلَمۡ يَجۡعَل لَّهُۥ عِوَجَاۜ
অর্থ: সব প্রশংসা আল্লাহরই, যিনি তাঁর বান্দা (মুহাম্মাদ) এর প্রতি কিতাব (কুরআন) নাযিল করেছেন এবং তাতে কোনো বক্রতা রাখেননি।
তাফসীর: ১. সকল পরিপূর্ণ ও মহিমান্বিত গুণাবলী এবং সকল প্রকাশ্য-অপ্রকাশ্য নিয়ামত কর্তৃক প্রশংসা কেবল আল্লাহর জন্য যিনি তাঁর বান্দা ও রাসূল মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এর উপর কুর‘আন নাযিল করেছেন। তিনি এ কুর‘আনে কোন ধরনের বক্রতা এবং সত্য থেকে সামান্যতম বিচ্যুতিরও সুযোগ রাখেননি।
قَيِّمٗا لِّيُنذِرَ بَأۡسٗا شَدِيدٗا مِّن لَّدُنۡهُ وَيُبَشِّرَ ٱلۡمُؤۡمِنِينَ ٱلَّذِينَ يَعۡمَلُونَ ٱلصَّٰلِحَٰتِ أَنَّ لَهُمۡ أَجۡرًا حَسَنٗا
অর্থ: (বরং এ কিতাবকে) সুদৃঢ় করেছেন, যাতে তিনি তাঁর পক্ষ থেকে কঠোর শাস্তি সম্পর্কে সতর্ক করতে পারেন এবং সেই মুমিনদের সুসংবাদ দিতে পারেন যারা সৎকর্ম করে যে, তাদের জন্য রয়েছে উত্তম প্রতিদান।
তাফসীর: ২. বরং তিনি সেটিকে করেছেন এমন সরল ও সঠিক যাতে কোন দ্ব›দ্ব ও সংঘর্ষ নেই। যাতে তিনি কাফিরদেরকে আল্লাহর পক্ষ থেকে এমন মর্মন্তুদ শাস্তির ভয় দেখাতে পারেন যা মূলতঃ তাদের জন্যই অপেক্ষা করছে এবং তিনি যেন নেক আমলকারী মু’মিনদেরকে এ সুসংবাদও দিতে পারেন যে, তাদের জন্য রয়েছে এমন উত্তম প্রতিদান যার তুলনা আর কোন প্রতিদানই হতে পারে না।
مَّٰكِثِينَ فِيهِ أَبَدٗا
অর্থ: তারা সেখানে (এই সাওয়াবের মধ্যে) চিরকাল বসবাস করবে।
তাফসীর: ৩. তারা এ প্রতিদানের মাঝে চিরকাল থাকবে। যা কখনোই তাদের হাতছাড়া হবে না।
وَيُنذِرَ ٱلَّذِينَ قَالُواْ ٱتَّخَذَ ٱللَّهُ وَلَدٗا
অর্থ: এবং যাতে তিনি তাদের সতর্ক করেন, যারা(১) বলে, ‘আল্লাহ সন্তান গ্রহণ করেছেন।
তাফসীর: ৪. তিনি এর মাধ্যমে আরো ভয় দেখাবেন ইহুদি ও খ্রিস্টান এবং এমন কিছু মুশরিকদেরকে যারা বলে: আল্লাহ তা‘আলা নিজের জন্য সন্তান গ্রহণ করেছেন।
(১) অর্থাৎ ইয়াহূদী ও খ্রিষ্টান এবং এমন কিছু মুশরিকদেরকে।
مَّا لَهُم بِهِۦ مِنۡ عِلۡمٖ وَلَا لِأٓبَآئِهِمۡۚ كَبُرَتۡ كَلِمَةٗ تَخۡرُجُ مِنۡ أَفۡوَٰهِهِمۡۚ إِن يَقُولُونَ إِلَّا كَذِبٗا
অর্থ: এ ব্যাপারে(২) তাদের কোনো জ্ঞান নেই এবং তাদের পিতৃপুরুষদেরও ছিল না। বড় মারাত্মক কথা, যা তাদের মুখ থেকে বের হয়! মিথ্যা ছাড়া তারা কিছুই বলে না।
তাফসীর: ৫. আল্লাহর সাথে সন্তানাদিকে সংশ্লিষ্ট করার দাবির ক্ষেত্রে এ অপবাদকারীদের কোন জ্ঞান বা দলীল নেই। না তাদের বাপ-দাদাদের এ ব্যাপারে কোন জ্ঞান রয়েছে যাদের তারা অনুসরণ করছে। প্রমাণবিহীন যে বাক্য তাদের মুখ থেকে বের হয় তা খুবই কুৎসিত। তারা এমন মিথ্যা কথাই বলছে যে, তার কোন ভিত্তি ও বুনিয়াদ নেই।
(২) অর্থাৎ আল্লাহর সাথে সন্তানাদিকে সংশ্লিষ্ট করার দাবির ক্ষেত্রে এ অপবাদকারীদের কোন জ্ঞান বা দলীল নেই।
فَلَعَلَّكَ بَٰخِعٞ نَّفۡسَكَ عَلَىٰٓ ءَاثَٰرِهِمۡ إِن لَّمۡ يُؤۡمِنُواْ بِهَٰذَا ٱلۡحَدِيثِ أَسَفًا
অর্থ: তারা যদি এ বাণীর(আল কুরআনের) প্রতি ঈমান না আনে, তবে মনে হয় তুমি তাদের পেছনে আফসোস করতে করতে নিজেকে প্রায় ধ্বংস করে ফেলবে।(৩)
তাফসীর: ৬. হে রাসূল! তারা যদি এ কুর‘আনের উপর ঈমান না আনে তাহলে আপনি মনে হয় চিন্তা ও আপসোস করে নিজকে নিজে ধ্বংস করে দিবেন। না আপনি তা করতে যাবেন না। কারণ, তাদের হিদায়েতের দায়িত্ব আপনার উপর নয়। আপনার দায়িত্ব হলো কেবল পৌঁছিয়ে দেয়া।
(৩) তাদেরকে সঠিক পথে নিয়ে আসা তোমার কাজ নয়, বরং তাদের নিকট দীনের বাণী পৌঁছে দেয়াই তোমার কাজ।
إِنَّا جَعَلۡنَا مَا عَلَى ٱلۡأَرۡضِ زِينَةٗ لَّهَا لِنَبۡلُوَهُمۡ أَيُّهُمۡ أَحۡسَنُ عَمَلٗا
অর্থ: নিশ্চয়ই আমি পৃথিবীর উপর যা কিছু আছে, তা তাকে শোভামণ্ডিত করার জন্য করেছি, যাতে আমি তাদের পরীক্ষা করি, তাদের মধ্যে কে আমলে সবচেয়ে উত্তম।
তাফসীর: ৭. আমি জমিনের উপরিভাগে যে মাখলুকাত সৃষ্টি করেছি তা কেবল দুনিয়ার সৌন্দর্যের জন্য। যাতে আমি তাদেরকে পরীক্ষা করতে পারি যে, কে আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য সুন্দর আমল করেছে আর কে খারাপ আমল। যাতে আমি প্রত্যেককে তার উপযুক্ত প্রতিদান দিতে পারি।
وَإِنَّا لَجَٰعِلُونَ مَا عَلَيۡهَا صَعِيدٗا جُرُزًا
অর্থ: আর তার (জমিনের) ওপর যা আছে, তা অবশ্যই আমি উদ্ভিদশূন্য শুষ্ক ময়দানে পরিণত করবো।
তাফসীর: ৮. আমি অবশ্যই ভ‚পৃষ্ঠের সকল সৃষ্টিকে বৃক্ষ-লতাহীন মাটিতে রূপান্তরিত করবো। আর তা হবে দুনিয়ার সকল সৃষ্টির জীবন শেষ হওয়ার পর। তাই তোমরা এ থেকে শিক্ষা গ্রহণ করো।
أَمۡ حَسِبۡتَ أَنَّ أَصۡحَٰبَ ٱلۡكَهۡفِ وَٱلرَّقِيمِ كَانُواْ مِنۡ ءَايَٰتِنَا عَجَبًا
অর্থ: (হে রাসূল!) তুমি কি মনে করো যে, গুহা ও রাকীমের(৪) অধিবাসীরা ছিল আমার নিদর্শনসমূহের মধ্যকার এক বিস্ময়?(৫)
তাফসীর: ৯. হে রাসূল! আপনি এ কথা মনে করবেন না যে, নিশ্চয়ই গুহাবাসীদের ঘটনা এবং তাদের সেই কাষ্ঠখÐ যাতে তাদের নামগুলো লেখা ছিলো তা আমার অতি বিষ্ময়কর নিদর্শন। বরং অন্যটি এর চেয়ে আরো বিষ্ময়কর। যেমন: আকাশ ও জমিন সৃষ্টি করা।
(৪) রাকীম হলো সেই কাষ্ঠখণ্ড যাতে আসহাবে কাহাফের নামগুলো সে সময়কার বাদশাহ লিপিবদ্ধ করে গুহার প্রবেশপথে বুলিয়ে রেখেছিল। (৫) অর্থাৎ কয়েকজন লোককে দু’তিনশো বছর পর্যন্ত ঘুম পাড়িয়ে রেখে তাদেরকে পূর্বাবস্থায় জীবিত করা আল্লাহর পক্ষে তেমন কোন বিস্ময়কর কাজ নয়; বরং এর চেয়েও আরো অনেক বিস্ময়কর কাজ রয়েছে, যেমন: আকাশ ও জমিন সৃষ্টি করা।
إِذۡ أَوَى ٱلۡفِتۡيَةُ إِلَى ٱلۡكَهۡفِ فَقَالُواْ رَبَّنَآ ءَاتِنَا مِن لَّدُنكَ رَحۡمَةٗ وَهَيِّئۡ لَنَا مِنۡ أَمۡرِنَا رَشَدٗا
অর্থ: যখন যুবকেরা গুহায় আশ্রয় নিল, তখন (তারা তাদের রবের কাছে দু‘আ করে) বললো: ‘হে আমাদের রব! আমাদেরকে আপনার পক্ষ থেকে রহমত দান করুন এবং আমাদের জন্য আমাদের কর্মকাণ্ড(৬) সঠিক করে দিন।’
তাফসীর: ১০. হে রাসূল! আপনি স্মরণ করুন সে সময়ের কথা যখন মু’মিন যুবকরা তাদের ধর্মকে নিয়ে পালিয়ে আশ্রয় গ্রহণ করলো। তারা নিজেদের প্রতিপালকের নিকট তাদের দু‘আয় বললো: হে আমাদের প্রতিপালক! আপনি আমাদেরকে নিজের পক্ষ থেকে দয়া করুন তথা আমাদের গুনাহগুলো মাফ করুন এবং আমাদেরকে নিজেদের শত্রæর কবল থেকে বাঁচান। উপরন্তু আপনি কাফিরদের কাছ থেকে আমাদের এ হিজরত ও ঈমানকে সত্য পথের হিদায়েত ও বাস্তবিকতায় রূপান্তরিত করুন।
(৬) অর্থাৎ কাফিরদের কাছ থেকে আমাদের এ হিজরত ও ঈমানকে সত্যপথের হিদায়াত হিসেবে গ্রহণ করুন।
অনুবাদ: রুওয়াদ অনুবাদ সেন্টার। তাফসীর: তাফসীর সেন্টার ফর কুরআনিক স্টাডিজ। উৎস QuranEnc.